Published : 11 Apr 2023, 06:27 PM
দেশে ভালো মানের শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো গেলে চাকরিতে মায়েদের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে মনে করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা।
তিনি বলেছেন, "বাংলাদেশে যৌথ পরিবার প্রথা ব্যবস্থা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে এবং একক পরিবারের সংখ্যা দেশে প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনেক মা যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কর্মে যোগ দেয় না। ভাল মানের ডে-কেয়ার হলে তারা চাকরিতে যোগ দিবে। তার শিশুর জন্য মানসম্মত উপযুক্ত স্থানে নিরাপদ ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যার লক্ষ্যে শিশুর দিবাকালীন অবস্থানের জন্য শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
“মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এসকল বাস্তবতা বিবেচনা করে কর্মজীবী মায়েদের নিশ্চিন্তে কাজে যাওয়া এবং শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে ‘শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র আইন, ২০২১’ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে।"
মঙ্গলবার পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ-এসবির প্রধান কার্যালয়ের শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা ববলেন।
ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা বলেন, "ডে-কেয়ার সেন্টার কর্মজীবি মায়েদের নিশ্চিন্তে কর্মক্ষেত্রের সুযোগ সৃষ্টি করছে। আজ এখানে অনেক মা উপস্থিত আছেন।
“এই মায়েদের উপস্থিতিই প্রমাণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সু্যোগ্য নেতৃত্ব ও কর্ম পরিকল্পনায় গত দেড় দশকে এদেশের নারীদের-মায়েদের ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এসব কর্মজীবী মায়েদের জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের এ সকল ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে।”
সরকার শিশুদের প্রতি ‘যথেষ্ট’ সংবেদনশীল মন্তব্য করে পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, "তাদের সুষ্ঠু বিকাশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। বিশেষ করে কর্মজীবী মায়েদের সন্তানদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র।
"মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন। স্মার্ট বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন স্মার্ট সিটিজেন। স্মার্ট সিটিজেন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সর্বাগ্রে প্রয়োজন শিশুদের যথাযথ বিকাশ নিশ্চিত করা। তাদের সঠিকভাবে বেড়ে উঠা নিশ্চিত করতে পারলে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা সহজ হবে।”
সরকারি ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে যাতে দিবাযত্নের সুবিধা রাখা হয়, সেজন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।
এসবি প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, "দেশকে এগিয়ে নিতে এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে নারী-পুরুষ উভয়ের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। অফিস ও কর্মস্থলে ডে-কেয়ার সেন্টারের সুধিধা থাকলে নারীরা নিশ্চিন্তে দায়িত্ব পালন করতে পারবে। শিশুর সঠিক বিকাশ ও শিশুর উন্নয়নে বিনিয়োগের মাধ্যমে অপরাধ প্রতিরোধ করা যায়।"
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. হাসানুজ্জামান কল্লোল বক্তব্য, প্রকল্প পরিচালক শবনম মোস্তারী, এসবির ডিআইজি আমেনা বেগম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদা আমাতুল্লা।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদা পারভীন, অতিরিক্ত সচিব রওশন আরা বেগম অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।