কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টার থেকে উদ্ধারের পর ‘বন্দি’ সেই ৩০ বাংলাদেশি মুক্তি পেয়েছেন
“তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে রিলিজ অর্ডার পেয়ে দেশে ফেরার টিকেট কেটেছেন।”
কম্বোডিয়ার ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে আটকে থাকা ৩০ জন প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মী মুক্তি পেয়েছেন। তারা দেশে ফেরার ছাড়পত্রও পেয়েছেন।
কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশের কোনো দূতাবাস নেই। থাইল্যান্ডের ব্যাংককের বাংলাদেশ দূতাবাস থেকেই কম্বোডিয়ায় এ সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সেই দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) জহির ইমাম শনিবার দুপুরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ তথ্য দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “সেই ৩০ জন মুক্তি পেয়েছেন। তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে রিলিজ অর্ডার পেয়ে দেশে ফেরার টিকেট কেটেছেন। আশা করছি, শিগরিরই তারা দেশে ফিরবেন।”
এর আগে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের প্রবাসী কল্যাণ শাখা থেকে সম্প্রতি থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিবকে (শ্রম) পাঠানো এক চিঠিতে এই ৩০ জনকে মুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।
কল্যাণ বোর্ডের উপপরিচালক (আইআরপি) মোহাম্মদ জাকির হোসেন স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছিল, ‘অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশন’ নামের একটি সংগঠনের আবেদনের প্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
গত ৩ সেপ্টেম্বর কম্বোডিয়া থেকে দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেন বিমানবন্দরে গেলে সেখানকার ইমিগ্রেশন পুলিশ ৩২ বাংলাদেশি কর্মীকে গ্রেপ্তার করে। পরে দুজন মুক্তি পেলেও বাকি ৩০ জন দেশটির ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ছিলেন।
আটকে পড়া ৩০ কর্মী হলেন—মো. হারুন অর রশীদ, মো. আব্দুল ওয়াদুদ, মো. তারলিব হাসান তিতুল, সুমিত চন্দ্র দাস, রাকিব হোসেন, বাপ্পি দাস, মো. লাবন শেখ, মো. আবদুর রহমান, মো. বিল্লাল হোসেন, মো. মোস্তফা, নূর নবী, মো. ইমন আলী, মো. বারকাতুল্লাহ, মো. রুবেল মিয়া, আলী আহমেদ, জাহিদুল ইসলাম, শামসুল আলম, মো. আবদুর রহমান, আবু জাহের সবুজ, শাওন, নাহিদ ঢালি, রাজু হোসেন, মো. তৈয়ব আলী শেখ, সাইমন ভূঁইয়া, মো. রাশেদুল, মো. আকাশ আহমেদ, মো. শিমুল আলী, আশিকুর রহমান, মো. আলামিন পিকে, মোহাম্মদ কবির
নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের মুক্ত করে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে চিঠিতে বলা হয়েছিল।
কী ঘটেছিল কম্বোডিয়ায়?
আকর্ষণীয় বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে দালাল চক্রের মাধ্যমে এসব প্রবাসীদের কম্বোডিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের অনেককে জোর করে সাইবার স্ক্যামিং বা অনৈতিক অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্রগুলোতে আটকে রাখা হয়। প্রবাসীরা সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাদের উপর নির্যাতনও চালানো হত।
পরবর্তীতে দেশটির সরকার নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় দেশে ফেরত আসার উদ্দেশ্যে গত ৩ সেপ্টেম্বর তারা কম্বোডিয়ার বিমানবন্দরে জড়ো হন।
কিন্তু ইমিগ্রেশন চেকিংয়ের সময়ে অবৈধ অবস্থান ও অন্যান্য জটিলতায় তাদের পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তারা দেশে ফেরার জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছেন।
