প্রধান বিচারপতি বলেছেন, মহানবী (সা.) ধর্ম নিয়ে ‘বাড়াবাড়ি না করতে’ বলে গেছেন, সেই পথেই সবার চলা উচিত।
Published : 17 Oct 2022, 11:19 PM
গুজরাটের দাঙ্গার পর সবাই ‘সেকুলার’ হয়ে সেখানে ‘সেকুলার’ সরকারের প্রত্যাশার কথা বললেও নিজের দেশের বেলায় ‘সেকুলার’ থাকে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।
তিনি বলেছেন, ইসলামের মহানবী (সা.) ধর্ম নিয়ে ‘বাড়াবাড়ি না করতে’ বলে গেছেন, সেই পথেই সবার চলা উচিত।
সোমবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি আয়োজিত ‘হযরত মুহাম্মদ (সা.) এবং একটি মানবিক বিশ্ব’ শীর্ষক আলোচনা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে কথা বলছিলেন প্রধান বিচারপতি।
২০০২ সালে ভারতের গুজরাটে ভয়াবহ দাঙ্গার পর এ দেশে নানামুখী প্রতিক্রিয়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “গুজরাটে দাঙ্গার পর আমরা সবাই সেকুলার হয়ে গেলাম। তখন মনে হত গুজরাটের সরকার সেকুলার হলে এটা হতে দিত না। তখন একটা সেকুলার সরকারের কথা আমরা কল্পনা করেছি।
“কিন্তু আমি যখন আমাদের কথা ভাবি, তখন আমরা সেকুলার থাকি না। তখন আমাদের প্রবলেম থাকে। সংবিধানে বলা আছে, এ দেশের মানুষ হিন্দু-মুসলিম সবাই মিলে বাঙালি। দেশ স্বাধীন করেছে, প্রত্যেকটা নাগরিকের সমান অধিকার থাকবে। কেন হিন্দুরা ভাববে যে ‘আমরা মাইনোরিটি কমিউনিটি’। আমার কাছে মনে হয়, এটা তাদের ভেতর ইনফেরিওরিটি কমপ্লেক্স। সব এ দেশের নাগরিক।”
গুজরাটের গোধরায় ট্রেনে আগুনে ৫৯ জন হিন্দু নিহত হওয়ার ঘটনার সূত্র ধরে ভারতজুড়ে ছড়িয়ে পড়া দাঙ্গায় এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের বেশিরভাগ ছিলেন মুসলমান।
ট্রেনে আগুন দেওয়ার জন্য মুসলমানদের দায়ী করে প্রতিশোধের নেশায় উন্মত্ত হিন্দু জনতা গুজরাটের শহর ও গ্রামগুলোর মুসলিম জনবসতিতে তিন দিন ধরে তাণ্ডব চালায়।
ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তখন ছিলেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী। ওই দাঙ্গায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগও সে সময় ওঠে। তবে ২০১২ সালে সুপ্রিম কোর্টের একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে গুজরাট দাঙ্গায় মোদীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ খারিজ করে দেওয়া হয়।
প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেন, “আমাদের সব কিছু নতুন করে ভাবতে হবে। আমাদের চলতে হবে রাসুলুল্লাহ (সা.) যে পথ দেখিয়ে গেছেন…; আদারওয়াইজ এই যে বিভ্রান্তি এবং অশান্তি থেকে মুক্তিতো পাবই না, পরকালে কৈফিয়ত দিতেও পারব না।”
তিনি বলেন, “কোনো ইতিহাস বলে না যে রাসুল (সা.) কোনো বিধর্মীকে কম্পেল (জোর) করেছেন মুসলমান হওয়ার জন্য। মদিনা সনদ পৃথিবীর প্রথম লিখিত সংবিধান, সেখানে সব সম্প্রদায়ের লোক মিলে এক জাতি গঠন করার কথা বলা আছে। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করতে তিনি বিদায় হজে বলে গেছেন। তারপরও আমরা একসাথে…।”
“আজকেও কয়েকটা মোকাদ্দমা হয়েছে, সেখানে জামিন চেয়েছে প্রতিমা ভাঙার জন্য। এটা কেন হবে?”
প্রধান বিচারপতি বলেন, “আমরা যখন মানবিকতার কথা বলি, তখন আমার কাছে মনে হয়, আমরা রাসুলুল্লাহকে (সা.) কে ভুলে যাই। সুরা ফাতেহায় আমরা বলি, আমাদের সহজ সরল পথ দেখান। এই পথ কোনটা? যে পথ রাসুল (সা.) দিয়ে গেছেন।”
মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোমতাজ উদ্দিন ফকিরের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান, বিচারপতি বোরহান উদ্দিন ও বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমও বক্তব্য দেন।
জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মধ্যে বক্তব্য দেন ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। হাই কোর্ট বিভাগের বেশ কয়েকজন বিচারক এবং সুপ্রিম কোর্টের অনেক আইনজীবীও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
বিশেষ বক্তা ছিলেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইনজীবী সমিতির সম্পাদক আবদুন নূর দুলাল।