০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

পাঁচ দশকে যমুনা, গঙ্গা ও পদ্মার পেটে কত ভূমি

১৯৭৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত তিন নদীর ভাঙাগড়ার ‘খেলায়’ মানচিত্র থেকে মুছে গেছে ঢাকা জেলার আয়তনের চেয়েও বেশি জায়গা।

পাঁচ দশকে যমুনা, গঙ্গা ও পদ্মার পেটে কত ভূমি

পাবনায় যমুনার ভয়াবহ ভাঙনের মধ্যে দুশ্চিন্তায় নদীপাড়ের মানুষ।

মঈনুল হক চৌধুরী

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 07 Oct 2026, 01:36 AM

Updated : 07 Oct 2026, 01:36 AM

“এই চরে বাবা-দাদার ভিটা ছিল। জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে ঘর তুলেছিলাম। কয়েক দিনের ব্যবধানে সব নদীতে চলে গেছে। এখন অন্যের জমিতে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছি।”

যমুনা নদীর ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো আব্দুল মোমিন সম্প্রতি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নিজের চরম অসহায়ত্বের কথা বলছিলেন।

ঘরবাড়ি হারিয়ে আরেক বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলছিলেন, “চোখের সামনে সব কিছু নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন পরিবার পরিজন নিয়ে কোথায় যাব, কী খাব—সব মিলিয়ে বড় চিন্তায় আছি।”

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলা সদর থেকে নদী আর চরের আঁকাবাঁকা পথ মিলিয়ে কিলো বিশেকের দূরত্ব চরগিরিশের।

স্থানীয় জহুরুল ইসলাম বলছিলেন, “আমাদের পূর্ব পুরুষদের কবর ও মসজিদ নদীতে চলে গেছে। নিজের মানুষদের কবর হারানোর কষ্ট ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।”

নদী যেভাবে ভাঙছে, তাতে আরও শতাধিক পরিবারের ভিটেমাটি নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন চরগিরিশি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আল আমিন সরকার।

তিনি জানালেন, চরগিরিশ চরে একসময় ৫০০ থেকে ৬০০ পরিবারের বসবাস ছিল। নদী ভাঙনের কারণে ১৫০টি পরিবার আগেই অন্যখানে চলে গেছে। গত জুনে ১০ দিনে অন্তত ৩০টি পরিবার গৃহহীন হয়েছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পাবলিক ট্রাস্ট সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) বলছে, পাঁচ দশকে এভাবে যমুনায় বিলীন হয়েছে ৯৪ হাজার ১৫০ হেক্টর ভূমি।

প্রতিষ্ঠানটি পদ্মা আর গঙ্গায় হারিয়ে যাওয়া ভূভাগেরও হিসাব বের করেছে। ১৯৭৩-২০২৬ সাল পর্যন্ত স্যাটেলাইট ইমেজ বিশ্লেষণ করে সিইজিআইএস বলছে, এসময়ে পদ্মা তীরে নদী ভাঙনে বিলীন হয়েছে ৩৩ হাজার ৮৮৫ হেক্টর; আর গঙ্গায় হারিয়েছে ৩০ হাজার ৪৮২ হেক্টর। তিন নদী মিলিয়ে হারিয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫১৭ হেক্টর ভূমি।

তবে চর জেগেছে ৪৩ হাজার হেক্টরের মতো।

Image

কেবল জমি নয়—মসজিদ, বাড়ি, সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়।

গঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করার পর নদীটি স্থানীয়ভাবে পদ্মা নামেই পরিচিত। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশমুখ থেকে যমুনা নদীর সঙ্গে মিলিত হওয়া পর্যন্ত অংশকে গঙ্গা হিসেবে মূল্যায়ন করেন পানি সম্পদ বিশেষজ্ঞরা। প্রবাহ ভিন্ন হওয়ার কারণে প্রকৌশল ও কারিগরি দিক থেকে তারা এই অংশকে গঙ্গা হিসেবে গবেষণা প্রতিবেদনে চিহ্নিত করেন।

আর রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে যমুনা ও গঙ্গার মিলিত অংশ থেকে চাঁদপুরে মেঘনা নদীর মোহনা পর্যন্ত অংশটি পদ্মা নামে পরিচিত।

বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নব্বই দশকে যেখানে প্রতিবছর সাড়ে নয় হাজার হেক্টর ভূমি বিলীন হতো নদীগর্ভে, সেখানে এখন প্রধান তিন নদীর তীরে বছরে বিলীন হচ্ছে এক থেকে দেড় হাজার হেক্টরের মতো।

সিইজিআইএসের রিভার, ডেল্টা অ্যান্ড কোস্টাল মরফোলজি ডিভিশনের জ্যেষ্ঠ বিশেষজ্ঞ সুদীপ্ত কুমার হোড় বলেন, “ওভারঅল ভালনারেবল লোকেশনও কমেছে, ভাঙনের পরিমাণও কমছে। নদীর যে দুই পাড়ে যে ভাঙন—এই জায়গায় সময়ের সাথে সাথে তো অনেক কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং নদীর প্রতিরক্ষা কাজও নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। দুইটা কম্বিনেশনে এখন বলতে গেলে প্রধান তিনটা নদীর ভাঙনের পরিমাণ একদম অনেক কমে গেছে।”

তিনি বলেন, “দেখা গেছে যে অনেক জায়গায় যেখানে ভাঙছিল, এখন আবার ভাঙে না। আবার নদী যখন ন্যাচারালি আস্তে আস্তে স্ট্যাবল হয়, তখন তার ইয়াং ফেস থাকে, তার শক্তি অনেক বেশি থাকে; মানে ভাঙনের পরিমাণও অনেক বেশি থাকে।

“দুইটা জিনিস একসাথে করছে—নদীগুলো আস্তে আস্তে ইয়াং থেকে ম্যাচিউর পর্যায়ে আসছে; আবার প্রতিরক্ষার কাজও হচ্ছে।

সিইজিআইএস ভাঙনের সঙ্গে জেগে ওঠা চর নিয়ে কাজ করে বলে জানান সুদীপ্ত কুমার হোড়।

Image

নদী ভাঙনে প্রতিবছরই ভিটেমাটি ছাড়া হয় অনেক মানুষ।

১৯৭৩-২০২৬: পাঁচ দশকে কী ঘটেছে

জনস্বার্থে প্রতিষ্ঠিত ট্রাস্ট সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) বলছে, ১৯৭৩ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত যমুনা নদীর তীর ভেঙেছে ৯৪ হাজার ১৫০ হেক্টর; এসময় চর জেগেছে ১৪ হাজার ৯৫৫ হেক্টর।

৫৩ বছরে যমুনা অববাহিকায় বগুড়া, গাইবান্ধা, জামালপুর, কুড়িগ্রাম, মানিকগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে এ ভাঙন ছিল তীব্র। সবচেয়ে বেশি ভাঙন হয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলায়, ২৪ হাজার ৩১৯ হেক্টর। আর সবচেয়ে কম ভাঙন হয়েছে পাবনায়, এক হাজার ৭৪৯ হেক্টর।

কোনো নদীতে যে বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে পানি এসে পড়ে, সেই এলাকাটিই ওই নদীর অববাহিকা।

কুষ্টিয়া, নাটোর, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, রাজবাড়ী ও রাজশাহীতে গঙ্গা অববাহিকায় পাঁচ দশকে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ৩০ হাজার ৪৮২ হেক্টর। এসময় নতুন এলাকা জেগেছে ২৩ হাজার ১৯২ হেক্টর। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুষ্টিয়া, জেলাটিতে ১১ হাজার ৭৫৮ হেক্টর ভাঙন হয়েছে।

সিইজিআইএসের পর্যবেক্ষণ, গেল পাঁচ দশকে গঙ্গা নদীতে ভাঙা-গড়ায় একটা ভারসাম্য ছিল, ফলে নদীটির প্রস্থ মোটামুটি ‘স্থিতিশীল রয়েছে’।

আর পদ্মা তীরে পাঁচ দশকে নদী ভাঙনে বিলীন হয়েছে ৩৩ হাজার ৮৮৫ হেক্টর; এসময় যোগ হয়েছে পাঁচ হাজার ১১২ হেক্টর এলাকা। ২০২৫ সাল পর্যন্ত পদ্মা নদীর ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, রাজবাড়ী ও শরীয়তপুর জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভাঙন হয়েছে শরীয়তপুরে, ৯ হাজার ১১ হেক্টর।

সিইজিআইএসের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা আব্দুল্লাহ খান বলেন, “সবচেয়ে বেশি ইরোশন হয় এই তিনটি নদীতেই মূলত। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ রিভারব্যাংক ইরোশন (নদীতীরের ভাঙন) হয় যমুনাতে। কয়েক দশক আগে এই ইরোশনটা আমরা দেখেছি এই বড় বড় তিনটি নদীতে।

“প্রতিবছর আমরা স্যাটেলাইট ইমেজ থেকে অ্যাসেসমেন্ট করে দেখেছি—যেখানে ১৯৯৫ সালে এটা প্রায় সাড়ে নয় হাজার হেক্টর ছিল। এটা কিন্তু কমে এখন দুই হাজার হেক্টরের নিচে নেমে এসছে। অতএব আমি বলব এটা একটা ক্রমাগত সাফল্য।”

পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ ফিদা এ খান বলেন, দুটি কারণে ভাঙন কমেছে।

“একটি কারণ হচ্ছে যে ইন্টারভেনশন; আরেকটি কারণ হচ্ছে একটা ন্যাচারাল প্রসেস।”

Image

পূর্বাভাস মিললে অন্তত কিছু জিনিসপত্র রক্ষার সুযোগ মেলে তীরের বাসিন্দাদের।

ভাঙা-গড়ার ‘খেলা’

১০০ হেক্টর সমান এক বর্গকিলোমিটার আয়তনের হিসাবে দেখা গেছে, পাঁচ দশকে নদী গর্ভে বিলীন হওয়া ভূমির পরিমাণ ১৫৮৫ দশমিক ১৭ বর্গ কিলোমিটার, যা প্রায় ঢাকার জেলার আয়তনের সমান বা ঢাকার দুই সিটির পাঁচ গুণ।

ঢাকা জেলার আয়তন হচ্ছে ১৪৬৩ দশমিক ৬০ বর্গ কিলোমিটার (৫৬৫ দশমিক ১ বর্গ মাইল)। আর ঢাকার দুই সিটির আয়তন ৩০৫ দশমিক ৪৬ বর্গকিলোমিটার (উত্তরে ১৯৬ দশমিক ২২ বর্গ কিমি, দক্ষিণে ১০৯ দশমিক ২৪ বর্গকিলোমিটার)।

অন্যদিকে পাঁচ দশকে জেগে ওঠা চর বা ভূখণ্ডের পরিমাণ ৪৩ হাজার ২৫৯ হেক্টর বা ৪৩২ দশমিক ৫৯ বর্গ কিলোমিটার, যা ঢাকা মহানগরের প্রায় দেড়গুণের কাছাকাছি।

অবশ্য নদী ভাঙার সঙ্গে উদীয়মান চরের তুলনা করতে রাজি নন সিইজিআইএসের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা আব্দুল্লাহ খান।

তার ভাষায়, “আমরা যদি সামগ্রিকভাবে জিনিসটাকে না দেখি, শুধু বলি যে আমাদের নদী থেকে এতখানি বিলীন হয়েছে ব্যাপারটা তা নয়; এটাকে পুরোপুরিভাবে কম্পেয়ারও করা যাবে না।

“কারণ হচ্ছে যখন ইরোশন হয়, তখন একটি সম্পূর্ণ ডেভেলপড ল্যান্ড ইরোশন হয়ে যায়। আর যখন একটা চর জাগে, এটা সবকিছু ওখানে নতুন। অতএব দুটোর তুলনা করা যাবে না।”

মালিক ফিদা আব্দুল্লাহ খান বলতে থাকেন, “একটি ল্যান্ড ডেভেলপ করতে হান্ড্রেড ইয়ারস লেগে যায়। অতএব একটা যেটা ম্যাচিউরড ল্যান্ড, আর নতুন যে একটা চর জেগেছে মোহনায়—এই দুইটা এক নয়। তবে এটা বলতে হবে যে, আমাদের আবার ওখানেও সেডিমেন্টেশন (পলি জমার প্রক্রিয়া) হয়ে নতুন নতুন চর জেগে যাচ্ছে।”

