স্থানীয় নির্বাচনে নারী প্রার্থী বাড়াতে জনসচেনতার তাগিদ সিইসির
“শুধু ভোটার হিসেবে নয়, প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারসহ নির্বাচনের বিভিন্ন পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।“
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারী প্রার্থী বাড়াতে জনসচেতনতা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।
তিনি বলেছেন, “আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। কারণ এ নির্বাচনে প্রার্থীরাও স্থানীয়; তারা ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে এবং ভোটার অংশগ্রহণও বেড়ে যায়। স্থানীয় নির্বাচনের ইতিহাস বলছে, ভোটারের অংশগ্রহণ বেশি হলেও নারী প্রার্থীর খুব নগন্য।
“…পরিবর্তনের বিরুদ্ধে মানুষ; পরিবর্তন করতে গেলে আমরা ১০ বার চিন্তা করি। সুতরাং এখানে যদি কিছু করতে চান, এ চেঞ্জ যদি আনতে চান—এটা খুব কঠিন।”
সোমবার নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) খসড়া লিঙ্গসমতা কৌশল নিয়ে এক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
আগামী বছরের শুরুতে স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন রয়েছে। এ লক্ষ্যে ভোটার তালিকাও হালনাগাদ হয়েছে। বর্তমানে ১২ কোটি ৮৭ লাখেরও বেশি ভোটার রয়েছে, যাতে নারী-পুরুষের হার প্রায় সমান।
নাসির উদ্দিন বলেন, “শুধু ভোটার হিসেবে নয়, প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারসহ নির্বাচনের বিভিন্ন পর্যায়ে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী হিসেবেও নারীদের স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে।
“দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে হলে সবখানে দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৫০ শতাংশ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। জনগোষ্ঠীর অর্ধেক রেখে আমরা গণতন্ত্র সুসংহত করতে পারব না। ক্রেডিবল গণতন্ত্রের জন্য নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।”
আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সিইসি বলেন, এ আসনে নারী ভোটারের সংখ্যা পুরুষের চেয়ে বেশি। ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রমের মাধ্যমে এমন অবস্থায় পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ জন এবং নারী ভোটার দুই লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ জন; আর হিজড়া ৪ জন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
