পানির বোতলের গায়ে ১৫ টাকা লেখা হলে ২০ টাকায় বিক্রি কেন?

মুনতেসার আলী
Published : 20 Dec 2019, 10:44 AM
Updated : 20 Dec 2019, 10:44 AM

গত সপ্তাহে দুপুরে ঢাকার বিমানবন্দর রেলস্টেশনে গিয়েছিলাম। যানজটের কথা মাথায় রেখে বেশ তাড়াহুড়ো করে অফিস থেকে বের হয়েছিলাম। ভাগ্যিস বেশিক্ষণ পথে আটকে থাকতে হয়নি।  নির্ধারিত সময়ের বেশ আগেই স্টেশনে পৌঁছে যাই। আমার গন্তব্য স্থলের ট্রেন আসতে আরো প্রায় আধ ঘন্টা লাগবে।

স্টেশনের ভেতর প্লাটফরম সংলগ্ন অনেকগুলো দোকান আছে। সবগুলোতেই পানীয়সহ নিত্য প্রয়োজনীয় হালকা আহার্য পাওয়া যায়। চিন্তা করলাম একটা ছোট খাবার পানির বোতল কিনে নিই। গেলাম সর্ব দক্ষিণের একটা দোকানে। হাফ লিটারের একটা বোতল নিয়ে গায়ে লেখা খুচরা ১৫ টাকা দোকানদারকে দিলাম।

মুখ গম্ভীর করে দোকানদার বলল, আরো পাঁচ টাকা দেন। জিজ্ঞেস করলাম, কেন? দোকানদার বললেন, দাম বিশ টাকা।

জানতে চাইলাম, এক লিটার পানির বোতলের দাম কত? এখানেও বোতলের গায়ে লেখা সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল্যের চাইতে পাঁচ টাকা বেশি চাইলেন।

আমি বললাম, গায়ে ১৫ টাকা লেখা আছে। তাছাড়া সবর্ত্র হাফ লিটার মানে ৫০০ মিলি লিটার পানির বোতল পনের টাকাতে আর এক লিটার বোতল ২০ টাকাতে বিক্রি হয়। দোকনদার মানলেন না। আমিও কিনলাম না; বোতলটা ফেরত দিলাম।

এভাবে বেশ কয়েকটা দোকানে গেলাম। একই চিত্র; যদিও বোতলের ব্র্যান্ড ভিন্ন। একটা দোকানে হাফ লিটার পানির বোতল আঠারো টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যস্ত ও তৃষ্ণার্ত লোকজন নিরূপায় হয়েই কিনে নিচ্ছেন। একজন ভ্রাম্যমাণ হকার পেলাম  যিনি পানির বোতলের গায়ে লেখা নির্ধারিত মূল্যই চাইলেন।

অবাক হয়ে জানতে চাইলাম, তিনি বেশি দাম চাইলেন না কেন? কিন্তু হকার মুখ খুললেন না বলে কারণ জানা গেল না।

বোতলের গায়ের লেখা মূল্যের যে এই যে পাঁচ টাকার মত বেশি খরচ করে কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে, এসব কি দেখবেন ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষ অথবা ভ্রাম্যমাণ আদালত?

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক