Published : 20 Dec 2023, 09:05 PM
আগের দিনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের রেশ শেষ না হতেই এবার ঢাকায় একটি ট্রেনের বগিতে ধোঁয়া দেখে যাত্রীদের মধ্যে আগুন নিয়ে আতঙ্ক দেখা দেয়।
বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকার কমলাপুর থেকে জালামপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে।
ট্রেনটির পাওয়ার কার থেকে ধোঁয়া বের হতে শুরু করলে এ আতঙ্ক ছড়ায়। পরে ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে ট্রেনটি থামিয়ে আগুন নেভানোর পর আবার গন্তেব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা রেলওয়ে থানার ওসি ফেরদৌস আহমেদ বিশ্বাস।
তাদের ধারণা বিষয়টা নাশকতা নয়। দুর্ঘটনাজনিত কারণে ছোট্ট আগুন থেকে ধোঁয়া বের হয়েছে।
ওসি ফেরদৌস বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে কমলাপুর থেকে ছেড়ে যাওয়ার পর ব্রহ্মপুত্র ট্রেনটির পাওয়ার কার থেকে ধোঁয়া বের হতে শুরু করলে সেটি ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে থামানো হয়।
“পরে দেখা যায় পাওয়ার কারের জেনারেটরের ধোঁয়া নির্গমন পাইপের ওপর একটি পুরনো চটের বস্তা পড়ে থাকায় এই ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। পরে পানির বোতল দিয়ে আগুন নিভিয়ে ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।”
রেলের কর্মকর্তারা জানান, ট্রেনের পাওয়ার কারে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এক বা একাধিক জেনারেটর থাকে। এগুলো থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে ট্রেনের বাতি, ফ্যান, এসিসহ ইলেকট্রিক যন্ত্রগুলো চলে।
বিএনপির ডাকা হরতালের মধ্যে মঙ্গলবার ভোরে নেত্রকোণা থেকে ঢাকায় আসার পথে নাশকতার আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়া আন্তঃনগর মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের একটি কোচ।
আগের দিন মঙ্গলবার ভোরে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা মোহনগঞ্জ এক্সেপ্রেসে নাশকতার আগুনে তিনটি বগি পুড়ে মা ও শিশুসহ চারজন নিহত হয়। ঢাকার বিমানবন্দর স্টেশন থেকে ট্রেনটি ছেড়ে আসার পর খিলক্ষেতের কাছে একটি বগিতে আগুন দেখতে পান যাত্রীরা।
চালক ও পরিচালকরা আগুনের বিষয়টি না জানায় ট্রেনটি আরও ১৫ মিনিট চালিয়ে তেজগাঁও স্টেশন পর্যন্ত এসে পৌঁছায়। এ স্টেশন পার হওয়ার আগে সহকারী স্টেশন মাস্টার আগুন দেখতে পেয়ে তা থামায়। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নেভালে একটি বগি থেকে চারজনের লাশ উদ্ধার করে। আগুনে অসুস্থ ও আহতও হন কয়েকজন।