Published : 03 Jul 2025, 07:12 PM
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নেতৃত্বে গঠিত ‘জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর টাস্কফোর্স’ এর সুপারিশ ‘সঠিকভাবে কার্যকর’ করা হলে আগামী পাঁচবছরে এটি বিলিয়ন ডলারের শিল্পে পরিণত হওয়া ‘উচিৎ’ বলে মনে করেন সংস্থার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
টাস্কফোর্সের চূড়ান্ত সুপারিশমালা মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দিয়েছেন তিনি।
সুপারিশের বিষয় তুলে ধরতে বৃহস্পতিবার তিনি ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে আসেন।
আগামী পাঁচ বছরে এ শিল্পে কতটুকু বিনিয়োগ আসতে পারে–এমন প্রশ্নে আশিক চৌধুরী বলেন, “ইট ইজ ভেরি হার্ড টু সে। এটা কমপ্লিটলি ডিপেন্ড করবে যে আমরা কতটুকু কাজ করতে পেরেছি। এই টাস্কফোর্সের যে রেকমেন্ডেশন, সেগুলো যদি সঠিকভাবে কার্যকর করা হয়, তাহলে আমি মনে করি এখানে কয়েকশ মিলিয়ন ডলার ইনভেস্টমেন্ট একেবারে কঠিন ব্যাপার না।
“ইনফ্যাক্ট, বিলিয়ন ডলারের ওপর ইনভেস্টমেন্ট আসা উচিৎ। বাট সেটা করার জন্য আমাদের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে এই সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রিকে।”
বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যানের ভাষ্য, তাদের সুপারিশগুলো মূলত এই বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্যই।
“রেকমেন্ডশনগুলোই আমরা দিয়েছি। সো আসলে দায়িত্ব আমাদের। আমাদের বলতে, সরকার এবং ইকোসিস্টেম প্লেয়ারদের ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেন্ডলি পরিবেশ তৈরি করার জন্য। তা না হলে আবার এই ৬ মিলিয়ন ডলারেই থেকে যাব আগামী পাঁচ বছরে।”
সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বিশ্বব্যাপী ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য, সেখানে বাংলাদেশের আয় বছরে মাত্র ৬ মিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশে সেমিকন্ডাক্টর খাতে চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ প্রণয়নের জন্য গত ১ জানুয়ারি একটি টাস্কফোর্স গঠন করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এর আহ্বায়ক করা হয় বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীকে।
তিনি বলেন, “প্রতিবেদনে আমরা ২৩টি সুপারিশ দিয়েছি। তার মধ্যে নয়টি হচ্ছে স্কিল ডেভলপমেন্টের জন্য, সাতটি হচ্ছে আমাদের গ্লোবাল কানেক্টিভিটির জন্য এবং সাতটি হচ্ছে পলিসি এন্ডে। প্রধান উপদেষ্টাকে আমাদের ফুল রিপোর্টটা সাবমিট করেছি। তিনি এপ্রিশিয়েট করেছেন এবং টাস্কফোর্সকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
“এবং বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়কে দায়িত্ব দিয়েছেন, যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো আছে, যাদের এগুলোকে নিয়ে কার্যক্রম করতে হবে,… আমরা আসলে আমাদের রিপোর্টে একটা টেবিল করে দিয়েছি যে প্রত্যেকটা ইনেশিয়েটিভ কোন কোন মন্ত্রণালয় বা কোন কোন সরকারি সংস্থাকে আন্ডারটেক করতে হবে, এটা কার রেসপন্সিবিলিটি হওয়া উচিৎ এবং কত সময়ের মধ্যে তাদের এই কাজটা করে দেওয়া উচিৎ সেটা সহ উনাদের আমাদের রেকমন্ডেশন সেটটা দিয়েছি।
“এখন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় পুরো ন্যাশনাল টাস্কফোর্সকে নিয়ে এগিয়ে যাবে। আমরা পেছন থেকে যতটুকু সাপোর্ট দেওয়া যায় দেব।”
কিছু কাজ যে বিডাকেও করতে হবে, সে কথা স্বীকার করে আশিক চৌধুরী বলেন, “সে হিসেবে হয়ত আমরা সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করব, বাট এখন বল প্রধান উপদেষ্টার ঘরে। তারা মন্ত্রণালয়কে নেতৃত্ব দেবে কাজ বাস্তবায়নের জন্য।”
এ শিল্পে কত কর্মসংস্থান তৈরি হবে–এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “এটা একটা হাই-স্কিল ইন্ডাস্ট্রি। তো হাই-স্কিল ইন্ডাস্ট্রিতে যতটুকু ভ্যালু অ্যাড হয়, এর অনুপাতে কর্মস্থান ভিন্ন মাত্রায় হয়। ১ বিলিয়ন ডলারের গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিতে ৫০ হাজার লোক কাজ করবে। কিন্তু এখানে (সেমি কন্ডাক্টর খাতে) সেইম ভ্যালু ড্রাইভ করার জন্য ৭০ হাজার লোক লাগবে না।
“কারণ প্রত্যেক সফটওয়্যার সিগনিফিকেন্ট ভ্যালু অ্যাড করবে। সো এইটার আপিলটা অন্য জায়গায়। আপিলটা হচ্ছে, আমাদের যারা এক্সট্রিমলি টেলেন্টেড ইয়াং ইন্ডিভিজুয়ালস আছে, তাদেরকে আমরা দেশে রিটেইন করতে পারি কিনা। এবং আমাদের দেশের ওভারল যে টেকনোলজিক্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট, সেখানে এটা একটা বড় ভূমিকা রাখতে পারে কিনা।”
টাস্কফোর্সের সদস্য বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক এ বি এম হারুন-উর-রশিদ বছরে ৫-৬ হাজার কর্মসংস্থানের আশার কথা শোনান।
সম্মেলনে টাস্কফোর্সের তিন সদস্য কথা বলেন। এ শিল্পের জন্য কর ছাড়, বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ সরকারের তরফে এ শিল্পের জন্য তহবিল তৈরির সুপারিশের কথা তুলে ধরেন তারা।
টাস্কফোর্স গঠনের সময় সদস্য হিসেবে ছিলেন– জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব, উল্কা সেমি'র সিইও মো. এনায়েতুর রহমান, প্রাইম সিলিকন টেকনোলজি (বিডি) লিমিটেডের চেয়ারম্যান ইশতাক আহমেদ, নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ জব্বার, বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর এ বি এম হারুন-উর-রশিদ, মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির প্রো-ভিসি অধ্যাপক সৈয়দ মাহফুজুল আজিজ, যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কোয়েস্টের প্রতিষ্ঠাতা মাশুক রহমান, সিলিকন ভ্যালির সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞ মোস্তাফিজ চৌধুরী, আইডিএফ এর জহিরুল আলম।
এ টাস্কফোর্সের সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিডার বিজনেস ডেভেলপমেন্টর প্রধান নাহিয়ান রহমান রোচি।