বিরোধী দলীয় নেত্রীর ভারত সফর ইতিবাচক কারণ
রাজনীতি তেমন বুঝিনা।তবে চায়ের দোকানে দিনে দু'বার বসার সুবাদে এবং ব্লগ-ফেসবুকের কল্যাণে অনেক রাজনৈতিক বিষয় নিজের অজান্তেই বুঝতে শিখেছি।এ সপ্তাহের একটি মূখ্য আলোচনার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার ভারত সফর।যে যেমন ভাবেই চিন্তা করুক না কেন এই সফর যে ইতিবাচক তাতে কোন সন্দেহ নেই।কিছু জটিল প্রশ্নের সুরাহা হবে এ সফরের মাধ্যমে তা আশা করা যায়।
যেমন ভারত সরকার এবং সাংবাদিকরা স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইবে,
-"যুদ্ধপরাধীদের বিচারে আপনার দলের অবস্থান কি?"
-যদি হ্যাঁ সুচক হয় তবে প্রশ্ন উঠবে,"তাহলে কেন জামায়াত ইসলামকে বর্জন করছেন না?"
অথবা "আপনারা ক্ষমতায় গেলে এই বিচার কার্য চালিয়ে যাবেন কিনা?"
-"ট্রানজিট নিয়ে আপনার অবস্থান/বিরোধীতার কারণ কি?"
-"তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে অনড় অবস্থানে থাকবেন কিনা?"ইত্যাদি।
হ্যাঁ বা না সূচক জবাব হলে বিরোধী দলীয় নেতার অবস্থান স্পষ্ট হয়ে যাবে খুব ভালোভাবেই।তবে তার সুযোগ কম।
কারণ উপরের ১ম প্রশ্নের জবাবে বিচারের স্বচ্ছতা নিয়ে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করবেন।
জামায়াতকে বর্জনের কথাটি সুকৌশলে এড়িয়ে যাবেন অথবা সময়ই সব বলে দিবে এমন উত্তর দিবেন বলে মনে হয়।আর ক্ষমতায় গেলে বিচার চলবে কিনা তার উত্তর কি হবে?
২য় প্রশ্নের জবাবে ট্রানজিট এর বদলে ট্রানশিপমেন্টের কথা বলতে পারেন।
৩য় প্রশ্নের জবাব কি হবে সবারই জানা।
খালেদা জিয়ার এই সফরে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন, সীমান্ত হত্যা, টিপাইমুখ বাঁধ নির্মাণ এবং দুই দেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময়ের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা এই সফরকে গুরুত্বপুর্ণ করে তুলেছে।যা একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমান বিরধী দলীয় নেত্রীর ইমেজকে বাড়াবে বৈ কমাবে না।
তবে কিছু বিষয়ে ভারতীয় সাংবাদিকদের প্রশ্ন জালে তোপের মুখে পড়তে পারেন বেগম জিয়া।
খালেদা জিয়া ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেছেন ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ঠাঁই হবে না বাংলাদেশে।কিন্তু তার গত আমলেই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিদের উঠাবসার কথাও শোনা গেছে। দশ ট্রাক অস্ত্রের কথা তাদেরও জানা।উলু ধ্বনী জাতীয় মন্তব্য এবং ভারতের কাছে বাংলাদেশের বিক্রি হওয়ার প্রচারও যে এই পক্ষের তা হয়তো সাংবাদিকদের অজানা কথা নয়।
আওয়ামীলীগ বলছে ডাক পাওয়ার সাথে সাথে ছুটে গেলেন অথচ রামুতে যাওয়ার সময় পেলেন না!অতীতের 'ভুল বোঝাবুঝি' ও 'দূরত্বের' অবসান ঘটিয়ে 'সম্পর্কোন্নয়ন' করতেই মূলত ভারত সফরে যাচ্ছেন।খালেদা জিয়া পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যেতে চান।শালুকে চিনল গোপাল ঠাকুর ইত্যাদি।
তবে আর যাই হোক রাজনৈতিক বিচারে এই সফর বিএনপি-আওয়ামীলীগ নয় সকল জনগনের কাছে গুরুত্ব বহন করছে। তাই যে যে ভাবেই ভাবুন না কেন বিরোধী দলীয় নেত্রীর ভারত সফর ইতিবাচক।এই ধরণের সফর হোক কল্যাণময় সাধারন জনতার প্রত্যাশা এর চেয়ে বেশি আর কি হতে পারে।
