২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬ কার্তিক ১৪৩৩

‘স্বাভাবিক’ হতে শুরু করেছে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যক্রম

“বিদ্যুতের সংযোগ ঠিক হওয়ায় ফ্যান চলছে। পানি এবং অন্যান্য সব কিছু মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে।”

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 30 Sep 2026, 12:21 AM

Updated : 30 Sep 2026, 12:21 AM

ধ্বংসের ক্ষত কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে ঢাকার মিরপুরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার।

চতুর্থ দিনের মতো মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে একটি কক্ষে টিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ সচল হয়েছে।

বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বিদ্যুৎ মিলেছে। কাল হয়তো পানিও মিলবে। ওয়াশরুমের কাজ এখনো শেষ হয়নি।

“দরজা-জানালা তো কিছুই নেই। এর মধ্যে গুছিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি।”

গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে সংস্থাটির কার্যালয়ের একটি টিনশেড ও তিনটি সেমিপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। আর পাকা ভবনের আল্ট্রাসনোগ্রাম কক্ষ, টিকাকক্ষ, ল্যাবরেটরিসহ পাঁচটি কক্ষের জানালা-দরজা ভেঙে ফেলা হয়।

ভবনটি থেকে সব ধরনের আসবাবপত্র, ওষুধসামগ্রী, আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফ্রিজ, এসি ও আলমারি নিয়ে যায় হামলাকারীরা। সব মিলিয়ে পুরো স্থাপনাটিতে কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

গভীররাতে হামলাকারীরা ভাঙচুর ও লুটপাটের পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লি.’ এর সাইনবোর্ড লাগিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় করা মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়াসহ ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে কেন্দ্রটি ঘুরে দেখা গেল, ভাঙাচোরা কক্ষের মধ্যে কয়েকটি চেয়ারে বসে টিকা দিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। আরেক পাশে এক চিকিৎসক নারীদের প্রজনন ও স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন।

বিভিন্ন কক্ষ পরিষ্কার করে ফ্যান লাগানো হয়েছে। ভাঙা জানালায় টানানো হয়েছে পর্দা। বিএনপির বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করছেন।

এর মধ্যেই সেন্টারের অন্য কক্ষ ও ধ্বংসস্তূপ থেকে ভাঙা কংক্রিট, ইটের টুকরাসহ অন্যান্য সামগ্রী সরানোর কাজ চলছে। আর স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে ভাঙা দেয়াল গাঁথছেন কয়েকজন মিস্ত্রি।

এখনো ওয়াশরুম ও পানির লাইনের মেরামত কাজ শেষ হয়নি। আনা হয়েছে পানির ট্যাংক।

টিকা নিতে আসা গৃহিণী লাভলী আক্তার বলেন, ‘‘আমরা মিরপুর এলাকায় ১০ বছরের বেশি সময় ধরে আছি। বাসার আশেপাশের সবাই প্রায় এই কেন্দ্রে আসে। বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ পাওয়া যায়। আমি ছোট মেয়েকে টিকা দিতে নিয়ে আসছিলাম।

“কিন্তু আসার পর এখানের অবস্থা দেখে এক ধরনের ভয় কাজ করছে। একটা ভালো জায়গা বা হাসপাতাল এভাবে কেন ভাঙা হল? যারাই জড়িত থাক, দ্রুত যাতে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি স্বাভাবিক হয়।”

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বললেন, “এখানে তারা বহুদিন ধরে সেবা দিচ্ছে, বিষয়টা খুব ভালো।

“কিন্তু এতদিন কাজ করার পর তারা জায়গা নিজেদের নামে নিতে পারেনি, সেটা তাদের এক ধরনের ব্যর্থতা।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বলেন, “আমরা সকাল থেকেই টিকা দিচ্ছি। এখন পর্যন্ত কেন্দ্রে ৬০ জন মানুষ সেবা নিতে এসেছে।

“যার মধ্যে ৪৬ জন টিকা নিতে এবং বাকিরা বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য পরামর্শ নিতে এসেছে।”

তিনি বলেন, “কেন্দ্রের অবস্থা আগের চেয়ে কিছুটা ভালো। বিদ্যুতের সংযোগ ঠিক হওয়ায় ফ্যান চলছে। পানি এবং অন্যান্য সব কিছু মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে।”