মোহাম্মদপুরে বাসে আগুন দিয়ে পালাতে গিয়ে মৃত্যু
পুলিশ বলছে, মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের কাছে ‘পরিস্থান পরিবহন’ এর একটি বাসে আগুন দেন রশিদ।
বিএনপি-জামায়াতের হরতালের মধ্যে ঢাকার মোহাম্মদপুরে একটি বাসে আগুন দেওয়ার পর স্থানীয়দের ধাওয়ায় নির্মাণাধীন এক ভবনের ছাদে গিয়ে উঠেছিলেন এক ব্যক্তি। তারপর সেখান থেকে পালাতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয় বলে দাবি পুলিশের।
সোমবার বেলা ১২টার দিকে মোহাম্মদপুরে জাকির হোসেন রোডের একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে গিয়ে আব্দুর রশিদ (৩৮) মারা যান বলে মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার আজিজুল হক জানান।
পুলিশ জানিয়েছে, রশিদের বাড়ি নাটোরে। তার পকেটে পাওয়া একটি আইডি কার্ডে তার নাম ঠিকানা পাওয়া যায়।
সহকারী কমিশনার আজিজুল বলেন, "আসাদ এভিনিউয়ে মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের কাছে ‘পরিস্থান পরিবহন’ এর একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছিলেন রশিদ।
“আগুন দেওয়ার পর রাস্তার লোকজন ধাওয়া দিলে সে জাকির হোসেন রোডের একটি নির্মাণাধীন ভবনের ছাদে গিয়ে ওঠে। ওই ছাদ থেকে লাফ দিয়ে পালাতে গিয়ে রশিদের মৃত্যু হয়।"
কমিশনার আজিজুল হক জানান, সকাল ১০টার দিকে বাসে আগুন দেওয়ার ওই ঘটনায় দুই যাত্রী দগ্ধ হন। তাদেরকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনিস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
আগুনে ওই বাসের সবগুলো সিট পুড়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভায়।
তবে এ ব্যক্তিকে নিজেদের কর্মী দাবি করে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর অভিযোগ, ‘‘সকাল-সন্ধ্যা হরতালের দিন দুপুরে বাড়ি ফেরার পথে আদাবর থানার সাবেক যুবদল নেতা বর্তমানে আদাবর থানাধীন ৩০ নং ওয়ার্ড বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আবদুর রশিদকে যুবলীগ-ছাত্রলীগ-আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ব্যাপক মারধর করার পর একটি নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের ছাদ থেকে ফেলে দিয়ে নিমর্মভাবে হত্যা করে।"
হরতালের মধ্যে মোহাম্মদপুর ছাড়াও ঢাকার গুলিস্তান ও বংশালের তাঁতীবাজারের আরও দুটি বাসে আগুন দেওয়া হয়।
শনিবার পুলিশের সঙ্গে সংঘাতের পর নয়া পল্টনের মহাসমাবেশ পণ্ড হয়ে গেলে হরতালের ডাক দেয় বিএনপি। পরে একই কর্মসূচি দেয় জামায়াত।