সিইজিআইএসের সাবেক এ নির্বাহী পরিচালক বলেন, “যেরকম ইরোশন হয়েছে; আবার অ্যাক্রিশনও (পলি জমার ফলে ভূমি বা তীরের আয়তন বৃদ্ধি) হয়েছে, জমাও হয়েছে। এর কিছু পরিমাণ সেডিমেন্ট এসচুয়ারিতে (পলিসমৃদ্ধ মোহনা) যেয়ে আবার নতুন নতুন চর হচ্ছে। এই যে ভাষানচরটা হয়েছে এই সেডিমেন্ট দিয়েই।

“এই যে সেডিমেন্ট ওখানে যে ডিপোজিশন হয়ে হয়েছে। এই যে চর নাঙ্গলিয়া, চর উড়িরচর—এই ডেভেলপমেন্টগুলো হয়েছে। এই সেডিমেন্টই মেঘনা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যখন এসচুয়ারিতে যায়, তখন ওইটা ডিপোজিশন (পলি এক জায়গায় জমা হওয়া) হয়ে এটা আস্তে আস্তে করে এই চরগুলো ডেভেলপমেন্ট হয়।”

ফিদা এ খান বলেন, “অতএব আমাদের যে পরিকল্পনা থাকা উচিত সামগ্রিকভাবে। আমাদের কতখানি ইরোশন হচ্ছে, কতখানি অ্যাক্রিশন হচ্ছে, অ্যাক্রিশন নদীতে কতখানি হচ্ছে, মোহনাতে কতটুকু হচ্ছে এবং সেখান থেকে একটা পরিকল্পনা করতে হবে; সেই কতটুক পরিমাণকে আমরা ধরে রাখতে পারব।

“এসচুয়ারিতে এখন যে পরিমাণ ল্যান্ড রিক্লেম করা সম্ভব, সেটা যদি আমরা এখনই ব্যবস্থা না নিই—তাহলে কিন্তু এই ল্যান্ড আবার পুনরায় ইরোডেড (ক্ষয় বা ভেঙে যাওয়া) হয়ে যেতে পারে। তার জন্য আমাদের কিন্তু মাথায় ওটা রাখতে হবে; সামগ্রিকভাবে পুরো সিস্টেমটাকে দেখতে হবে।”

সিইজিআইএস কী করছে

সিইজিআইএস ২০০৪ সাল থেকে গঙ্গা, পদ্মা ও যমুনার ভাঙনের পূর্বাভাস দিয়ে আসছে। স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক পদ্ধতির মাধ্যমে সংস্থাটি সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে। এতে ৭০, ৫০ ও ৩০ শতাংশ সম্ভাবনার ভিত্তিতে যথাক্রমে উচ্চ, মাঝারি ও কম ঝুঁকির এলাকা নির্ধারণ করা হয়। কেবল জমি নয়, বসতি, সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন স্থাপনার ঝুঁকিও এতে চিহ্নিত করা হয়।

সিইজিআইএসের মুখ্য বিশেষজ্ঞ এ টি এম কামাল হোসেন রোববার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “স্পেসিফিক আমরা কাজ করি তিনটা মেজর রিভার—পদ্মা, গঙ্গা আর যমুনা। এই তিনটার মধ্যে যমুনা তো ম্যাক্সিমামই এখন প্রটেক্টেড হয়ে গেছে।

“ইরোশন (ভাঙন) আগের চেয়ে এখন মাত্রা কম। আগে যতগুলো স্থানে হত, এখন তার চাইতে অনেক কম।”

সিইজিআইএসের রিভার, ডেল্টা অ্যান্ড কোস্টাল মরফোলজি ডিভিশনের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক কামাল হোসেন বলেন, ২০০৪ সাল থেকে প্রতিবছর পূর্বাভাস দিয়ে আসছেন তারা।

“সবচেয়ে বড় স্টেকহোল্ডার হলো বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। দেশের যতগুলো প্রতিষ্ঠান রয়েছে, তারা সিইজিআইএসের রিপোর্ট কাজে লাগায়। বর্তমানে এক বছর মেয়াদি প্রেডিকশন রিপোর্ট হলেও আগামীতে দুই বছরের জন্য এ ধরনের প্রতিবেদন করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।”

বড় তিন নদীর পর ইতোমধ্যে মাঝারি আকারের ১২টি নদ-নদী নিয়ে গবেষণার উদ্যোগ নিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সিইজিআইএস। তিস্তা, দুধকুমার, আত্রাই, ইছামতী (সিরাজগঞ্জ), গড়াই, কীর্তনখোলা, আড়িয়াল খাঁ, পুংলী, কালিগঙ্গা, ধলেশ্বরী, সাঙ্গু ও জাদুকাটা-রক্তি (যাদুকাটা)—এসবের ভাঙনের ঝুঁকি নিয়ে এখন কাজ চলছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এসব নদী যেসব এলাকায় রয়েছে, সেসবে ভাঙনের পূর্বাভাস মিললে আগের চাইতে ক্ষয়ক্ষতি কমে আসবে।

Image

পদ্মা, গঙ্গার পাশাপাশি যমুনা নদীতে ভাঙন প্রবণতা কমেছে।

মাঝারি ১২টি নদী নিয়ে কাজ চলার কথা জানিয়ে পানি সম্পদ বিশেষজ্ঞ ফিদা এ খান বলেন, “এ ধরনের একটি একটি ইকুয়েশন বা একটা সিস্টেমকে দাঁড়া করাতে বাংলাদেশের মত নদীগুলোতে অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রয়োজন আছে।

“সেই ভ্যালিডেশনটা বেশ কয়েক বছর হলে, তখন আমরা আশা করি যে—সাফল্যতার সাথে এই মাঝারি টাইপের নদীগুলোতে ইরোশন প্রেডিকশন (ভাঙন পূর্বাভাস) দেওয়া সম্ভব।”

সিইজিআইএসের রিভার, ডেল্টা অ্যান্ড কোস্টাল মরফোলজি ডিভিশনের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক কামাল হোসেন বলেন, “যমুনা, গ্যাঞ্জিস এবং পদ্মা—এগুলো লার্জ রিভার; আমরা মিডিয়াম শ্রেণির কিছু রিভার নিয়ে কাজ করছি, ইনশাল্লাহ আমরা সফল হব। এটা একটা গবেষণাধীন একটা প্রকল্পের মধ্যে চলছে।

“এখন তিনটায় যেহেতু ইরোশন কমে আসছে আস্তে আস্তে; সেহেতু আমরা আরো কিছু মিডিয়াম রিভারের উপর প্রেডিকশন দেওয়ার—একটা টুল তৈরির কাজ চলছে; হয়তো আরো বেশি কিছু রিভারের প্রেডিকশন দিতে সক্ষম হব হয়তো আগামী বছরগুলোতে।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদীভাঙনের পূর্বাভাসের মাধ্যমে আগেভাগে তীররক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া, কৃষিজমি ও ফসল রক্ষা, ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়। পূর্বাভাসের ভিত্তিতে বিভিন্ন এলাকায় তীররক্ষা প্রকল্প নেওয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জমি রক্ষা করা হয়েছে এবং নদীভাঙনে ফসলের ক্ষতিও কমানো গেছে। একই সঙ্গে এটি দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসের কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে।

Image

পদ্মায় বসতভিটা হারানোরা খাটসহ যা যা রক্ষা করতে পেরেছেন, তা নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাচ্ছেন।

২০০৭ সালে যমুনা ও পদ্মার চারটি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে স্থানীয় জনগণের কাছে ভাঙনের পূর্বাভাস পৌঁছে দেওয়া হয়। স্থানীয় মানুষ তা ব্যবহার করে নিজেদের সম্পদ রক্ষায় উপকৃত হয়। পরে ইউএনডিপি, ব্র্যাক ও কেয়ার বাংলাদেশ বিভিন্ন সময়ে নদীতীরবর্তী জনগোষ্ঠীর কাছে এসব পূর্বাভাস পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়।

তবে যেসব এলাকায় নদীশাসন বা তীররক্ষা অবকাঠামো নির্মিত হয়েছে, সেখানে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয় না।

পানি সম্পদ বিশেষজ্ঞ কামাল বলেন, প্রথমত যে জায়গায় প্রটেকশন ওয়ার্ক আছে, সে জায়গায় প্রেডিকশন করা হয়। তারপরে যে জায়গাগুলোতে প্রটেকশন নেই, ওই ধরনের জায়গাগুলো কোথায় কোথায় ঝুঁকি তার প্রেডিকশন করা হয়।

