Published : 07 Dec 2023, 06:45 PM
জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুদের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিতে সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার তাগিদ দিয়েছে ইউনিসেফ বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার গুলশানের ওয়েনিস্টন হোটেলে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার বিরুদ্ধে ১৬ দিনব্যাপী প্রচারের অংশ হিসেবে ইউএনএফপিএ, ইউনিসেফ ও ইউএন উইমেন যৌথভাবে একটি মেটা-বিশ্লেষণের প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
ইউনিসেফ বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ এমা ব্রিগহাম অনুষ্ঠানে বলেন, "জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিরা, যেসব বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন, সেগুলো মোকাবেলায় একটি সমন্বিত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
“নারী ও শিশুদের ভালোভাবে বেঁচে থাকা ও পূর্ণ বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সেবাগুলো যাতে সময়মত পায়, তা নিশ্চিত করতে আসুন সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করে তুলি। প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলি।"
নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারকে সহযোগিতার লক্ষ্যে জাতিসংঘের তিনটি সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টায় ‘ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা ও সহায়তা: জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের জন্য অপরিহার্য সেবা’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের অপরিহার্য সেবা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য, পুলিশ, বিচার বিভাগ এবং সামাজিক পরিষেবার সাথে ও ভুক্তভোগীদের সঠিক যোগসূত্র স্থাপনের জন্য গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী এবং ট্রমার মধ্যে থাকা নারী ও শিশুদের সেবা নিশ্চিত করতে, কিশোর-কিশোরীরা যেন সহজে ও বিনা সঙ্কোচে সহায়তা চাইতে পারে, সে বিষয়টিও নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়।
অনুষ্ঠানে ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ মাসাকি ওয়াতাবে বলেন, "সহিংসতার শিকার নারী ও মেয়েদের জন্য অপরিহার্য সেবা প্যাকেজ (ইএসপি) হল জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য, সামাজিক সেবা, বিচার ও পুলিশ– এই চার গুরুত্বপূর্ণ খাত নিয়ে জাতীয় ব্যবস্থাকে সমর্থন করা; যা জাতিসংঘের একটি বৈশ্বিক নির্দেশিকা।
“বাংলাদেশে ইএসপি পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য চিহ্নিত ঘাটতিগুলো পূরণ করতে সরকারের প্রচেষ্টোয় সহায়তা প্রদানে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই সবকিছু অর্জনের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ও সুশীল সমাজের সংগঠন এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
সহিংসতা প্রতিরোধ প্রচেষ্টায় বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে ইউএন উইমেন প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর শ্রাবনা দত্ত বলেন, "নারী ও মেয়েদের প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ জোরদার করতে সামগ্রিক ও সমন্বিত উপায়ে কাজ করা এবং সকল স্টেকহোল্ডারদের সম্পৃক্ত করা অপরিহার্য।
“সরকার, সুশীল সমাজের অংশীদার এবং উন্নয়ন অংশীদারদের একসাথে জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে।”
প্রতিবেদনে সামাজিক সেবায় বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি এমন একটি দল গঠনের কথা তুলে ধরা হয়েছে, যারা কমিউনিটির সবার কাছে পৌঁছানো, সচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের মনো-সামাজিক সমর্থন প্রদানে সক্ষম হবে।