গ্রাম্য পূজা শহুরে পূজা

প্রীতম মণ্ডল
Published : 25 Oct 2018, 03:15 PM
Updated : 25 Oct 2018, 03:15 PM

স্মৃতিতে পূজার সময়টা জুড়ে গ্রাম রয়ে গেলেও গত কয়েক বছরের মত এবারের পূজাও শহরে কাটালাম।

শহুরে পূজা আর  গ্রাম্য পূজার মাঝে যে সামান্য হলেও পার্থক্য আছে, তা প্রতি পূজায় উপলব্ধি করি। গ্রামে পূজা হতো খোলা ময়দান সংলগ্ন মন্দিরে। মন্দির পাশ্ববর্তী খোলা মাঠে পূজার সময় মেলা বসতো। এইসব মেলাতে মিষ্টির দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন খেলনা, ছবি, কম দামি কসমেটিকস, বাদাম, পান, চা-সিগারেট  পাওয়া যেত।

গ্রামে পূজার এই সময়ে আপন জনের সঙ্গে দেখা হওয়ার উৎসব হতো।  এখনো নিশ্চয়ই তা হয়। পূজায় মন্দির আর মন্দির সংলগ্ন মাঠ হয়ে উঠতো মিলনমেলা। পাশাপাশি গ্রামে পূজা উপলক্ষে মন্দির পাশ্ববর্তী নদীতে হতো নৌকা বাইচ।

খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইন্সটিটিউট সংলগ্ন মন্দিরে পূজার আয়োজন

ইটের খাঁচার এই শহরে পূজা কিছুটা ব্যতিক্রম। গ্রামের মত এখানে খোলা ময়দান পাওয়া যায়না। সাধারণত মন্দির সংলগ্ন চত্বরে সবাই পূজা পালন করে। যদিও শহরের মন্দিরেও পূজায় অসংখ্য মানুষের আগমন ঘটে। বৈদ্যুতিক আলোর ঝলকানিতে পূজা মণ্ডপ আলোকিত হয়।

ছোটবেলায় আমাদের এলাকাতে যখন বিদ্যুৎ ছিল না, তখন হ্যাজাক লাইটের আলোতে পূজা মন্দির আলোকিত করা হতো। এখন এই উজ্জ্বল বৈদ্যুতিক আলোর মাঝেও হ্যাজাক লাইটের সেই আলো খুব করে চোখে ভাসে।

গ্রামে পূজায় মাঝরাত  পর্যন্ত  সবাই মিলে আনন্দ করে এক সঙ্গে গ্রামের পথ ধরে যার যার বাড়িতে ফেরা হতো। শহুরে জীবনে এমন হয় না।

গ্রাম হোক আর শহর হোক, তবুও পূজা আসে আনন্দ নিয়ে। হৃদয়কে পূর্ণতায় ভরিয়ে দিয়ে চারিদিক উৎসবে মাতাতে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক