জলবায়ু পরিবর্তন: বাস্তুচ্যুতি কমাতে সম্মিলিত পদক্ষেপের আহ্বান

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূলতায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলির মধ্যে অন্যতম।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 Nov 2022, 03:29 PM
Updated : 14 Nov 2022, 03:29 PM

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গণ-অভিবাসন এবং বাস্তুচ্যুতি কমাতে সংঘবদ্ধ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান এসেছে জাতিসংঘের ২৭তম বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের (কপ২৭) এক আলোচনায়। 

মিশরের শারম আল-শেখে জলবায়ু সম্মেলনের ফাঁকে সোমবার ওই আলোচনা অনুষ্ঠান হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আইওএম। 

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অভিবাসন এবং বাস্তুচ্যুতির ঘটনা ঘটছে। বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে- জলবায়ু সৃষ্ট অভিবাসনসহ ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে।

“এ বিষয়ে যথাযথ মনোযোগ দেওয়া দরকার। বৈশ্বিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই জলবায়ু বিষয়ক প্যারিস চুক্তি স্মরণ করে স্বীকার করতে হবে যে জলবায়ু পরিবর্তন সারা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য একটি ভয়াবহ হুমকি। এই ভয়বহতা মোকাবেলায় ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলিকে অবশ্যই বিবেচনায় আনতে হবে।“ 

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, অভ্যন্তরীণ স্থানচ্যুতি বিষয়ক বৈশ্বিক প্রতিবেদন ২০২১ অনুসারে, ২০৫০ সালের মধ্যে সারা বিশ্বে আনুমানিক ২১৬ মিলিয়ন মানুষ জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাবে অভ্যন্তরীণ অভিবাসী হতে পারে। 

বন্যা, ঝড়-বৃষ্টি, নদীভাঙন ও লবণাক্ততার উচ্চ সংবেদনশীলতাসহ ১৬ কোটি জনসংখ্যা নিয়ে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূলতায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলির মধ্যে অন্যতম। 

একইসাথে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের অভিযোজন, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা এবং সেইসাথে বিভিন্ন আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক ফোরামে জনমত তৈরিতে এগিয়ে রয়েছে। 

আইওএমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ ভবিষ্যৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার জন্য প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য রয়েছে। 

“এটি পূরণের জন্য শক্তিশালী বৈশ্বিক পদক্ষেপের প্রয়োজন। সেই সাথে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জাতীয় নীতিগুলিতে জলবায়ু অভিবাসন বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া দরকার।” 

অনুষ্ঠানে আইওএম’র উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) উগোচি ড্যানিয়েল বলেছন, “আমরা জলবায়ু পরিবর্তন এবং অভিবাসনের মধ্যে ক্রমবর্ধিত আন্তঃসম্পর্ক লক্ষ্য করছি। এই অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। এটা মনে রাখতে হবে অভিবাসন একটি ঐচ্ছিক বিষয়, বাধ্য হয়ে প্রয়োজন নয়।” 

ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের (সিভিএফ) প্যাভিলিয়নে ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে মানব গতিশীলতা- অভিবাসন এবং জলবায়ু পদক্ষেপে ইতিবাচক ন্যারেটিভ গঠন’ শীর্ষক ওই আলোচনা অনুষ্ঠান হয়। 

সিভিএফের যৌথভাবে ওই আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। 

কপ-২৭ উপলক্ষে আয়োজিত এ বিশেষ সাইড-ইভেন্টে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে মানব গতিশীলতা বিষয়ক নানা বিষয়ে সরকারের উচ্চ-পর্যায়ের প্রতিনিধি, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, সুশীল সমাজ এবং বিশেষজ্ঞরা যোগ দেন। 

অনুষ্ঠানে উগান্ডা সরকারের পানি ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব আলফ্রেড ওকোত অকিদি ভার্চুয়ালি যোগদান করে বাস্তুচ্যুতি সংক্রান্ত কাম্পালা ঘোষণার প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলি তুলে ধরেন।

সিভিএফের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ম্যাথিউ ম্যাককিননের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ঘানার বিশেষ দূত এবং সিভিএফের সভাপতি হেনরি কোয়াবেনা, আইওএমের অভিবাসন জলবায়ু পদক্ষেপের বিশেষ দূত এবং আন্তঃসংসদীয় ইউনিয়নের সভাপতি ক্যারোলিন ডুমাস, কোস্টারিকা সরকারের পরিবেশ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অধীনে জলবায়ু পরিবর্তন অধিপ্তরের অভিযোজন বিষয়ক সমন্বয়ক ইভান দেলগাদো একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন। 

এ সময় সিয়েরা লিয়নের ফ্রিটাউনের মেয়র এবং মেয়র মাইগ্রেশন কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ইভোনি আকি-সয়্যারের ভিডিও বার্তাও প্রদর্শন করা হয়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক