১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

রিজার্ভ বাড়াতেই ডলার বাজারে ‘হস্তক্ষেপ’: বাংলাদেশ ব্যাংক

টাকার অবমূল্যায়নের চাপ না থাকার কথা বলা হলেও বাজার থেকে ৫ পয়সা বেশি দরে ডলার কেনা হয়েছে।

রিজার্ভ বাড়াতেই ডলার বাজারে ‘হস্তক্ষেপ’: বাংলাদেশ ব্যাংক
ডলার নোট ছবি: রয়টার্স

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 19 Apr 2026, 12:42 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:26 PM

দুই দিনে বাজার থেকে ১২ কোটি ডলার কেনার ব্যাখ্যায় বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বিদেশি দায় পরিশোধের চাপ না থাকায় এবং রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় রিজার্ভ বাড়াতে বিদেশি মুদ্রাবাজারে ‘হস্তক্ষেপ’ করা হয়।

গত বুধবার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে বেসরকারি ইসলামী ব্যাংক ৭ কোটি ডলার কেনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরের দিন একই দরে চার ব্যাংক থেকে আরও ৫ কোটি ডলার কেনা হয়।

দুই দিনই আন্তঃব্যাংকে ডলার কেনাবেচা হয় ১২২ টাকা ৭০ পয়সায়।

বাজার থেকে ৫ পয়সা বেশি ব্যবধানে ডলার কেনার কারণ কী?

এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সোমবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সরকারি বৈদেশিক পেমেন্টসহ অন্যান্য বেসরকারি পেমেন্ট- এর চাপ থাকায় বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কিছুদিন ধরে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ করেনি। 

“তবে সাম্প্রতিক সময়ে উক্ত পেমেন্টসমূহের চাপ কমে আসায় এবং রেমিটেন্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিদ্যমান অকশন পদ্ধতির মাধ্যমে হস্তক্ষেপ করে।”

এক প্রশ্নের জবাবে নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন বলেন, নিয়মমাফিক গত ১৫ এপ্রিল ব্যাংকসগুলোকে ৭ কোটি ডলার কেনার অকশন নোটিস পাঠানো হয়। 

“অকশনে ৪টি ব্যাংক বিড করে। বিডসমূহের মধ্যে কাট অব রেটের মধ্যে শুধু ইসলামী ব্যাংকের বিড থাকায় উক্ত ব্যাংক থেকে ৭০ মিলিয়ন ইউএসডি ক্রয় করা হয়।”

এর আগে গত ২ মার্চ ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেই হিসাবে দেড় মাসে প্রতি ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে ৪৫ পয়সা। 

বাংলাদেশ ব্যাংক এমন সময়ে বাজার থেকে ডলার কিনেছে, তার এক সপ্তাহ আগে গত ৮ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক বিবৃতিতে বলেছিল, আমদানি ও বৈদেশিক পরিশোধ পরিস্থিতি ‘স্বাভাবিক’।

ওই বিবৃতিতে দাবি করা হয়, “ডলার বাজারে মূল্যমানে কোনো চাপ নেই এবং ডলারের মূল্যমান স্বাভাবিক বাজার ব্যবস্থার মাধ্যমেই রক্ষিত হচ্ছে। সার্বিকভাবে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ ও চাহিদা বর্তমানে ভারসাম্যপূর্ণ রয়েছে। 

“রেমিটেন্স প্রবাহ শক্তিশালী, বাজারে আস্থা ও শৃঙ্খলা বিদ্যমান থাকার ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে টাকার বিনিময় হারে অবমূল্যায়নের কোনো চাপ নেই এবং বৈদেশিক মুদ্রা বাজার স্থিতিশীল রয়েছে।”

কিন্তু এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার কিনতে শুরু করায় দর হারায় টাকা। তার ব্যাখ্যায় রিজার্ভ বাড়ানোকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আরও পড়ুন-

দুই দিনে ১২ কোটি ডলার কিনল বাংলাদেশ ব্যাংক