১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

যুদ্ধের পর পশ্চিম এশিয়ায় শ্রমিকের চাহিদা বাড়তে পারে: সংসদে প্রতিমন্ত্রী

গত অর্থবছরে চাকরি নিয়ে বিভিন্ন দেশে গেছেন ৯ লাখ ৮৫ হাজার ১২০ জন বাংলাদেশি।

যুদ্ধের পর পশ্চিম এশিয়ায় শ্রমিকের চাহিদা বাড়তে পারে: সংসদে প্রতিমন্ত্রী
বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 03 Sep 2026, 07:39 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:54 AM

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ও অস্থিরতার পর ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ শুরু হলে শ্রমিকের চাহিদা বাড়তে পারে বলে মনে করছে সরকার।

নতুন শ্রমবাজার খোঁজা এবং বাংলাদেশি কর্মীদের বিদেশে যাওয়ার সুযোগ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের লিখিত জবাবে এ কথা বলা হয়।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে এদিন সংসদে প্রশ্নের জবাব দেন প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর।

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার পশ্চিম এশিয়া। ২৮ ফেব্রয়ারি ইরানে যৌথভাবে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তার জবাবে ইরান ওই অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা রয়েছে সেসব দেশে হামলায় চালায়। 

যুদ্ধবিরতি ও স্থায়ী যুদ্ধ বন্ধের আলোচনার মধ্যেই ছয় মাস ধরেই হামলা পাল্টা হামলা চলছে।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের লিখিত জবাবে বলা হয়, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া সফর করেছেন।

এরপর গত জুলাইয়ের শেষ দিকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও মন্ত্রী দেশটি সফর করেন।

এর ফলে শিগগিরই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর পথ আরও সহজ হবে বলে আশা করছে সরকার।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে জানানো হয়, গত অর্থবছরে চাকরি নিয়ে ৯ লাখ ৮৫ হাজার ১২০ জন বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গেছেন।

এর মধ্যে সৌদি আরবে গেছেন ৬ লাখ ৪ হাজার ৬৬২ জন। কাতারে গেছেন ৮৯ হাজার ২৩ জন।

সিঙ্গাপুরে গেছেন ৭৫ হাজার ৪১ জন। মালদ্বীপে গেছেন ৪২ হাজার ১৩০ জন এবং কুয়েতে গেছেন ৩৯ হাজার ৮৭৫ জন।

ভূমিকম্প প্রস্তুতিতে ৭০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের লিখিত জবাবে বলা হয়, বজ্রপাতকে ২০১৬ সালে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রতিবছর দেশে গড়ে ৩৬৫ জন বজ্রপাতে মারা যান।

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমরের প্রশ্নের লিখিত জবাবে জানানো হয়, চলতি বছরে এ পর্যন্ত ৪৬ জেলায় বজ্রপাতে ১৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৫৫ জন।

পাহাড় ধসে চার জেলায় ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৫২ জন।

মে মাসে ভারী বৃষ্টির কারণে হাওর এলাকায় বন্যায় সাত জেলায় কৃষি ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে ২ হাজার ৪৮৮ কোটি ৬৮ লাখ ৩৯ হাজার ১৫৪ টাকা।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সংসদে প্রশ্নের জবাব দেন প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইন।

সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য সরকার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও কাজ চলছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এক লাখ স্বেচ্ছাসেবক তৈরির কার্যক্রম চলছে,  বলেন প্রতিমন্ত্রী।

এরই মধ্যে ৭০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করা হয়েছে। তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

ইকবাল হোসাইন বলেন, ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকাজের জন্য সরকার এরই মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম কিনেছে।

এসব সরঞ্জাম সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও আনসারসহ উদ্ধারকাজে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে। আরও কিছু সরঞ্জাম কেনার দরপত্র প্রক্রিয়া চলছে।

সরকারি সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতে থাকা বিভিন্ন যন্ত্রপাতির তালিকাও করা হয়েছে। দুর্যোগের সময় প্রয়োজন হলে এসব যন্ত্রপাতি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া হবে, বলেন প্রতিমন্ত্রী।

শ্রম আদালতে বিচারাধীন মামলা প্রায় ৩০ হাজার 

প্রশ্নোত্তর পর্বে একটি তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন উত্থাপনের জন্য জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে আহ্বান জানান স্পিকার। 

তবে তিনি সংসদ কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না।

নাম ডাকার পর আসনের দিকে তাকিয়ে স্পিকার বলেন, “জি এম তো নাই।”

এ সময় সংসদ কক্ষে হাসির সৃষ্টি হয়। ওই সংসদ সদস্য উপস্থিত না থাকায় নিয়ম অনুযায়ী প্রশ্নটি আর উত্থাপিত হয়নি।

গাজী নজরুল ইসলামের লিখিত প্রশ্ন ছিল দেশে শ্রম আদালতের সংখ্যা, সেগুলোর অবস্থান, বিচারাধীন মামলার সংখ্যা এবং মামলা নিষ্পত্তির দীর্ঘসূত্রতা কমাতে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুত করা লিখিত জবাবে বলা হয়, বর্তমানে দেশে একটি শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল ও ১৪টি শ্রম আদালত রয়েছে।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট, বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহে এসব আদালত রয়েছে।

গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত এসব আদালতে ২৯ হাজার ৯২৭টি মামলা বিচারাধীন ছিল।