Published : 01 Feb 2026, 09:47 PM
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে দ্রুত ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) করার আলোচনা শুরুর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি বলেছেন, বর্তমান শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ আগামী কয়েক বছরে শেষ হলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজারে বাণিজ্য সুবিধা ধরে রাখতে আগেভাগে পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
বাংলাদেশে ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্সের (ইউরোচ্যাম) চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ রোববার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সৌজন্য সাক্ষাৎকাল করতে গেলে প্রধান উপদেষ্টা এ বিষয়ে কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইউরোপীয় বিনিয়োগ দ্রুত বাড়ানো, বাংলাদেশ ও ইইউর মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও মসৃণ করা এবং দেশের ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে।
পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচন এবং তা পর্যবেক্ষণে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মোতায়েনের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।
মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে একটি ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (ইপিএ) করেছে, যার ফলে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে ৭ হাজার ৩০০টির বেশি বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়েছে।
তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গেও একই ধরনের আলোচনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে ইইউ বাজারে তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার বজায় থাকে।
“জাপানের সঙ্গে ইপিএ আমাদের জন্য নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। এটি আমাদের রপ্তানি পণ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আমরা অবশ্যই ইইউর সঙ্গে একটি এফটিএ স্বাক্ষরের আশা করি, যাতে আমাদের বাজার আরও সম্প্রসারিত হয়।”
ইউরোচ্যাম চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, বাংলাদেশকে জরুরি ভিত্তিতে এফটিএ আলোচনা শুরু করতে হবে, কারণ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) মর্যাদা থেকে উত্তরণের পর ইইউতে বিদ্যমান বাণিজ্য সুবিধা হারানোর ঝুঁকি রয়েছে—যা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য।
তিনি বলেন, একটি এফটিএ ইউরোপীয় বিনিয়োগ বাড়াবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং উন্নত পশ্চিমা বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধি করবে।
লোপেজ বলেন, ভারত ইইউর সঙ্গে এফটিএ করতে যাচ্ছে এবং ভিয়েতনামের ইতোমধ্যে এমন চুক্তি রয়েছে, যার ফলে উভয় মধ্যম আয়ের দেশই ইউরোপীয় বাজারে বিশেষ সুবিধা পাবে।
“আমরা একটি এফটিএর পক্ষে কথা বলছি। আমি ইউরোপে গিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করব।”
বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউর বাণিজ্যিক সম্পর্ক পরিবর্তিত হবে, তবে তা ২০২৯ সালের আগে নয়।
তিনি জানান, প্রায় ২০ কোটি জনসংখ্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি আনার ক্ষেত্রে ইইউর ‘প্রবল আগ্রহ’ রয়েছে।
তিনি ২০২৬ সালে একটি ইইউ–বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজনের প্রস্তুতির কথাও বলেন।
“ইইউ কোম্পানিগুলো এখানে আসতে উৎসাহ পাবে এবং সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে–এমন আগাম রাজনৈতিক বার্তা আমরা চাই।”
প্রধান উপদেষ্টা ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর কারখানা বাংলাদেশে স্থানান্তরের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, প্রতিযোগিতামূলক খরচে দক্ষ জনশক্তির বড় ভাণ্ডার থেকে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলো সুবিধা নিতে পারে।
“আমরা একটি ফ্রি ট্রেড জোন গড়ে তুলছি। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য একটি উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। আমরা ইউরোপীয় বিনিয়োগ আরও বাড়াতে চাই।”
আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে বিপুলসংখ্যক ইইউ পর্যবেক্ষক মোতায়েনের সিদ্ধান্তে সন্তোষ প্রকাশ করেন অধ্যাপক ইউনূস।
তিনি বলেন, “ইইউর নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের গণতন্ত্রের পুনরুজ্জীবনে বড় ধরনের আস্থার প্রকাশ।”
তার বিচারে, এখন পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারের সামগ্রিক চিত্র “খুবই ইতিবাচক।”
অন্যদের মধ্যে সরকারের এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।