“ওই ধরনের যে ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলোতে যদি গভর্নমেন্ট কোনো স্ট্রাকচার তৈরি করতে যায়, আমরা তাদেরকে নিষেধ করি। ওই রিপোর্টটা ফলো করলে তাদের ওই ইনভেস্টমেন্টটা নষ্ট হবে না। অথবা কারো যদি ধরেন মুভেবল অ্যাসেট রয়েছে, ওই প্রেডিকশনটা জানতে পারে—তখন তা সরিয়ে নিতে পারে, অন্তত কিছু অ্যাসেট সেভ করতে পারে।”

গেল বছরের পূর্বাভাস মিলছে কতটা

চলতি বছরে পূর্বাভাস প্রতিবেদনে সিইজিআইএস বলছে, মানুষের মধ্যে যাতে ভুল ধারণা তৈরি না হয়, সেজন্য তারা পূর্বাভাস দিতে সংযমী নীতি অনুসরণ করেন। গেল বছর যমুনা নদীর পাঁচটি এবং গঙ্গা ও পদ্মা নদীর দুটি করে স্থানে নদীতীর ভাঙনের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। যমুনা নদীর ক্ষেত্রে পূর্বাভাস দেওয়া পাঁচটি স্থানের মধ্যে চারটিতে ভাঙন ঘটেছে। তবে ভাঙন হওয়া আরো দুটি স্থানের পূর্বাভাস দেওয়া হয়নি।

“পদ্মা নদীর ক্ষেত্রেও পূর্বাভাসের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার বেশ ভালো মিল পাওয়া গেছে। পূর্বাভাস দেওয়া সব স্থানেই ভাঙন হয়েছে। গঙ্গা নদীর ক্ষেত্রেও পূর্বাভাসের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার ভালো মিল পাওয়া গেছে। ২০২৫ সালে পূর্বাভাস দেওয়া সব স্থানেই ভাঙন হয়েছে।”

Image

তীব্র সোতে নদী তীর ভাঙন দেখছেন স্থানীয়রা।

তবে আরো দুটি স্থানে ভাঙন হয়েছে, যেসবে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল না বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সিইজিআইএসের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে যমুনা অববাহিকায় ৩৪৮ হেক্টর জমি ও ৭০ হেক্টর বসতি নদীগর্ভে গেছে; গঙ্গায় ৫৯৩ হেক্টর জমি ও ২৪ হেক্টর বসতি বিলীন হয়েছে। এছাড়া পদ্মা তীরে বিলীন হয়েছে ৯৩ হেক্টর জমি ও ৯ হেক্টর বসতি। সব মিলিয়ে ১১৩৭ হেক্টর ভূমি বিলীন হয়েছে।

এ বছরের পূর্বাভাস কী

যমুনা, গঙ্গা ও পদ্মা—তিন নদীর ভাঙনের বিষয়ে সিইজিআইএস চলতি বছরের পূর্বাভাসে ৮ জেলার ১১টি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে যমুনার সাতটি জায়গা, গঙ্গায় তিনটি ও পদ্মায় একটি এলাকা রয়েছে। যমুনার দুই তীরে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার অন্তত ৫০ শতাংশ বিলীন হওয়ার আভাস দেওয়া হয়েছে।

• যমুনা: কুড়িগ্রাম সদর; গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের দুটি ও ফুলছড়ির একটি এলাকা; কুড়িগ্রামের রৌমারী; জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জের কাজিপুর।

• গঙ্গা: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, পাবনার সুজানগর এবং পাবনা ও কুষ্টিয়ার (ঈশ্বরদী, পাবনা ও কুষ্টিয়া সদর) একটি করে এলাকা।

• পদ্মা: ফরিদপুরের সদরপুর।

এবছর ভূমি ও বসতি মিলে মোট ৯৮৮ হেক্টর ভূমি বিলীনের শঙ্কা রয়েছে। এর মধ্যে জামালপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও সিরাজগঞ্জে যমুনা তীরের জমি আছে ৪৬০ হেক্টর, আর বসতির পরিমাণ ৬৪ হেক্টর। পাবনা ও কুষ্টিয়ার গঙ্গা অববাহিকায় ৩২০ হেক্টর জমি ও ৫ হেক্টর বসতি বিলীন হওয়ার আভাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফরিদপুরে পদ্মা অববাহিকায় ১৩৫ হেক্টর জমি ও ৪ হেক্টর বসতির ভূমি হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

