আইনজীবীদের সম্পূরক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই: আইনমন্ত্রী
সব কোম্পানিতে বাধ্যতামূলক একজন আইনজীবী রাখতে কোম্পানি আইনের পরিবর্তনে বাণিজ্যমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানান মো. আসাদুজ্জামান।
আইন পেশার পাশাপাশি আইনজীবীদের জন্য সম্পূরক কর্মসংস্থানের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তথ্য দিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, “আইনজীবীদের জন্য আমরা সম্পূরক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই। আমি গত দুই সপ্তাহ আগে আমাদের বাণিজ্যমন্ত্রীকে বলেছি, প্রত্যেকটা কোম্পানির একজন করে বাধ্যতামূলক অডিটর লাগে অ্যাকাউন্টস দেখার জন্য। আমি বলেছি, প্রত্যেকটা কোম্পানির একজন করে বাধ্যতামূলক আইনজীবী থাকতে হবে। বলেছি কোম্পানি আইনের পরিবর্তন করে নেন। আমি চেক করে দেব।
রাজধানীর পুরান ঢাকায় নিম্ন আদালত প্রাঙ্গণে শুক্রবার ঢাকা আইনজীবী সমিতির আয়োজনে নবীন আইনজীবীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসাদুজ্জামান বলেন, “আইনজীবীদের বিকল্প কর্মসংস্থানের চিন্তা আমরা করছি কিন্তু আপনাদেরকে চিন্তা করতে হবে জ্ঞান কিভাবে অর্জন করবেন। আপনি কিভাবে জ্ঞানে গরিমায় মেধা প্রজ্ঞায় শিক্ষা দীক্ষায় মানে মননে নিজেকে ঋদ্ধ করবেন। আমাদের লক্ষ্য এই পেশাকে কিভাবে আরও সামনে এগিয়ে নেওয়া যায়। ইতিমধ্যেই আইন মন্ত্রণালয় থেকে ঘোষণা করেছি, যে আইনজীবীরা প্রশিক্ষণ পায় না, আপনাদের থেকে শুরু করে ৮০ হাজার আইনজীবীর জন্য টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত, রুপসা থেকে পাথুরিয়া পর্যন্ত যত আইনজীবী আছেন তাদের প্রশিক্ষণের জন্য। এ বছরে আমি ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছি। এটা আমাদের অঙ্গীকার এই পেশাকে আমরা আরও সামনে নিতে চাই।”
নবীন আইনজীবীদের উদ্দ্যেশ্যে মন্ত্রী বলেন, “আপনারা যারা এই পেশায় এসেছেন তাদের বলব, ছোট বারান্দার আইনজীবী হওয়ার চেষ্টা করবেন না। সবসময় বড় বারান্দার আইনজীবী হিসাবে থাকবেন। ছোট বারান্দা হল জজ সাহেবদের বারান্দা। ওই বারান্দাতে ঢুকে জজ সাহেবের সাথে লেনদেনের দিকে যাবেন না।
“আমরা আপনাদের জন্য যেমন পেশাগত উৎকর্ষতা সাধনে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পথ খুঁজছি। একইসঙ্গে সমস্ত অন্ধগলি আমরা বন্ধ করতে চাচ্ছি। কারণ আমাদের সরকার পরিবর্তনের সরকার। একটি সুশাসন দেওয়ার প্রত্যয় জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে এই সরকার। একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আইনের শাসনের বাংলাদেশ গড়তে দুর্নীতি মুক্ত বিচার ব্যবস্থা করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।”
অনুষ্ঠান চলাকালে আইনজীবীরা সুরক্ষা আইনের দাবি তুললে মন্ত্রী বলেন, “আইনজীবী সুরক্ষা আইন অবশ্যই চাই। কিন্তু সেই সুরক্ষা আইন করার আগে আপনারা দাবি তোলেন বার কাউন্সিলের আইনজীবীদের প্রফেশনাল মিস কন্ডাক্টের জন্য যে ট্রাইব্যুনালগুলো আছে, সেই ট্রাইব্যুনালগুলোকে আরও গতিশীল করতে হবে।
“দুই একজন আইনজীবীর কারণে আইনজীবী সমাজের বিরুদ্ধে একটি নেতিবাচক ধারণা সমাজে তৈরি হয়। দুই একজনের কারণে আইনজীবীদের কাছে কেউ বাসা ভাড়া দিতে চায় না, মেয়ে তো দূরের কথা। সবার আগে এই জায়গাটা চিন্তা করেন, আমাদের বার কাউন্সিলের ট্রাইব্যুনালকে কিভাবে শক্তিশালী করতে পারি। যদি আমরা সেটা করতে পারি, সমাজ থেকেই দাবি উঠে আসবে যে আইনজীবীদের সুরক্ষা প্রয়োজন।”
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সহ সাধারণ সম্পাদক ইলতুৎমিশ সওদাগর এ্যানির সঞ্চালনায় ও অফিস সেক্রেটারি আবজাল হোসাইন মৃধার তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা -৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, ঢাকার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ রফিকুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির, ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন, ঢাকার ভারপ্রাপ্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুবুর রহমান, ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ইকবাল হোসেন, ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কালাম খান।
