Published : 22 Aug 2026, 01:54 AM
কাঁচা মরিচসহ বেশ কিছু সবজির দামে স্বস্তি ফিরেছে। কিছুটা কমেছে মুরগির দামও। কিন্তু নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে চালের বাজারে। বিশেষ করে চিকন বা মিনিকেট চালের দাম নতুন করে কেজিতে বেড়েছে দুই টাকা পর্যন্ত।
শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মোহাম্মদপুরসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দামের এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
এ দিন খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, বিআর-২৮ চাল ৬০ টাকা, মিনিকেট ৭২ টাকা, নাজিরশাইল ৮৮ টাকা ও কাটারি নাজির ৮৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে। তবে ব্র্যান্ড ও মানভেদে মিনিকেটের দামে পার্থক্য রয়েছে।
পাইকারি বাজারেও চালের দাম বৃদ্ধির কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের ভাষ্য, গত এক সপ্তাহে মিনিকেট চালের ৫০ কেজির বস্তায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম পড়েছে।
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের পাইকারি চাল ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কয়েক ধাপে হাতবদল ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায় চালের দাম কখনো দুই-তিন টাকা বাড়ে, কখনো কমে।
“পাইজাম (মাঝারি চাল) বস্তা কিনতে দিতে হচ্ছে বস্তা প্রতি ২২শ থেকে সাড়ে ২২শ টাকা। তাহলে কেজি পড়ছে ৪৫ টাকা। ছোট দোকানে কেজিতে একটু বেশি হবে। তারা বিক্রি করছেন ৫২ থেকে ৫৫ টাকা কেজি।”
এদিকে আমদানি বাড়তে থাকায় গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কাঁচা মরিচের দাম নিচের দিকে। গত ১৪ আগস্ট খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ছিল ২০০ টাকার আশেপাশে। এক সপ্তাহ পর দাম কমে তা ১০০ থেকে ১২০ টাকায় নেমেছে। তবে কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে মানভেদে কাঁচা মরিচ ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে কিনছেন ক্রেতারা।
ভারতীয় মরিচের চালান বাড়ায় সরবরাহ বেড়েছে। এর প্রভাবে দাম কমছে বলে ব্যাখ্যা দেন কারওয়ান বাজারের পাইকারী ব্যবসায়ী সোহেল মিয়া।
‘সরবরাহ ঘাটতির’ কথা শোনা না গেলেও গত সপ্তাহে বাজারে বেশিরভাগ সবজির কেজি ছিল ৮০ টাকার উপরে। তবে শুক্রবার বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে।
ভোগ্য পণ্যের খুচরা মার্কেট মোহাম্মদপুর টাউনহল কাঁচাবাজারে শুক্রবার শসার কেজি বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা। কারওয়ান বাজারে শসার কেজি পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায় এবং আড়তে পাওয়া যাচ্ছে ২০ টাকায়। তবে ভোক্তারা পাইকারি বিক্রেতাদের কাছ থেকে খুচরা কিনতে পারলেও আড়তে থেকে লটে কিনতে হচ্ছে।
একইভাবে এই দুই বাজারে দামের তথ্যে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে পেঁপের কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, পাইকারিতে ২০ টাকা ও আড়তে ১৬ টাকা বিক্রি হচ্ছে। খুচরায় প্রতি কেজি বরবটি ৬০, পাইকারিতে ৪০ ও আড়তে বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়।
একইভাবে খুচরা বাজার থেকে প্রতি কেজি চাল কুমড়া, ঢেঁড়স, করলা ও পটল ৪০ টাকায় কিনতে পারছেন ক্রেতারা। গত সপ্তাহে এসব পণ্যের দাম ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে। এছাড়া সপ্তাহের ব্যবধানে ১৫ টাকা কমে প্রতি কেজি মিষ্টি কুমড়া বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকায়।
লম্বা আকৃতির বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা। গোল বড় বেগুনের কেজি আরো বেশি; ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। গত সপ্তাহেও প্রায় একই দামে এ দুই ধরনের বেগুন বিক্রি হয়েছে।
কারওয়ান বাজারের পাইকারি সবজি বিক্রেতা আজমল হোসেন বলেন, “গত সপ্তাহ থেকেই আড়তে প্রচুর মাল আসছে। ফলে ধীরে ধীরে দামও কমছে। অন্য কোন ঝামেলা (প্রাকৃতিক দুর্যোগ) না হলে, দাম আরও কমবে।”
পেঁয়াজের দামেও এ সপ্তাহে বড় পরিবর্তন নেই। গত সপ্তাহে পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হয়েছে ৬০ টাকা। এ সপ্তাহে মানভেদে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ টাকায় পাইকারিতে এবং খুচরায় ৫৫ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে পেঁয়াজ। তবে দুই কেজি পেঁয়াজ ১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আলুর দামও কেজিতে পাঁচ টাকা কমে ২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে মুরগির বাজার কিছুটা কমলেও এখনো দাম বাড়তি। গত দুই সপ্তাহ ধরে ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। এ সপ্তাহে ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকায়। এছাড়া গত শুক্রবার সোনালি মুরগির কেজি ছিল ৩২০ থেকে ৩৩০ টাকা। শুক্রবার বাজারে সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকায় নেমেছে।
গেল সপ্তাহের মতই রয়েছে ডিমের দাম। বাজারগুলোতে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকার মধ্যে।