Published : 11 May 2026, 11:39 PM
ছাদে সোলার প্যানেল বসালে হোল্ডিং ট্যাক্স কমানো আর না বসালে তা বাড়ানোর ভাবনার কথা জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
সোমবার ঢাকার রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক সেমিনারে তিনি বলেন, “তুমি যদি সোলার লাগাও তাহলে তোমার হোল্ডিং ট্যাক্স আমি কমায়ে দেব। আর সোলার না লাগাও, তাহলে তোমার হোল্ডিং ট্যাক্স তিন গুণ চার গুণ করে দেব।”
‘রোডম্যাপ টুয়ার্ডস ১০০০০ মেগাওয়াট সোলার পাওয়ার ২০৩০’ শিরোনামে হওয়া সেমিনারে কথা বলছিলেন বিদ্যুৎমন্ত্রী।
সৌরবিদ্যুৎ বাড়াতে জুনের মধ্যে ‘বিনিয়োগবান্ধব নীতি’ তুলে ধরার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “এটা আমাদের নীতি। আশা করি আগামী জুনের মধ্যে এটি আপনাদের সামনে তুলে ধরতে পারব। আর সেই নীতি হবে বিনিয়োগবান্ধব নীতি।”
সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতে অগ্রাধিকার দিয়েছে বলে মন্তব্য করেন ইকবাল হাসান টুকু।
সৌরবিদ্যুৎ বাড়াতে দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে কমিটি করার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “কত জলদি আর কীরকম ইনসেন্টিভ দিলে আমরা তাড়াতাড়ি সোলার এনার্জিতে যেতে পারি তা নির্ধারণে ওই কমিটি করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে সৌরবিদ্যুৎ থেকে পাঁচ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।
“আমরা যদি ১০০০ করে প্রতি বছরে করি, ৫০০০ মেগাওয়াট পসিবল।”
পাকিস্তানের উদাহরণ টেনে টুকু বলেন, “পাকিস্তানের মত একটা দেশ, সেই দেশ যদি ২০ হাজার মেগাওয়াটে যেতে পারে আমি, বাংলাদেশ পারবে না কেন? বাংলাদেশি মানুষ বড় হয় চ্যালেঞ্জ নিয়ে।”
সৌরবিদ্যুৎ বাড়াতে নীতি সহায়তার ওপর জোর দিয়ে টুকু বলেন, সোলার করতে হলে সরকারের নীতি সহায়তা দিতে হবে। নীতি সহায়তা ছাড়া কোনো কিছু হয় না। ফ্রেম ও ব্যাটারির ওপর কর ছাড়ের পক্ষেও যুক্তি দেন তিনি।
বিগত সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে আমদানিনির্ভর করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার পুরোপুরি আমদানি নির্ভর ব্যবস্থা তৈরি করে দিয়ে গেছে। এর অর্থই হচ্ছে যে এদেশের টাকা পাচার করে নিয়ে যাওয়া এবং সেটাই তারা করেছে।
বিদ্যুতে পিডিবির দায়ের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, “৫৬ হাজার কোটি টাকার দেনা তার মাথার উপরে। বিল শোধ করে নাই।”
ঢাকাকে কয়েকটি ব্লকে ভাগ করে বেসরকারি কোম্পানির মাধ্যমে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ বসানোর ধারণাও দেন তিনি।
রেলওয়ে, পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের মত সরকারি সংস্থার জমি ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প করার সম্ভাবনার কথাও বলেন টুকু।
তিনি বলেন, এসব জমি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজে লাগানো যেতে পারে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক মো. জিয়াউর রহমান খান।
সেমিনারে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বা আইইবির প্রেসিডেন্ট ও রাজউকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম রিজু, আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান মো. হেলাল উদ্দিন তালুকদার উপস্থিত ছিলেন।