সাঈদীর মামলার রায় যে কোনো দিন

দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানির পর ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুবিধাজনক সময়ে রায় দেয়া হবে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 Dec 2012, 04:54 AM
Updated : 6 Dec 2012, 04:54 AM
ঢাকা, ডিসেম্বর ০৬ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় হবে যে কোনো দিন।
বৃহস্পতিবার এ মামলায় দুই পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিচারপতি নিজামুল হক নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ কথা জানায়।
ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। বিষয়টি এখন আদালতের বিবেচনায়। আদালত সুবিধাজনক সময়ে রায় ঘোষণা করবে।
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নয়জনের বিচার শুরু হলেও সাঈদীর মামলাই চূড়ান্ত নিষ্পত্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে।
আগে একবার কথা বলার অনুমতি না দিলেও বৃহস্পতিবার সাঈদীকে কথা বলার অনুমতি দেয় ট্রাইব্যুনাল।
সাঈদীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম তার তার যুক্তি উপস্থাপন শেষে তাকে পাঁচ মিনিট কথা বলতে দেয়ার জন্য ট্রাইব্যুনালের কাছে আবেদন জানান।
তখন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের আগের আবেদনে অনুমতি না দেয়ার কথা মনে করিয়ে দেন।
মিজানুল ইসলাম বলেন, “আমার বিশ্বাস আদালত একটু দয়ালু হতে পারেন।”
এসময় কাঠগড়ায় থাকা সাঈদী বলেন, “আমার আইনজীবী পাঁচ মিনিট সময় চেয়েছেন। কিন্তু আমি এত সময় নেব না। আমাকে শুধু দুই মিনিট সময় দিন।”
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান তখন আইনজীবীর উদ্দেশে বলেন, “আপনি কি গ্যারান্টি দিচ্ছেন যে উনি কাউকে কটাক্ষ করবেন না বা আদালতের মর্যাদা রক্ষা করে কথা বলবেন?”
আসামি পক্ষের আইনজীবী ইঙ্গিত দেন যে, তার মক্কেল ‘ঠিকভাবেই’ কথা বলবেন।
কিন্তু তার কথা বলার আগেই সাঈদী বলেন, “আমি ওসব কিছুই বলব না। আমি যা বলব তাতে আপনাদের বিচার কাজে সাহায্যই হবে।”
এরপর সাঈদী বলেন, “এই মামলা হবে দুই পর্বে। তার প্রথম পর্ব হচ্ছে আজকে যেখানে আমি আসামি আর আপনারা বিচারক।
“কিন্তু আপনারা যদি সুবিচার না করেন তাহলে এর দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে হাশরের ময়দানে। সেখানে বিচার করবেন আল্লাহ পাক রাব্বুল আল আমীন আর আমি হব বাদী। আর যারা এখানে এই মিথ্যা সাজিয়েছেন তারা সেখানে থাকবে আসামীর কাঠগড়ায়।”
সাঈদী বলেন, তাকে ‘হয়রানি’ হাজার হাজার সমর্থককে ব্যথা দিয়েছে এবং তারা দুঃখে চোখের পানি ফেলছে।
“আমার ভক্তকূল অনেক চোখের পানি ফেলেছেন। তাদের একেক ফোঁটা চোখের পানি বহ্নিশিখা হয়ে যারা আমার বিরূদ্ধে এই মিথ্যাচার করছেন, তাদের দোযখের আগুন হয়ে পোড়াবে।”
“আমি দোয়া করি তাদেরকে আল্লাহতায়ালা হেদায়েত করুন।”
ওয়াজের জন্য সুপরিচিত সাঈদীর কথা শেষ হওয়ার পর আদালতে উপস্থিত তার সহযোগী, পরিবারের সদস্য ও সমর্থকরা ‘আমিন’ বলে ওঠেন।
বিচারপতি নিজামুল হক বলেন, “সর্বশক্তিমান বিচারকদের কাঁধে এই গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছেন।
“এবং আমাদের কাছে যে প্রমাণ ও নথিপত্র আছে, তার ভিত্তিতেই ন্যায়বিচার করব।”
আদালতে সমবেতদের উদ্দেশে বিচারক বলেন, “আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, আমাদের কাছে থাকা কাগজপত্রের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেব। এটা যে কোনো এক পক্ষকে হতাশ করতে পারে। কিন্তু আমরা সুবিচারই করব।”
একাত্তরে ৩ হাজারেরও বেশি নিরস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা বা হত্যায় সহযোগিতা, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ভাংচুর ও ধর্মান্তরে বাধ্য করাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের ২০টি ঘটনায় গত বছর ৩ অক্টোবর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে সাঈদীর বিচার শুরু হয়।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াত নেতাদের মধ্যে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধেই সবার আগে অভিযোগ গঠন হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় গত বছরের ৭ ডিসেম্বর। তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনসহ মোট ২৮ জন রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্য দেন। এছাড়া তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেয়া ১৫ সাক্ষীর জবানবন্দি ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্য হিসাবে গ্রহণ করে। আসামিপক্ষে ১৭ জনের সাফাই সাক্ষ্য শেষ হয় গত ২৩ অক্টোবর।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পিরোজপুরে হত্যা, লুণ্ঠন, নির্যাতনসহ বিভিন্ন অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯ জুন গ্রেপ্তার করা হয় সাবেক সংসদ সদস্য সাঈদীকে। পরের বছর ১৪ই জুলাই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।
সাঈদী ছাড়াও জামায়াতের সাবেক ও বর্তমান আমিরসহ সাত শীর্ষ নেতা এবং বিএনপির দুই নেতার বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/টিএ/জেকে/এইচএএইচ/২৩৩০ ঘ.
তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক