Published : 22 Aug 2026, 09:24 PM
তিন দিন বন্ধ থাকার পর মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে আবার জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।
এতে শনিবার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে আমদানি করা গ্যাসের সরবরাহ ১০৬ মিলিয়ন ঘনফুট বেড়েছে।
রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিএল) কর্মকর্তারা বলছেন, আগের মজুত গ্যাস থেকেই এদিন এক্সিটারটরের টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিড গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়।
তবে এর আগে বলা হয়েছিল, এক্সিলারেটের টার্মিনালে সরবরাহযোগ্য এলএনজির মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় গত বুধবার দুপুরের পর সেখান থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস দেওয়া বন্ধ হয়।
এদিকে শনিবার দুপুরে নতুন একটি এলএনজি কার্গো ভিড়েছে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত এ টার্মিনালে। সন্ধ্যা পর্যন্ত সেখান থেকে এলএনজি খালাস শুরু হয়নি।
আরপিজিএলের কর্মকর্তারা বলছেন, রাত ১০টা থেকে গ্যাস খালাস শুরু হতে পারে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, এদিন দুপুর ১২টায় দুই ভাসমান টার্মিনাল থেকে এলএনজি সরবরাহ ছিল দৈনিক ৫৮১ মিলিয়ন ঘনফুট। সন্ধ্যা ৬টায় তা ১৮ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৬৮৭ মিলিয়ন ঘনফুটে উঠেছে।
একই সময়ে দেশি গ্যাস ক্ষেত্রে থেকে গ্যাসের সরবরাহ ১ হাজার ৬২১ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ১ হাজার ৬২৪ মিলিয়ন ঘনফুট হয়েছে। দেশি গ্যাস ও এলএনজি মিলিয়ে মোট সরবরাহ দুপুরের ২ হাজার ২০২ মিলিয়ন থেকে ১০৯ মিলিয়ন বেড়ে সন্ধ্যায় ২ হাজার ৩১১ মিলিয়ন ঘনফুটে পৌঁছেছে। ছয় ঘণ্টায় মোট সরবরাহ বেড়েছে প্রায় ৫ শতাংশ।
দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সেই হিসাবে শনিবার সন্ধ্যায় চাহিদার প্রায় ৬০ দশমিক ৮ শতাংশ সরবরাহ করা গেছে। ঘাটতি ছিল প্রায় ১ হাজার ৪৮৯ মিলিয়ন ঘনফুট।
দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের সম্মিলিত সরবরাহ সক্ষমতা দৈনিক ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সন্ধ্যার সরবরাহ ছিল এই সক্ষমতার প্রায় ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ।
দুপুরেই ভিড়েছে কার্গো
আরপিজিএলের কর্মকর্তারা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নতুন এলএনজি কার্গো শনিবার দুপুরে এক্সিলারেটের টার্মিনালে ভিড়লেও সেটি থেকে গ্যাস খালাস শুরু হতে রাত ১০টা বেজে যাবে।
এর আগে এফএসআরইউতে মজুত থাকা এলএনজি ব্যবহার করে দুপুর ২টা থেকে দৈনিক প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু করে এক্সিলারেট।
তখন সামিটের টার্মিনাল থেকে প্রায় ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এক্সিলারেট থেকে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট মিলিয়ে এলএনজি সরবরাহ দাঁড়িয়েছিল প্রায় ৬৭০ মিলিয়ন ঘনফুট। বিকাল ৪টায় পেট্রোবাংলার হিসাবে তা বেড়ে ৬৮৬ মিলিয়ন এবং সন্ধ্যা ৬টায় ৬৮৭ মিলিয়ন ঘনফুট হয়েছে।
পেট্রোবাংলার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আগের সমস্যার কারণে এক্সিলারেট একবারে পূর্ণ হারে সরবরাহ বাড়াচ্ছে না। পর্যায়ক্রমে সরবরাহ বাড়ানো হচ্ছে।
এর আগে মজুত না থাকার কথা তুলে ধরে গত বুধবার দুপুরের পর এক্সিলারেটরের টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস দেওয়া বন্ধ হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছিল।
তখন শুধু সামিটের টার্মিনাল থেকে দৈনিক প্রায় ৫৬০ থেকে ৫৭০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হচ্ছিল। এতে আবার গ্যাস সংকট বেড়ে যায়, যার প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎসহ কল-কারখানার উৎপাদনে।
গত ২১ জুলাই আগুনে এক্সিলারেটের টার্মিনালের বৈদ্যুতিক কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
দুই সপ্তাহের বেশি সময় পর ৬ অগাস্ট টার্মিনালটি আংশিক চালু হয়। পরে কারিগরি সমস্যা ও কার্গোর স্বল্পতায় সেখানকার সরবরাহ কয়েক দফা ওঠানামা করে।