রিটকারীর অভিযোগ ছিল, ভারতে গিয়ে মোমেন যা বলেছেন, তাতে শপথ ভঙ্গ ও সংবিধান লঙ্ঘন হয়েছে।
Published : 21 Nov 2022, 12:58 PM
শপথ ভঙ্গ এবং সংবিধান লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে এ কে আব্দুল মোমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে যে রিট আবেদন হয়েছিল, তা খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট।
বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাই কোর্ট বেঞ্চ সোমবার এ আদেশ দেয়।
আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ; সঙ্গে ছিলেন এরশাদ হোসেন রাশেদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়।
মোমেন কোন কর্তৃত্ববলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদে আছেন, তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গত ৫ সেপ্টেম্বর এই রিট মামলা করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. এরশাদ হোসেন রাশেদের পক্ষে আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান আহাদ আবেদনটি করেন।
গত ১৮ অগাস্ট চট্টগ্রামে এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমি ভারতে গিয়ে বলেছি, শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে হবে … শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখার জন্য যা যা করা দরকার, আমি ভারতবর্ষের সরকারকে সেটা অনুরোধ করেছি।”
এ নিয়ে আলোচনা শুরু হলে মোমেন দাবি করেন, যে কথা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তিনি ভারতে গিয়ে তেমন কিছু বলেননি। তবে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয় সে সময়।
সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের অভিযোগ করেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই বক্তব্য দেশের সার্বভৌমত্বকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ করেছে। বিএনপির পক্ষ থেকেও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দাবি করা হয়।
এরপর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, মোমেনের ওই বক্তব্য তার ‘নিজস্ব’, সরকার কাউকে এরকম কোনো দায়িত্ব দেয়নি।
এর মধ্যেই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের কারণে ‘শপথ ভঙ্গ এবং সংবিধান লংঘনের’ অভিযোগে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে ২১ অগাস্ট রেজিস্ট্রি ডাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঠিকানায় উকিল নোটিস পাঠান আইনজীবী এরশাদ হোসেন রাশেদ।
সেই নোটিসে সাড়া না পেয়ে পরে তিনি এই রিট আবেদন করেন। শুনানি শেষে সোমবার তা খারিজ হয়ে গেল।
মোমেন কেন এখনও পররাষ্ট্রমন্ত্রী? আদেশ চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে উকিল নোটিস