১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ইপিআর নির্দেশিকা জারি: প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায় উৎপাদনকারীর

রপ্তানি আদেশের ভিত্তিতে পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানি এর বাইরে থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 Aug 2026, 05:08 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:52 PM

প্লাস্টিক দূষণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘উৎপাদনকারীর সম্প্রসারিত দায়িত্ব (ইপিআর) নির্দেশিকা ২০২৬’ বলবৎ করেছে সরকার।

এতে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায় উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর ঘাড়ে দিয়েছে সরকার; প্রতি বছর অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল না করলে নিবন্ধন নবায়ন না হওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এ নির্দেশিকা জারি করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘‘বাংলাদেশে উৎপাদিত বা ব্যবহৃত পুনঃচক্রায়নযোগ্য ও অ-পুনঃচক্রায়নযোগ্য সকল প্লাস্টিক পণ্য এবং তালিকাভুক্ত পণ্যের প্রস্তুতকারক, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকদের জন্য প্রযোজ্য হবে।

“রপ্তানি আদেশের ভিত্তিতে পণ্য উৎপাদনকারী রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানসমূহ এর আওতা-বহির্ভূত থাকবে।”

নির্দেশিকায় প্লাস্টিক পণ্যকে পাঁচ ভাগ করার কথা বলা হয়েছে। এগুলো হলো—কঠিন প্লাস্টিক, নমনীয় প্লাস্টিক, স্টাইরোফোম/ইপিএস, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ নয় এমন সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন, ডায়াপার, সিগারেট ফিল্টারের মতো অন্যান্য প্লাস্টিক।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে ধাপে ধাপে তালিকাভুক্ত করবে পরিবেশ অধিদপ্তর। প্রথম দুই বছর বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান, পরের দুই বছরে মাঝারি এবং পঞ্চম বছরে গিয়ে ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্ত করা হবে।

তালিকাভুক্তির ৬ মাসের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের মেয়াদ থাকবে তিন বছর।

কোম্পানিগুলোকে একক বা যৌথভাবে বর্জ্য সংগ্রহ, পুনঃচক্রায়ন ও পরিত্যাজনের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, তালিকাভুক্তির প্রথম দুই বছরে ন্যূনতম ১৫ শতাংশ বর্জ্য সংগ্রহ ও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ বর্জ্য পুনঃচক্রায়ন করতে হবে। পরের বছরগুলোতে ৩০ শতাংশ বর্জ্য সংগ্রহ ও ১৫ শতাংশ বর্জ্য পুনঃচক্রায়নের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত সংগৃহীত বর্জ্য সরকার-অনুমোদিত পদ্ধতিতে ‘প্লাস্টিক ক্রেডিট’ হিসেবে অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে বা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির সুযোগও রাখা হয়েছে।

এই নির্দেশিকা বাস্তবায়নের ফলে প্লাস্টিক উৎপাদনকারী, আমদানিকারক ও ব্র্যান্ড মালিকরা তাদের পণ্যের জীবনচক্র-পরবর্তী ব্যবস্থাপনায় সরাসরি দায়বদ্ধ হবেন, যা বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃচক্রায়ন অবকাঠামো সম্প্রসারণ, অ-প্রাতিষ্ঠানিক বর্জ্য সংগ্রাহক খাতের আনুষ্ঠানিকীকরণ এবং চক্রাকার অর্থনীতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করছে।

একই সঙ্গে এটি সামুদ্রিক প্লাস্টিক দূষণ কমানো ও প্লাস্টিক দূষণসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাংলাদেশের প্রয়াসকে আরও জোরদার করবে বলে সরকার আশা করছে।