১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০২ কার্তিক ১৪৩৩

আন্দোলনই শেষ নয়, দেশ পুনর্গঠনেও তরুণদের আসতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

“এটা তোমাদেরই দেশ, এর দায়িত্বও তোমাদের,” শিক্ষার্থীদের প্রতি বলেন সরকারপ্রধান।

আন্দোলনই শেষ নয়, দেশ পুনর্গঠনেও তরুণদের আসতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

মোহাম্মদপুরের ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ পরিদর্শন করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই কলেজেই একসময় পড়ালেখা করেছেন তিনি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 17 Oct 2026, 05:44 PM

Updated : 17 Oct 2026, 05:44 PM

নিজের একসময়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মোহাম্মদপুরের ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে দেশ পুনর্গঠন ও দেশকে বাসযোগ্য করে তুলতে শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জুলাই আন্দোলনের কথা স্মরণ করে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, তরুণদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব, সেটি ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। তবে শুধু আন্দোলন করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। দেশ পুনর্গঠন এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার কাজেও তাদের এগিয়ে আসতে হবে।”

শিক্ষার্থীদের প্রতি তিনি বলেন, “তোমাদের কাছে আমার দুটি আবেদন—দেশকে পরিষ্কার রাখবে এবং বেশি বেশি গাছ লাগাবে। এটা তোমাদেরই দেশ, এর দায়িত্বও তোমাদের।”

শনিবার দুপুরে শিক্ষালয়টিতে গিয়ে সেখানকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কথা বলে বলে তার উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানিয়েছেন।

এদিন রাজধানীর বেশ কয়েকটি হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্টাফ কোয়ার্টার পরিদর্শন করেন সরকারপ্রধান। তিনি সকাল ৯টা ১০ মিনিটে বাসা থেকে বের হন। এরপর সাড়ে চার ঘণ্টায় ১৩টি জায়গা আকস্মিক পরিদর্শন করেন বলে উপ প্রেস সচিব জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী প্রথমে উত্তরার কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, মিরপুর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে, মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ, পাইকপাড়া স্টাফ কোয়ার্টার, সরকারি বাংলা কলেজ, আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ, ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়, কলাবাগান স্টাফ কোয়ার্টার এবং আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার পরিদর্শন করেন।

উপ প্রেস সচিব শিপলু বলেন, “এসব পরিদর্শনে বিভিন্ন স্থানের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।”

মোহাম্মদপুরে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশ গড়ার কাজে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

উপ প্রেস সচিব বলেন, “শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- শুধু সরকারের একার পক্ষে দেশকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব নয়। এ জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণদের নিজেদের বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করতে হবে।”

‘বেশি বেশি গাছ লাগান’

মিরপুর বাংলা কলেজ পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের বেশি বেশি গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়েছেন বলে উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “ঢাকার বায়ু দূষণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন- বিশ্বের সবচেয়ে বায়ু দূষিত শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান প্রায়ই ওপরের দিকে থাকে, যা অত্যন্ত বিব্রতকর। রাজধানীর বাতাস ক্রমেই দূষিত হয়ে পড়ছে। এর ফলে বিশেষ করে শিশুরা নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে।”

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “তোমরা যখন কোনো কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাঠে নেমে পরিচ্ছন্নতার কাজ করো, তখন খুব দ্রুত একটি জায়গা পরিষ্কার হয়ে যায়। কিন্তু শুধু নির্দিষ্ট কর্মসূচির মধ্যে এই কাজ সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। নিজেদের উদ্যোগেও কাজ করতে হবে।

“পাশাপাশি বন্ধু, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন করতে হবে। একটি পরিবার ও তার আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার থাকলে সেই পরিবারের সদস্যদের সুস্থ থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। অন্যদিকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ নানা রোগব্যাধির ঝুঁকি বাড়ায়।”

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে তাদের সহযোগিতা চান।

“প্রধানমন্ত্রী বলেছেন- এত বিপুলসংখ্যক মানুষ যদি অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাহলে সবাইকে চিকিৎসা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও ওষুধের ব্যবস্থা করা কঠিন। তাই আমাদের প্রথম কাজ হচ্ছে মানুষকে সুস্থ রাখা। আর মানুষকে সুস্থ রাখতে হলে পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।”

বাঙলা কলেজ শিক্ষার্থীদের বেশি বেশি গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাবার নামে প্রতিষ্ঠিত একটি সংগঠনের মাধ্যমে ২০০৪-০৫ সালের দিকে শুধু ঢাকা শহরেই প্রায় ৮০ হাজার নিমগাছের চারা রোপণ করা হয়েছিল।

“এখন তোমাদের আমাকে ছাড়িয়ে যেতে হবে। তোমরা আরও বেশি গাছ লাগাবে। ইনশাআল্লাহ, তোমরা পারবে।”

পরিবেশ পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে জাপানের উদাহরণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপানের রাস্তাঘাটে খুব কম ময়লা-আবর্জনা দেখা যায়। এর পেছনে শুধু পরিষ্কার করার ব্যবস্থা নয় বরং মানুষের ময়লা না ফেলার অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ।

বক্তব্যের শেষপর্যায়ে বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তোমরা সবাই মিলে চেষ্টা করলে আমরা একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। ভবিষ্যৎ তোমাদের। এই দেশ তোমরাই পরিচালনা করবে।”

উপ প্রেস সচিব বলেন, মিরপুর-১০ নম্বরে হকারমুক্ত ফুটপাথ পরিদর্শনও করেন প্রধানমন্ত্রী। পথচারীরা প্রধানমন্ত্রীকে দেখে আনন্দ প্রকাশ করেন। তারা সড়ক হকারমুক্ত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান।

এ সময় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী আকস্মিক এই পরিদর্শন কার্যক্রমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।