ফের বাড়ল জেট ফুয়েলের দাম, টানা তিন মাসে বৃদ্ধি প্রায় ৪০%
নতুন দর বুধবার রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে।
টানা তৃতীয় মাসে বাড়ল উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম।
অক্টোবরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটারে ১৭ টাকা ৬ পয়সা বাড়িয়ে ১৮২ টাকা ৭১ পয়সা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন-বিইআরসি।
এ নিয়ে জুলাইয়ের পর তিন মাসে জেট ফুয়েলের দাম লিটারে বেড়েছে ৫১ টাকা ৭২ পয়সা বা প্রায় ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ।
বুধবার বিইআরসি অক্টোবরের জন্য নতুন দাম ঘোষণা করে। এদিন রাত ১২টা থেকে নতুন দর কার্যকর হবে।
সেপ্টেম্বরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ছিল ১৬৫ টাকা ৬৫ পয়সা। সে হিসাবে এক মাসে দাম বেড়েছে প্রায় ১০ দশমিক ৩ শতাংশ।
আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনাকারী দেশি ও বিদেশি এয়ারলাইন্সের জন্য শুল্ক ও মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটমুক্ত জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে লিটারে ১ দশমিক ১৮৮২ ডলার।
জেট ফুয়েলের দাম টানা কয়েক দফা কমার পর অগাস্ট থেকে আবার বাড়তে শুরু করে।
জুলাইয়ে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১৯ টাকা ২২ পয়সা কমিয়ে ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সা করা হয়েছিল। অগাস্টে সেই দাম এক লাফে ২৮ টাকা ৫৩ পয়সা বাড়িয়ে ১৫৯ টাকা ৫২ পয়সা করা হয়। সেপ্টেম্বরে আরও ৬ টাকা ১৩ পয়সা বাড়িয়ে করা হয় ১৬৫ টাকা ৬৫ পয়সা।
অক্টোবরে আরও ১৭ টাকা ৬ পয়সা বাড়ায় জুলাইয়ের ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সা থেকে দাম এখন ১৮২ টাকা ৭১ পয়সায় উঠল। অর্থাৎ তিন মাসে প্রতি লিটারে দাম বেড়েছে ৫১ টাকা ৭২ পয়সা।
তবে বর্তমান দাম চলতি বছরের সর্বোচ্চ দামের নিচে রয়েছে।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের পর জেট ফুয়েলের দাম দ্রুত বেড়েছিল। এক পর্যায়ে ৭ এপ্রিল অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটারের দাম ২২৭ টাকা ৮ পয়সায় উঠেছিল।
এরপর ৭ মে তা কমিয়ে ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা করা হয়। ২৩ মে মধ্যবর্তী সমন্বয়ে আরও কমিয়ে ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা করা হয়। জুনে দাম কমে হয় ১৫০ টাকা ২১ পয়সা। জুলাইয়ে তা আরও কমে ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সায় নামে।
সেই হিসাবে এপ্রিলের সর্বোচ্চ দামের তুলনায় অক্টোবরের দাম এখনো ৪৪ টাকা ৩৭ পয়সা বা প্রায় ১৯ দশমিক ৫ শতাংশ কম।
কমিশনের আদেশে বলা হয়েছে, ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত জেট এ-১ বা জেট ফুয়েলের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য বা গড় প্ল্যাটস রেট ধরে অক্টোবরের জন্য নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দর নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের এলসি নিষ্পত্তিতে ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
বিইআরসির নির্ধারিত পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক বাজারদর ও ডলারের বিনিময় হারের পাশাপাশি ডিজেলের দাম পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় ট্যাংকার ও ট্যাংক লরির পরিবহন ব্যয়ের পরিবর্তনও বিবেচনায় নেওয়ার কথাও বলেছে সংস্থাটি।
২০২৫ সালের ১৩ মে গণশুনানির পর জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণের আদেশ দিয়েছিল বিইআরসি। পরে আন্তর্জাতিক বাজারের গড় প্ল্যাটস রেট কয়েকটি সূচক বিবেচনায় নিয়ে মাসে মাসে দাম সমন্বয়ের জন্য একটি কমিটি করা হয়।
ওই কমিটি ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবরের তথ্য পর্যালোচনা করে অক্টোবরের দাম সুপারিশ করে। বুধবার কমিশনের শুনানি শেষে নতুন দাম চূড়ান্ত করা হল।
