আরও ৯ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার
ক্রয় কমিটির সভায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের দুটি ক্রয় চুক্তির ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাবেও সায় মিলেছে।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের মধ্যে ‘ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেডের’ কাছ থেকে ৯ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
অর্থ মন্ত্রণালয় বুধবার বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত এই সরবরাহের দর ধরা হয়েছে জেকেএম সূচক থেকে প্রতি এমএমবিটিইউতে ০.১০ ডলার কম। ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেড হল সিঙ্গাপুরভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান।
দুই পক্ষের সম্মতিতে কার্গোর সংখ্যা কমবেশি হতে পারে বলে মঙ্গলবার কমিটির ৪৯তম সভায় এ সিদ্ধান্তের তথ্য দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
একই দিন অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২০২৬ সালের ৩৩তম সভায় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের দুটি এলএনজি ক্রয় প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।
প্রথম প্রস্তাবে চেনিয়েরে মার্কেটিং ইন্টারন্যাশনাল এলএলপি ও ট্রাফিগুরা পিটিই লিমিটেড এর দেওয়া সরবরাহ প্রস্তাব জি টু জি পদ্ধতিতে প্রক্রিয়াকরণের কথা বলা হয়েছে।
এছাড়াও দ্বিতীয় প্রস্তাবে রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজন ও জনস্বার্থে দেশে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে বিপি সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড, সাহারা এনার্জি রিসোর্স লিমিটেড এবং শেল ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডিং মিডল ইস্ট লিমিটেড এফজেডই থেকে এলএনজি কেনার অনুমোদন দিয়েছে কমিটি।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের এসব সিদ্ধান্তের বাইরে ক্রয় কমিটির সভায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের দুটি ক্রয় চুক্তির ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাবে সায় দিয়েছে কমিটি।
এর মধ্যে, নির্মাণ চুক্তির মূল মূল্য ছিল প্রায় ২০ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা। ভেরিয়েশনে ৩৬০ কোটি ৬৫ লাখ টাকার বেশি যোগ হয়ে তা প্রায় ২০ হাজার ৯৪৯ কোটি টাকায় দাঁড়াবে, যা মূল মূল্যের চেয়ে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি।
এ প্রকল্পের কাজ করছে মিতসুবিশি করপোরেশন, ফুজিতা করপোরেশন (জাপান) ও স্যামসাং সি অ্যান্ড টি (কোরিয়া) সমন্বিত অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম।
এছাড়াও পরামর্শক সেবার চুক্তিতে ব্যয় বৃদ্ধির হার অনেক বেশি। মূল চুক্তির মূল্য ছিল প্রায় ৭৭২ কোটি টাকা। ভেরিয়েশন ৪০৫ কোটি টাকা যোগ হয়ে সংশোধিত মূল্য দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ হাজার ১৭৭ কোটি টাকা, অর্থাৎ ৫২ দশমিক ৪৮ শতাংশ বেশি।
এতে কাজ করছে নিপ্পন কোয়ি, ওরিয়েন্টাল কনসালট্যান্টস গ্লোবাল (জাপান), সিপিজি কনসালট্যান্টস (সিঙ্গাপুর) ও ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসালট্যান্টস (বাংলাদেশ) সমন্বিত যৌথ উদ্যোগ।
এদিকে, ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের নির্মান কাজ ৯৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ নির্মাণ শেষ হয়েছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর এ টার্মিনাল আংশিকভাবে চালুরও ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
কিন্তু এর মধ্যেই আরও একবার প্রকল্পটির মেয়াদ ও ব্যয় বাড়িয়ে অনুমোদন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন একনেক।
সেখানে শূন্য দশমিক সাত শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার আগেই ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ৮৪৭ কোটি টাকা। এছাড়া প্রকল্পের মেয়াদ বেড়েছে আরও এক বছর।
সব মিলে তৃতীয় সংশোধনের পর প্রকল্পটির মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ২১৩ কোটি ৯ লাখ ৬৪ হাজার টাকা, মেয়াদ বেড়েছে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। সামগ্রিকভাবে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে ৮৪৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
এদিনের ক্রয় কমিটির সভায় মেঘনা সুগার রিফাইনারি লিমিটেডের কাছ থেকে ৫ হাজার মেট্রিক টন করে দুই দফায় চিনি, সৌদি আরবের সাবিক অ্যাগ্রি-নিউট্রিয়েন্টস থেকে ৪০ হাজার টন এবং ইউএইর ফার্টিগ্লোব থেকে ৪২ হাজার টন ইউরিয়া সার, রাশিয়ার প্রোডিনটর্গ ও কানাডার সিসিসি থেকে এমওপি এবং সৌদি আরবের মা'আদেন থেকে ডিএপি সার আমদানির প্রস্তাবে অনুমোদন মেলে।
