একটা নেতিবাচক ঘটনার জন্য ভালো কাজগুলো তুলে ধরা হয় না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
“লাখ লাখ লোকের অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে দুয়েকটা সমস্যা হয়। কিন্তু একটা নেতিবাচক ঘটনার জন্য বাকি ভালো কাজগুলো তুলে ধরা হয় না।”
সংবাদে ‘নেতিবাচক খবরগুলোই’ বেশি উঠে আসে মন্তব্য করে সাংবাদিকদের প্রতি ‘উষ্মা’ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক।
তিনি বলেছেন, “লাখ লাখ লোকের অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে দুয়েকটা সমস্যা হয়। কিন্তু একটা নেতিবাচক ঘটনার জন্য বাকি ভালো কাজগুলো তুলে ধরা হয় না।
“নিউজের বিষয় হল নেগেটিভ নিউজ ইজ নিউজ। পজেটিভ নিউজ ইজ নো নিউজ। তো এই ধরনের বিকৃত মনোভাব থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে। পজেটিভ নিউজও নিউজ।”
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের অন্তঃবিভাগ ও অস্ত্রোপচার কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সামনে এম মন্তব্য করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
সম্প্রতি ঢাকার সেন্ট্রাল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর প্রথমে নবজাতক এবং পরে মা মাহবুবা রহমান আঁখির মৃত্যু হয়। ওই ঘটনায় চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ উঠলে সারাদেশে আলোড়ন তৈরি হয়। নবজাতক ও মায়ের মৃত্যু নিয়ে সেন্ট্রাল হাসপাতালের চিকিৎসক অধ্যাপক সংযুক্তা সাহা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একে অপরের ওপর দোষ চাপায়।
বুধবার সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “পজেটিভ নিউজে প্রতিষ্ঠানের ইমেজ বাড়ে, দেশের ইমেজ বাড়ে, সরকারের ইমেজ বাড়ে। কিন্তু আমরা ইমেজটাকে নষ্ট করার জন্য ব্যস্ত থাকি। কিছু গোষ্ঠী আছে যারা নিজেদের ব্যবসার জন্য এই জিনিসগুলো করে থাকে।”
সারা দেশে ডেঙ্গুর বিস্তারের মধ্যে এই রোগের বাহক এইডিস মশা নিধনে সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান মন্ত্রী।
ভার্চুয়ালি ওই অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, এখন প্রতিদিনি হাসপাতালে রোগী আসছে। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছে প্রায় দেড় হাজারের বেশি রোগী। আক্রান্ত এবং মৃত্যু থামাতেই মশা নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।
“এছাড়া প্রতিদিনই কয়েকশ রোগী ভর্তি হয়। এদিকে আপনাদের নজর রাখতে হবে। যারা মশা নিধন করেন, মশা মারার দায়িত্বে আছেন তাদের আহ্বান করব আপনারা আরও একটু জোরদার করেন আপনাদের অ্যাক্টিভিটি। কারণ অনেকে মারা যাচ্ছে, অনেকে আক্রান্ত হচ্ছে। আমাদের স্বাস্থ্য সেবা আমরা দিয়ে যাচ্ছি, হাসপাতালগুলো ভরে যাচ্ছে।”
বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই এবার ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৮৭১ জনে। মৃত্যু হয়েছে ৬১ জনের।
মঙ্গলবার একদিনেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৭৮ জন, মৃত্যু হয়েছ পাঁচজনের। একদিনে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু এবং হাসপাতালে ভর্তির এই সংখ্যা এ বছর সর্বোচ্চ।
দেশেই বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত করতে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল চালু করা হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।
তিনি বলেন, “হাসপাতালটি নিয়ে যেন আমরা গর্ব করতে পারি। মানুষকে যেন চিকিৎসার জন্য আর ভারতসহ অন্যান্য দেশে যেতে না হয়।”
দেশের প্রথম এই সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল গত বছরের সেপ্টেম্বরে উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৮ সালে এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। সে সময় বলা হয়েছিল, ১৩ তলা এই হাসপাতালের এক ছাদের নিচেই মিলবে সবধরনের স্বাস্থ্য সেবা, যা হবে বাংলাদেশে প্রথম।
বিএসএমএমইউ এর সেসময়ের উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া বলেছিলেন, বাংলাদেশে কম খরচে সর্বাধুনিক চিকিৎসাসেবার মডেল হবে এক হাজার শয্যার এই হাসপাতাল। এটা হবে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালের মত, যেখানে এক ছাদের নিচে মিলবে সব সেবা।
বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এবিএম খুরশীদ আলম, স্বাস্থ্যশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. মো. টিটু মিয়াসহ চিকিৎসকরা বুধবারের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন-
