২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

আবারও অনুরোধ করছি খাদ্যের অপচয় নয়: প্রধানমন্ত্রী

জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “সারা বিশ্বে যে দুর্যোগের ঘনঘটার আভাস আমরা পাচ্ছি, তার থেকে বাংলাদেশকে সুরক্ষিত করুন।”

আবারও অনুরোধ করছি খাদ্যের অপচয় নয়: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Oct 2022, 01:50 PM

Updated : 17 Oct 2022, 01:50 PM

মহামারী ও যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বে দুর্ভিক্ষের যে আভাস মিলেছে, তার আঁচ থেকে বাংলাদেশকে বাঁচাতে উৎপাদন বাড়ানোর পাশপাশি খাবারের অপচয় না করতে আবারও আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

তিনি বলেছেন, “আমি আবারো অনুরোধ করছি, কোন খাদ্যের অপচয় নয়। খাদ্য উৎপাদন বাড়ান। যার যেখানে যতটুকু জমি আছে বাড়ান। সারা বিশ্বে যে দুর্যোগের ঘনঘটার আভাস আমরা পাচ্ছি, তার থেকে বাংলাদেশকে সুরক্ষিত করুন।” 

সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “নিজের খাবার নিজেরা উৎপাদন করার চেষ্টা করবেন, যাতে পরিবেশের উপর চাপ কমে, বাজারের উপর চাপ কমে এবং সকলে মিলে আমরা কাজ করলে অবশ্যই আমাদের বাংলাদেশের কোনো রকম আঘাত আসবে না। আমি বিশ্বাস করি সকলের প্রচেষ্টায় এটা করা সম্ভব।“ 

বিশ্ব খাদ্য দিবস উপলক্ষে সোমবার এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করছিলেন প্রধানমন্ত্রী। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে তিনি যুক্ত হন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে। 

কৃষি প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলায় সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে বলেন, “একশ শিল্পাঞ্চল, সেখানে সেই ব্যবস্থাটা আমরা নেব। আমরা শুধু নিজেরাই গ্রহণ করব না, আমরা প্রক্রিয়াজাত করে এটা (কৃষি পণ্য) রপ্তানি করে অনেক দেশের খাদ্য ঘাটতিতে সহায়তা যাতে করতে পারি, সেটা মাথায় রেখে আমাদের সকল পদক্ষেপ নিতে হবে।” 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার পুষ্টিকর খাদ্য, সুষম খাদ্য, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে চায়, যা কেবল দেশে নয়, পুরো বিশ্বের মানুষেরই প্রয়োজন। 

“কাজেই যত উৎপাদন বৃদ্ধি করতে পারি, আর যত বেশি খাদ্য চাহিদা মেটাতে পারি, ততই আমাদের মঙ্গল হবে বলে আমি বিশ্বাস করি এবং সেটা আমাদের অর্থনীতিতেও বিরাট অবদান রাখতে পারে।“ 

গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষির উপর গুরুত্ব আরোপ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ থেকেও অনুষ্ঠানে উদ্ধৃত করেন শেখ হাসিনা। 

তিনি বলেন, “এক ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আমার মাটির সঙ্গে, আমার মানুষের সঙ্গে আমার কালচারের সঙ্গে, আমার ব্যাকগ্রাউন্ডের সঙ্গে, আমার ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করেই আমার ইকোনমিক সিস্টেম গড়তে হবে’। 

“আমিও এটা বিশ্বাস করি যে আমাদের মাটি ও মানুষ… এটাই আমাদের লক্ষ্য।”  

দেশের কৃষি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় কৃষিবিদদের ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “তাদের সাথে আমাদের কৃষকরাও, তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা জানাই এবং ধন্যবাদ জানাই যে তারা আজকে আমাদের এই খাদ্যের জোগান দিচ্ছে। কাজেই তাদের সম্মান করা, তাদের সহযোগিতা করা এটা একান্তভাবে অপরিহার্য।” 

প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, “নিজের দেশ, গ্রাম, মাটি– তাকে ভুলে যাবেন না। সেদিকে একটু নজর দেন। নিজের যদি কোনো পতিত জমি থাকে, তাহলে সেটাও চাষের আওতায় নিয়ে আসেন। তাহলে দেখবেন আমাদের দেশ কখনো পিছিয়ে থাকবে না।” 

অন্যদের মধ্যে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, সাবেক কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।