যমুনা অববাহিকার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মধ্যে গাইবান্ধার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুড়িগ্রামের দুটি মসজিদ এবং জামালপুরে একটি মসজিদ ও একটি কমিউনিটি ক্লিনিকসহ নানা স্থাপনা রয়েছে।

গঙ্গা অববাহিকার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কুষ্টিয়ার একটি হাই স্কুল রয়েছে।

বর্ষা মৌসুম শেষে ভাঙনের পরিমাণ বাড়বে জানিয়ে সিইজিআইএসের সিনিয়র স্পেশালিস্ট সুদীপ্ত কুমার হোড় বলেন, এখন বর্ষা মৌসুম প্রায় শেষের পথে। এখন যেহেতু পানি নামবে, সেহেতু ভাঙনের পরিমাণও বাড়বে। পানি যখন প্রথমে আসে, তখন পানির তোড় থাকে, তখনও ভাঙে।

“আরেকটা বিষয় মানুষ বুঝতে পারে না—এটা হচ্ছে, জুলাই-অগাস্টে নদী টুইটুম্বুর থাকে। কিন্তু পানিটা যখন নামতে শুরু করে, তখন তাড়াতাড়ি নামে। মাটির ভেতর থেকে পানিটা সরে গেলে তখন ভেতরে যে বন্ডিং ক্যাপাসিটিটা, ভেতরে ভয়েড (শূন্যতা) সৃষ্টি হয়; তাতে পানি নামার সময় কম্পারেটিভলি ভাঙনটা বেশি হয়।”

ভাঙনের সময় এল, প্রবণতা কমার উপায় কী

বর্ষা শেষে নদী ভাঙন বাড়ে বলে জানিয়েছেন বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক এ কে এম সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “কারণ যখন বর্ষার সময় পানি উঠে অনেক জায়গায় মাটি ভিজে যায়, নদীর পাড় ভিজে যায় এবং পাড় সফট থাকে এবং পানির স্তর নিচে নামলে, উপরের পানি নিচে নামে—এটাকে সিপেজ (চুইয়ে পড়া) বলা হয়, ওই সময় পাড় ভঙ্গুর হয়ে যায়।”

অধ্যাপক সাইফুল বলেন, “আবার অনেক সময় নিচে এসে পানি ধাক্কা দেয়, ফলে নিচের অংশটা ক্ষয় হয়ে যায়। এই বর্ষার সিজনেই বিভিন্ন কারণে ফ্লো বেশি থাকে। মাটি ভিজে যায়। বালিমাটি যেখানে, সেখানে তো আরো বেশি পাড় ভাঙে।”

বর্তমানে দেশে ১৪১৫টি নদী রয়েছে। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ নদীতে বছরজুড়ে প্রবাহ থাকে, বাকিগুলোতে বর্ষাকালে জলপ্রবাহ থাকে বেশ।

এ কে এম সাইফুল ইসলাম বলেন, দেশে শত শত নদী আছে, সাত হাজার কিলোমিটার জায়গায় বাঁধ দেওয়া হয়েছে।

“অনেক জায়গায় দেখা যায় মাটির বাঁধ; বিভিন্ন কারণে পুরনো হয়ে গেছে, কোয়ালিটি ভালো হয়নি, কমপ্যাকশন (মাটি ঘনকরণ) হয়নি। নানা কারণে দেখা যায়—নদী নিজেও বাঁধ ভেঙে ফেলে।

“বড় বড় নদী তো স্রোত প্রচণ্ড, সেডিমেন্টও বেশি। সব দোষ কনস্ট্রাকশনের তাও না। এত বড় নদীকে বেঁধে রাখাও একটা চ্যালেঞ্জ; বিশেষ করে ব্রহ্মপুত্র, পদ্মা, তিস্তা, মেঘনা। আবার এটাও আছে আমরা ঠিকভাবে কাজ সময় মত শেষ করিনি, শুরু করতে পারিনি; বাজেটের অর্থনৈতিক সংকট আছে। এটা একটা চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশে।”

পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক বলেন, সবখানে বাঁধ দিলে পলি জমে যাবে। এক্ষেত্রে ভাঙনপ্রবণ এলাকায় সরকার কোনোটা স্থায়ীভাবে ঠেকায়; কোনোটা অস্থায়ীভাবে ঠেকায়।

