১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

স্ত্রীর সঙ্গে ‘সম্পর্কে জড়াতে’ চাওয়ায় বন্ধুকে গলা কেটে হত্যা

পাঁচ দিন পর ঢাকা ও সিলেট থেকে চার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Apr 2023, 08:05 PM

Updated : 10 Apr 2023, 08:05 PM

স্ত্রীর প্রতি আকর্ষণের কথা প্রকাশ করায় ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুকে অন্য বন্ধুদের নিয়ে গলা কেটে হত্যার বিষয়টি সামনে এসেছে পুলিশের হাতে চারজন গ্রেপ্তারের পর।

পাঁচ দিন আগে মোহাম্মদপুরের বসিলার কাছে বুড়িগঙ্গা নদীতে উদ্ধার করা নবী হোসেন ওরফে নূর নবীর (৩২) গলাকাটা লাশের তদন্তে নেমে সিসি টিভি ফুটেজের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ হত্যাকাণ্ডের সূত্র পায় মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। পরে গ্রেপ্তারের পর এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বন্ধুদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি পরিষ্কার হয় পুলিশের কাছে।

এরপর গত রোববার ঢাকা ও সিলেট থেকে নবীর চার বন্ধুকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার আজিমুল হক। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলেও জানান তিনি।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মহিদুল ইসলাম মাহি (২৮), কবির হোসেন (২৫), ফয়সল আহমেদ দীপ (৩০) ও ইমরান আহমেদ (২০)।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকাণ্ডের শিকার নবী হোসেন ওরফে নূর নবী (৩২) ও কবির হোসেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। কবিরের স্ত্রীর সঙ্গে নবী ‘সম্পর্ক’ করতে চাইলে কবির ক্ষিপ্ত হয়ে অন্য বন্ধুদের নিয়ে ‘পরিকল্পিতভাবে’ এ খুন করে।

গত ৫ এপ্রিল দুপুরে বসিলা ৪০ ফিট রোডের শেষ মাথায় বসিলা গার্ডেন সিটির অংশে বুড়িগঙ্গা নদীতে গলাকাটা একটি মৃতদেহ পাওয়া যায়। অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করা হলেও বিকালে আলী হোসেন নামে এক ব্যক্তি এটি তার ভাই নবী শনাক্ত করেন।

এ ঘটনায় নৌপুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করলেও ৮ এপ্রিল মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়।

উপ কমিশনার আজিমুল জানান, নবী একজন লেগুনা চালক। সাভার এলকায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকতেন। চালক হলেও মাঝে মধ্যে মোহাম্মদপুর তিন রাস্তা মোড়ে লেগুনার লাইনম্যানের কাজ করতেন।

তিনি জানান, মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত ‍উপ কমিশনার মৃত্যুঞ্জয় দে সজলকে এ মামলার তদারকির দায়িত্ব দেওয়ার পর মোহাম্মদপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) তোফাজ্জল হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল গঠন করা হয়। এ দলের সদস্যরা শতাধিক সিটিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে সেগুলোতে সবশেষ নবীকে কয়েকজনের সঙ্গে দেখতে পায়।

Image

নবী হোসেন ওরফে নূর নবী।

“এই সূত্র ধরে এগোতে গিয়ে হত্যাকারীদের পুরোপুরি শনাক্ত করা সম্ভব হয়,” বলে জানান তিনি।

এরপর তাদের গ্রেপ্তারে পরিদর্শক তোফাজ্জলের নেতৃত্বে থানা পুলিশের দলটি টানা ৪৮ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে কেরানীগঞ্জ থেকে মাহি, বসিলা থেকে দীপু, পল্লবী থেকে কবির এবং সিলেটের ওসমানীনগর থেকে ইমরানকে গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ পরির্দশক তোফাজ্জল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নবীকে হত্যার দায় স্বীকার করে বলেছে- কবিরের স্ত্রীর প্রতি নবীর কুদৃষ্টি ছিল।

এ দুজন খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু জানিয়ে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “তারা অনেক কিছু নিজেদের মধ্যে শেয়ার করত। একবার নবী কথার ফাঁকে কবিরের কাছে তার স্ত্রীকে চেয়ে বলে ‘আমরা সবই তো একসাথে চলাফেরা করি তোর বৌকে আমাকে দে।’ এতেই কবির ক্ষিপ্ত হয় এবং হত্যার পরিকল্পনা করে।”

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কবির অপর বন্ধু মাহি, দীপু ও ইমরানকে সাথে নিয়ে নবীকে ডেকে নেয় এবং মদ খাওয়ার কথা বলে বছিলায় নদীর পাড়ে ওয়াকওয়েতে নিয়ে যায়। সেখানে ঘুমের বড়ি মেশানো মদ তাকে পান করতে দেয়। এক সময় অচেতন হয়ে গেলে নবীকে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে।

“পরে নবীকে ওয়াকওয়ের নিচে নিয়ে গিয়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে এবং নদীতে ফেলে দেয়।”