১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘জরুরি চাহিদা পূরণে’ আরও ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানি করবে সরকার

ভোলা-বরিশাল সেতু প্রকল্পটি নেওয়ার জন্য নীতিগত অনুমোদন মিলেছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে।

‘জরুরি চাহিদা পূরণে’ আরও ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানি করবে সরকার
ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Apr 2026, 07:07 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:22 PM

ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা মোকাবেলায় আরও তিন লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

‘জরুরি চাহিদা পূরণের জন্য’ অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এ ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বলে বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

জাতীয় সংসদে এ কমিটির বৈঠক হয়।

ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেল সরবরাহে চাপে পড়ে সরকার। বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করলেও পেট্রোল পাম্পগুলোতে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ছে। 

বিশ্বের জ্বালানি বাজারেও তেলের দাম বেড়ে যায়। সরকার প্রয়োজনে মে মাসে তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়টিও ভাবনায় নেয়। 

এ অবস্থায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে রাজি হওয়ায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে। অবশ্য গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের তুলনায় তেলের দাম এখনও বেশি। সে সময় প্রতি ব্যারেল তেল বিক্রি হচ্ছিল প্রায় ৭০ ডলারে।

জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে এমন সংকটের মধ্যে গেল শনিবার কাজাখস্তান থেকে এক লাখ টন পরিশোধিত ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। 

সে দিন বিকালে সরকারি ছুটির দিনে ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার তথ্য দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়।

ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভার সে বৈঠকে ইরান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশের ‘জরুরি জ্বালানি চাহিদা’ পূরণে মোট ১৭ লাখ টন তেল আমদানির প্রস্তাব করে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। 

সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাজাখস্তান ও ওমান থেকে এসব তেল আনার প্রস্তাব করা হয়।

কাজাখস্তান থেকে মোট ৫ লাখ টন আমদানির প্রস্তাব করা হয়, যা আগে অর্থনৈতিক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন পেয়েছে। তবে ক্রয় সংক্রান্ত কমিটি এখন এক লাখ টন আমদানির অনুমোদন দেয়।

বাকি ১৬ লাখ টন জ্বালানি তেল ‘প্রয়োজন’ অনুসারে কেনা হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সভায়।

সে সিদ্ধান্তের পর বুধবার অর্থনৈতিক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে আরও তিন লাখ টন ডিজেল আমদানির সায় মিলল।

বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা বছরে গড়ে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন।

চাহিদার ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আমদানি করা হয়। বাকি ৮০ শতাংশ জ্বালানি তেল পরিশোধিত অবস্থায় আনা হয় সিঙ্গাপুর, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়াসহ সাতটি দেশ থেকে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি এপ্রিলে দেশে ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৪ লাখ টন। এ মাসে সোয়া ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা আছে।

ভোলা সেতু প্রকল্পের নীতিগত অনুমোদন

দেশের সবচেয়ে বড় সেতু তথা প্রায় ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ ভোলা-বরিশাল সেতু প্রকল্পটি নেওয়ার জন্য নীতিগত অনুমোদন মিলেছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে।

তেঁতুলিয়া নদীর ওপর নির্মাণের জন্য ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়। এতদিন এটি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সায় পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল।

এটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অন্তর্ভুক্ত ছিল। এখন এ কমিটির সায় মেলায় এবার এডিপির চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রইল।

এদিন মেঘনা নদীর ওপর শরীয়তপুর-চাঁদপুর সেতু নির্মাণেরও নীতিগত অনুমোদনের সুপারিশ মেলে।

আগের খবর:

কাজাখস্তান থেকে ১ লাখ টন ডিজেল কিনছে সরকার