Published : 24 Aug 2024, 07:18 PM
বন্যা পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট ধরতে না পারা যাত্রীদের টিকেট রি-বুক বা রিইস্যু করার ঘোষণা দিয়ে দেশীয় চারটি এয়ারলাইনস বলেছে, এ ক্ষেত্রে বাড়তি কোনো টাকাও নেবে না তারা।
রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, বেসরকারি এয়ারলাইনস নভোএয়ার ও ইউএস-বাংলা এবং নবীনতম এয়ারলাইনস এয়ার অ্যাস্ট্রা পৃথকভাবে এ ঘোষণা দিয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চলাচলকারী ৩৩টি এয়ারলাইনসকে বন্যায় ফ্লাইট ধরতে না পারা বা ফ্লাইটের জন্য আসতে না পারা যাত্রীদের বিনামূল্যে টিকেট রিইস্যু, রি-বুক করার নির্দেশনা দিয়ে চিঠি দেন শাহজালাল বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন মো. কামরুল ইসলাম।
শনিবার নিজেদের ফেসবুক পেইজে এ-সংক্রান্ত একটি পোস্ট দিয়েছে বেসরকারি এয়ারলাইন্স নভোএয়ার।
নভোএয়ারের একজন কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা যে নির্দেশনা পেয়েছিলাম, সেটির আলোকে আমাদের যাত্রী যারা ফ্লাইট মিস করেছেন, তাদের টিকেট বিনামূল্যে রি-ইস্যু করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছি।”
বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এয়ার অ্যাস্ট্রা বলেছে, দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে অনেক যাত্রী এয়ার অ্যাস্ট্রার ফ্লাইটের নির্ধারিত সময় পৌঁছাতে পারেননি অথবা ফ্লাইট মিস করছেন। সেসব যাত্রীর ফ্লাইটের টিকিট পরবর্তী তারিখে বিনামূল্যে রিইস্যু বা রি-বুক করে দেবে এয়ার অ্যাস্ট্রা।
যাত্রীদের টিকিট রিইস্যু বা রি-বুক সম্পর্কিত তথ্যের জন্য ১৩৬০৭ নম্বরে যোগাযোগ করতে অনুরোধ করেছে এয়ারলাইনসটি।
বিনামূল্যে টিকেটের তারিখ পরিবর্তন বা রি-ইস্যু করার ঘোষণা দিয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
শনিবার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিমান বলছে, দেশের চলমান ভয়াবহ বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা বিবেচনা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট এবং ফিরতি ফ্লাইটে ইকোনমি ক্লাসের একমুখি ভাড়া সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণ করেছে।
আর বিজনেস ক্লাসের পূর্বনির্ধারিত সর্বনিম্ন ভাড়া যাত্রী সাধারণের সুবিধার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে বিমান।
বন্যাদুর্গত এলাকার যাত্রীরা বর্তমান অবস্থায় ভ্রমণ করতে ব্যর্থ হলে পরবর্তীতে কোনো রকম চার্জ ছাড়াই সিট ফাঁকা থাকা সাপেক্ষে ভ্রমণ করতে পারবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
সে ক্ষেত্রে যাত্রীদের যাত্রা বিলম্ব, টিকিটের তারিখ পরিবর্তন বা রিইস্যু করতে সংশ্লিষ্ট টিকেট ইস্যুয়িং এজেন্সি, বিমানের নিকটস্থ সেলস সেন্টার বা কল সেন্টারে ১৩৬৩৬ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করেছে বিমান।
বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের কোনো রকম চার্জ ছাড়া এই সেবা দেওয়ার কথাও সেখানে বলা হয়েছে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ শাখার মহাব্যবস্থাপক কামরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, “নির্দেশনা অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ রুটের ক্ষেত্রে বিনামূল্যে টিকেট রিইস্যুর সুযোগ দিচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসও। যাত্রীদের অসুবিধা মাথায় রেখে আমাদের এই উদ্যোগ।”
বন্যা পরিস্থিতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিপর্যয়
দেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতি ১১ জেলাতেই সীমাবদ্ধ আছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। তবে বেড়েছে বানভাসির সংখ্যা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৮।
শনিবার দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী রেজা বলেন, “এখন পর্যন্ত বন্যা আক্রান্ত জেলার সংখ্যা ১১টিই আছে। মোট ক্ষতিগ্রস্ত লোকসংখ্যা ৪৯ লাখ ৩৮ হাজার ১৫৯ জন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ৯ লাখ ৪৪ হাজার ৫৪৮টি।
“আগামী ২৪ ঘণ্টায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবে- এ রকম পূর্বাভাস আমরা পেয়েছি। আগামী ২৪ ঘণ্টা দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং তৎসংলগ্ন উজানে ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। এই সময়ে হবিগঞ্জ মৌলভীবাজারের মনু, খোয়াই, ধলাই নদীর বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হবার সম্ভাবনা রয়েছে।”
উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও অতি ভারি বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় ফেনী, কুমিল্লা, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজারসহ ১২ জেলার ৪৬২ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত ২০ অগাস্ট থেকে শুরু হওয়া এ বন্যায় কুমিল্লা, সিলেট ও চট্টগ্রাম জোনের সড়ক নেটওয়ার্কের প্রাথমিক ক্ষতির এ চিত্র উঠে এসেছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে।
অধিদপ্তরের রক্ষণাবেক্ষণ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জিকরুল হাসান শনিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন পর্যন্ত যেটা পাওয়া গেছে, সেগুলো প্রাথমিক তথ্য। পানি সরে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র পাওয়া যাবে। এটা খুবই প্রাথমিক প্রতিবেদন। বন্যার কারণে এখনও অনেক জায়গায় যাওয়া যাচ্ছে না।