Published : 22 Apr 2026, 04:57 PM
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে একটি বৈঠক হয়েছে।
বুধবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক হয় বলে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
সভায় ২০৩৪–৩৫ অর্থবছরের মধ্যে বিমানের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা বাড়িয়ে ৪৭ করার সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ সংযোজনের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়।
বিমানের বহরে বর্তমানে ২১টি উড়োজাহাজ রয়েছে, এগুলোর মধ্যে ১৬টিই মার্কিন উড়োজাহাজ কোম্পানি ‘বোয়িং’ এর।
এর মধ্যে ছয়টি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার, চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর এবং ছয়টি বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ রয়েছে। এর বাইরে বিমানের বহরে স্বল্পদূরত্বের রুটে চলাচল উপেযোগী পাঁচটি ড্যাশ-৮০০ উড়োজাহাজ রয়েছে।
বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার পাশাপাশি পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে নেওয়া উদ্যোগ নিয়েও সভায় পর্যালোচনা করা হয় বলে মন্ত্রণালয় বলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল শতাধিক দেশের ওপর চড়া হারে পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের ওপর বাড়তি ৩৭ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা আসে।
পাল্টা শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চলাকালে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার ক্রয়াদেশ দেওয়ার কথা বলেছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এ পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা, যাতে ট্রাম্প প্রশাসন বাড়তি ৩৫ শতাংশ শুল্কের বোঝা থেকে বাংলাদেশকে রেহাই দেয়।
পরে দর কষাকষি করে এ হার ২০ শতাংশ নামে, যা ওই বছর ১ অগাস্ট কার্যকর হয়৷
পরে দীর্ঘ আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারস্পরিক শুল্ক নিয়ে ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে ‘বাণিজ্য চুক্তি’ করে অন্তবর্তী সরকার; যাতে আগের চেয়ে শুল্কহার ১ শতাংশ কমে নামে ১৯ শতাংশে।
চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি আরও পণ্য কিনতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ইতোমধধ্যে গম আমদানি বাড়ানো হয়েছে। তুলা ও সয়াবিনসহ আরও পণ্য আমদানি চলছে।
বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ কেনা সংক্রান্ত সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, “প্রতিটি উড়োজাহাজ সংযোজনের পূর্বে রুটভিত্তিক আয়-ব্যয়ের বিশ্লেষণের আলোকে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা প্রয়োজন।
“সময়োপযোগী ও বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে আরও লাভজনক ও যাত্রীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব।”
প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, “বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ সংযোজনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াসমূহ এগিয়ে নেওয়ার জন্য কার্যক্রম চলমান রাখতে হবে।”
তিনি সরবরাহ প্রক্রিয়ার সময়োপযোগিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং বিদ্যমান পরিকল্পনার আলোকে বর্তমান সরকারের সময়কালে নতুন উড়োজাহাজ বহরে অন্তর্ভুক্তির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
এছাড়া, ঢাকা থেকে জাপানের নারিতা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা পুনরায় শুরুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের বিষয়ে সভায় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
২০২৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা-নারিতা ফ্লাইট চালু করে বিমান। পরে ২০২৫ সালের ১ জুলাই এই রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেয় বিনান।
সেসময় ‘হজ ফ্লাইট, এয়ারক্রাফট স্বল্পতা ও ব্যবসায়িক বাস্তবতার’ নিরিখে ফ্লাইট বন্ধ রাখার কথা বলেছিল বিমান।
সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।