মিরপুর সংঘর্ষের ঘটনায় সমন্বয়ের অভাব ছিল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে এদিন সকালে হকারদের সঙ্গে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ বাঁধে।
পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের ‘সমন্বয়ের অভাবের কারণে’ রাজধানীর মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
রোববার সচিবালয়ে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।
এদিন সকাল ১০টার পরে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হকারদের সঙ্গে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ বাঁধে।
এ সময় সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। পুলিশ ও সাংবাদিকদের গাড়ি ভাঙচুরের শিকার হয়। বেশ কয়েকজন আহতও হন।
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন ছিল, গোয়েন্দা তথ্যের দুর্বলতার কারণে এমনটি ঘটেছে কিনা?
জবাবে মন্ত্রী বলেন, “ঘটনা তদন্ত করতে বলেছি। আমি জেনেছি এখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত যিনি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন, তারা সঠিকভাবে পুলিশের সাথে যোগাযোগটা সম্পন্ন করেননি।
“এটা একটা সমন্বয়ের অভাব ছিল আমার কাছে মনে হয়েছে। তারপরও আমরা তদন্ত করতে দিয়েছি।"
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদের সময় ডিশ লাইনের তার খুলে ফেলার পর এক পর্যায়ে সেখানকার বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যায়। সেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত হলে তা পাশের একটি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ট্রান্সফরমারটিতে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
আগুন লাগার পর বিক্ষুব্ধ হকারদের সঙ্গে সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ বাঁধে এক পর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের সঙ্গেও হকারদেরও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় সিটি করপোরেশনের তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় বলে পুলিশের ভাষ্য।
ঢাকা মহানগর পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পুলিশের একটি গাড়ির গ্লাস ভাঙচুরের খবর পেয়েছি৷ সেই সঙ্গে সিটি করপোরেশনের গাড়িতে আগুনের ঘটনাও আছে।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর দুপুরে ঘটনাস্থলে যান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন।
সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, নগরবাসীর স্বাচ্ছন্দ্যে, নিরাপদে চলাচলের জন্য ফুটপাতে হকার উচ্ছেদ অভিযান চলবে। অবৈধভাবে কাউকে ফুটপাত দখল করতে দেওয়া হবে না।
“এসব দখলের পক্ষে কেউ আসলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজকের ঘটনায় মামলা হবে, যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
