Published : 04 Oct 2025, 09:45 PM
দুই দফা হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়া ফেইসবুক পেইজ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে পেয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ।
শুক্রবার গভীর রাতে পেইজটি উদ্ধারের কথা জানিয়েছ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। পেইজটির প্রোফাইল ছবির জায়গায় এখন ইসলামী ব্যাংকের লোগা সম্বলিত ছবি রয়েছে। তবে কভার ফটোতে কিছু নেই।
পেইজে নতুন কোনো পোস্ট কিংবা হ্যাকিংয়ের ব্যাপারেও কিছু পোস্ট করেনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
ইসলামী ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান নজরুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “মেটার (ফেইসবুক) সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে আইটি টিম। পেইজ মুক্ত, এখন ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে। আরো কিছুটা সময় লাগবে নিয়ন্ত্রণে আসার ঘোষণা দিতে।”
শুক্রবার ভোরে এক দফা হ্যাকিংয়ের পর বিকাল ৪টার দিকে সেটি উদ্ধার করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ; এর সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর সেটি আবারও হ্যাকিংয়ের শিকার হয়।
সেদিন ভোরে ফেইসবুক পেইজ হ্যাকিংয়ের পর ইসলামী ব্যাংকের ওয়েবসাইট ও পেইজটিতে সাইবার আক্রমণ চালানোর হুঁশিয়ারিও দেয় হ্যাকাররা। দুপুরে পেইজটিকে খুঁজেও পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে বিকাল ৪টার দিকে ফেইসবুক পেইজটি আবার স্বাভাবিক দেখায়, যা রাতে আবার হ্যাকড হয়।
দ্বিতীয় দফায় শুক্রবার রাত ৮টা ২৮ মিনিটে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেইসবুক পেইজটির প্রোফাইল ও কভার ফটো পরিবর্তন করে হ্যাকাররা। এক মিনিট পর ফেইসবুক পেইজটিতে তারা পোস্ট করে ‘পেইজ হ্যাকড?’।
৮টা ৩২ মিনিটে আরেকটি পোস্ট করে- ‘হ্যালো ডিয়ার ইসলামী ব্যাংক সো-কল্ড এক্সপার্টস’। এরপর রাত ৯টা ২২ মিনিটে আরেকটি বড় পোস্ট করেছে তারা।
দুই দফাতেই তারা নিজেদের পরিচয় দিয়েছে ‘এমএস ৪৭০ এক্স’ নামে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এস আলম গ্রুপ মুক্ত হয় ইসলামী ব্যাংক। গ্রুপটির নিয়ন্ত্রণ থাকাকালে কোনো ধরনের পরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই ছাড়াই মৌখিক নির্দেশে হাজার দশেক ব্যক্তি নিয়োগ পান।
তাতে জনবল বেড়ে দাঁড়ায় ২২ হাজারে, যা ২০১৬ সালে ছিল সাড়ে ১৩ হাজার। মৌখিক নির্দেশে নিয়োগ পাওয়াদের মধ্যে ৫ হাজার ৩৮৫ জনকে মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য গত ২৭ সেপ্টেম্বর ডাকা হয়।
কিন্তু মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র ৪১৪ জন। পরীক্ষায় অংশ না নেওয়াদের দায়িত্ব থেকে অবমুক্ত করে রেখেছে ইসলামী ব্যাংক। তাদের চাকরি ফেরত দেয়ার দাবি করে একটি বার্তা দিয়ে কিছুক্ষণ পর পেইজ থেকে সরিয়ে নিয়েছিল হ্যাকার গোষ্ঠী পরিচয় দেওয়া ‘এমএস ৪৭০ এক্স’।
সেখানে লেখা হয়েছিল, “বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংকের তৎপর কর্তৃপক্ষের অনৈতিক ও অন্যায় আচরণে এমএস ৪৭০এক্স তাদের পেইজ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। হাজার হাজার কর্মীর ভবিষ্যৎ রক্ষা করা হবে। অবিলম্বে অন্যায় চাকুরিচ্যুতির উপর পুনর্বিবেচনা ঘোষণা করা হোক।”