“বালুর বস্তা দেওয়া, কিছু টেম্পারি গ্রোয়েন স্ট্রাকচার দেওয়া, পারমিয়েবল গ্রোয়েন (পানি চলাচল করতে পারে) দেওয়া। আর পারমানেন্ট সলিউশন হচ্ছে ব্লক, সেটা একটু কস্ট এক্সপেন্সিভ। নদীর মধ্যে জিওব্যাগ, ব্লক দিয়ে রিভেটমেন্ট (তীররক্ষা বাঁধ) করা।”

সিইজিআইএসের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা আব্দুল্লাহ খান বলেন, “আমাদের নদীগুলোতে সাধারণত ইরোশনটা শুরু হয় বর্ষার পরে—বর্ষাটা যখন শেষ হয়ে যায়, যখন পানিটা নামা শুরু করে; তখনই এই ভাঙনগুলো দেখা যায়।

“এখনও এই ভাঙন ওভাবে শুরু হয়নি। হয়তো অক্টোবর, নভেম্বর বা ডিসেম্বরের দিকে এই প্রবণতাটা আস্তে আস্তে বাড়বে।”

মালিক ফিদা আব্দুল্লাহ খান বর্তমানে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ডিপ্লোম্যাসিতে (সিএসটিপিডি) নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন।

এ পানি সম্পদ বিশেষজ্ঞ বলেন, “সামগ্রিকভাবে তিনটি নদীর ভাঙনের পরিমাণ কমেছে; একদম ভাঙনটাকে যে শূন্যে কোটায় নিয়ে আসা কখনোই সম্ভব নয়! আমাদের ডেল্টাইক কান্ট্রি—এটা বুঝতে হবে। কারণ আমাদের মাটির গঠন, ডেল্টার গঠন প্রণালি এবং সেডিমেন্টের—কোয়ালিটি এ সবকিছু মিলিয়ে আসলে এটাকে শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা সম্ভব নয়।

“এখন বড় বড় নদীর অনেকগুলোকে সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসা হয়েছে। মাঝারি নদীগুলোতে যেখানে এখনো ইরোশনের প্রবণতা বেশি, সেগুলোতে হাত দিতে হবে। কারণ হচ্ছে সেখানে জমির ভ্যালু বা সেখানে একটু ইরোশন হলে হয় দেখা যায় যে, অনেক আমাদের পরিবার ল্যান্ডলেস এবং হোমলেস হয়ে যায়।”

ফিদা এ খানের ভাষ্য, বড় বড় নদীতে যতটা না মানুষ থাকে, তার চেয়ে মাঝারি নদীর দুপাশে বসবাসকারীর সংখ্যা অনেক বেশি।

Image

নদীপাড়ের মানুষের কাছে ভাঙন একেবারেই সাধারণ ঘটনা।

“অতএব এই জায়গাগুলোতে হাত দিতে হবে। তিনটি বড় বড় নদী থেকে যে আমাদের বছরে এক বিলিয়ন টন সেডিমেন্ট (পলি, বালু) আসে, সেই সেডিমেন্টার কতখানি কোথায় যাচ্ছে এবং নদী থেকে কতটুকু ইরোশন হচ্ছে তার ব্যালেন্সিং করে একটি পরিকল্পনা কিন্তু অলরেডি করা হয়েছে। এখন দরকার উদ্যোগ, এগুলোকে পুনরুদ্ধার করে ল্যান্ডের পরিমাণ বাড়াতে পারি।”

নদী ভাঙন প্রবণতা কীভাবে কমে, তার ব্যাখ্যায় সিইজিআইএসের মুখ্য বিশেষজ্ঞ এ টি এম কামাল হোসেন বলেন, “এটা অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে। রিভারের যে চেঞ্জ আছে, মরফোলজিক্যাল (ভূ-আকৃতিগত) চেঞ্জ হল সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর।

“তার সাথে সাথে যে চেঞ্জটা তো হয় ফ্লো নির্ভর। ডিসচার্জ (প্রবাহমাত্রা) কমার উপরে নির্ভর করে, তারপরে কনভেন্স ক্যাপাসিটির উপরে নির্ভর করে। তারপরে রিভারের বেড মেটেরিয়ালস আছে। অনেকগুলো ফ্যাক্টর এটার সাথে ইনভলভ।”

পুরানো খবর:

নদী ভাঙন: এবারও ঝুঁকিতে হাজার হেক্টর এলাকা