০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

রাত ১১টার মধ্যে বার বন্ধের অভিন্ন নীতিমালা চেয়ে রিট আবেদন

অনুমোদনহীন ডিজে অনুষ্ঠান বা অন্যান্য বিনোদনমূলক কার্যক্রমের বিষয়ে অভিযোগ তদন্ত।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 01 Oct 2026, 07:39 PM

Updated : 01 Oct 2026, 07:39 PM

সারাদেশে রাত ১১টার মধ্যে বার ও মদ পরিবেশন বন্ধে অভিন্ন নীতিমালা করার বিষয়টি বিবেচনার নির্দেশনা চেয়ে হাই কোর্টে রিট আবেদন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু নিজে জনস্বার্থে এ রিট আবেদন করেছেন।

রিট আবেদনে অবৈধ বার, অবৈধভাবে মদ বিক্রি, পারমিট লঙ্ঘন, পাচার ও শুল্ক ফাঁকির বিষয়ে স্বচ্ছ জনঅভিযোগ ব্যবস্থা চালু বা শক্তিশালী করার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে।

আবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি আদেশে যেসব বারের ক্ষেত্রে রাত ১১টায় বন্ধের নিয়ম রয়েছে তা কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে। সারাদেশে বার বন্ধের অভিন্ন কোনো সময়সীমা না থাকলে রাত ১১টার মধ্যে বার ও মদ পরিবেশন বন্ধের অভিন্ন নীতিমালা করা যায় কি না, তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সুরক্ষা সেবা বিভাগকে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আদালত যেন একটি নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়, সে আবেদনও করা হয়েছে।

রিট আবেদনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মহাপরিচালক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং ঢাকা কাস্টমস হাউসের কমিশনারকে বিবাদী করা হয়েছে।

আইনজীবী জুলফিকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ওয়্যারহাউস থেকে মদ কিনে কর ফাঁকি দিয়ে বিক্রির প্রবণতা রোধ, পারমিটবিহীন ব্যক্তিদের মধ্যে মদ বিতরণ বন্ধ এবং রাত ১১টার মধ্যে বারগুলো বন্ধের অভিন্ন নীতিমালা কার্যকর করার নির্দেশনা চেয়ে এই আবেদন করা হয়েছে।”

রিট আবেদনে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, পারমিট, অনুমতি বা অনুমোদন ছাড়া বার বা মদ পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠান পরিচালনা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। কোনো হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ক্লাব বা বিনোদন সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানে অনুমোদন থাকলেও আইন অনুযায়ী আলাদা অ্যালকোহল লাইসেন্স বা অনুমতির প্রয়োজন হলে তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। বৈধ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সরকারি রেকর্ড প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও নিয়মিত হালনাগাদ এবং এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত ও ঝুঁকিভিত্তিক পরিদর্শনের কথাও বলা হয়েছে।

আবেদনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ঢাকা কাস্টমস হাউসের কমিশনারকে সন্দেহভাজন পাচার, অবৈধভাবে আমদানি বা শুল্ক পরিশোধ না করা মদের বিষয়ে কাস্টমস ঘোষণা, বৈধ আমদানি নথি, ইনভয়েস, শুল্ক পরিশোধের নথি, মজুদের কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই ও তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এছাড়া অনুমোদনহীন ডিজে অনুষ্ঠান বা অন্যান্য বিনোদনমূলক কার্যক্রমের বিষয়ে অভিযোগ তদন্ত এবং আইন, অনুমতি, লাইসেন্সের শর্ত বা জনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিধান লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।