০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩

পান রপ্তানিতে সমিতির সনদের বাধ্যবাধকতা স্থগিত

এর ফলে পান রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পান রপ্তানিকারক সমিতির প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকছে না।

পান রপ্তানিতে সমিতির সনদের বাধ্যবাধকতা স্থগিত

বরজের পান গাছের পরিচর্যা করছেন এক চাষি। 

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 04 Oct 2026, 08:58 PM

Updated : 04 Oct 2026, 08:58 PM

বাংলাদেশ পান রপ্তানিকারক সমিতির প্রত্যয়নপত্র ছাড়া পান রপ্তানি করা যাবে না, হাই কোর্টের এমন আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেছে চেম্বার আদালত।

বিচারপতি মো. রেজাউল হকের চেম্বার আদালত রোববার এই আদেশ দেয়। এর ফলে পান রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ পান রপ্তানিকারক সমিতির প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার বাধ্যবাধকতা আপাতত থাকছে না।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মো. তাজুল ইসলাম।

অন্যদিকে বাংলাদেশ পান রপ্তানিকারক সমিতির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ফিদা এম কামাল। এ সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন সমিতির আরেক আইনজীবী ও সাবেক বিচারপতি ফয়সল মাহমুদ ফয়েজী।

বাংলাদেশ পান রপ্তানিকারক সমিতির এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে গত ৬ অগাস্ট হাই কোর্ট আদেশ দেয়, সমিতির প্রত্যয়নপত্র ছাড়া পান রপ্তানি করা যাবে না।

হাই কোর্টের ওই আদেশের কার্যকারিতা চ্যালেঞ্জ করে রাষ্ট্রের পক্ষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (বাণিজ্য সংগঠন) আপিল বিভাগে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল করেন। রোববার ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে চেম্বার আদালত হাই কোর্টের আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করল।

আদেশের পর রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন মোতাবেক পান রপ্তানিকারকরা নির্বিঘ্নে রপ্তানি করতে পারবেন তথ্য দিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “১৯৬১ সালের বাণিজ্য সংগঠন আইনের বিধানের কথা উল্লেখ করে ২০০৩ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় পান রপ্তানির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সমিতির সদস্যপদ গ্রহণের বিষয়ে একটি আদেশ দিয়েছিল।

ওই আদেশকে ব্যবহার করে বাংলাদেশ পান রপ্তানিকারক সমিতি পান রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি করে।”

সরকারের এই আদেশটাকে ব্যাবহার করে বাংলাদেশ পান রপ্তানিকারক সমিতি থেকে সনদ নিতে হত জানিয়ে কাজল বলেন, “এ পরিস্থিতিতে সরকার ২০০৩ সালের সিদ্ধান্ত স্থগিত করে। ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সমিতি হাই কোর্টে যায়। পরে গত ৬ অগাস্ট হাই কোর্ট পান রপ্তানির আগে সমিতির প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার নির্দেশ দেন।”

সরকারি আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ এবং কাস্টমস ডিউটি ও অন্যান্য সরকারি কর পরিশোধের পরও একটি বেসরকারি সমিতির কাছ থেকে প্রত্যয়নপত্র নেওয়ার বাধ্যবাধকতার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “রাষ্ট্রের পক্ষে সরকার পরিচালিত হয়, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোন কনসাইনমেন্টের উপরে কত টাকা ট্যাক্স দিতে হবে। আর উনাদের কথা হচ্ছে, আমি সার্টিফিকেট দেব, পছন্দ হলে একজনকে দেব, একজনকে দেব না।”

এদিকে বাংলাদেশ পান রপ্তানিকারক সমিতির আইনজীবী ফয়সল মাহমুদ ফয়েজী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “পান রপ্তানির ক্ষেত্রে আন্ডার ইনভয়েসিং ও অর্থপাচার ঠেকাতে প্রত্যয়নপত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ২০০৩ সালে ট্রেড অর্গানাইজেশন আইনের অধীনে পান সমিতিকে পান রপ্তানিকারকদের প্রতিনিধি সংগঠন হিসেবে লাইসেন্স দেওয়া হয়। আইন অনুযায়ী রপ্তানিকারকদের সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য সংগঠনের সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক।”

ফয়েজীর ভাষ্য, একসময় কিছু ব্যবসায়ী ‘সবজি’ ঘোষণা দিয়ে বিমানে করে পান রপ্তানি করতেন। এ নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর আপিল বিভাগে পান সমিতি জয়লাভ করলে ওই ব্যবসায়ীদের সমিতির সদস্য হতে হয়।

তিনি বলেন, “রপ্তানির সময় ৪ বা ৫ ডলার মূল্যের পানের দাম ১ ডলার দেখিয়ে বাকি টাকা হুন্ডির মাধ্যমে লেনদেন এবং মানি লন্ডারিংয়ের মত অপরাধ নিয়ন্ত্রণের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি চিঠি ইস্যু করেছিল। সেখানে বলা হয়, অন্যান্য ট্রেড অর্গানাইজেশনের মতো পানের চালানের ক্ষেত্রেও সমিতির প্রত্যয়নপত্র লাগবে।”

এই প্রত্যয়নপত্রের মাধ্যমে রপ্তানির পরিমাণ ও মূল্য সম্পর্কে সমিতির কাছে তথ্য থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে তথ্য দিয়ে ফয়েজী বলেন, “সরকার রপ্তানিতে প্রণোদনা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে সমিতির নথি থেকে ওই তথ্য যাচাই করতে পারে এবং এতে আন্ডার ইনভয়েসিং ঠেকানো সম্ভব হয়।”

চেম্বার আদালতের রোববারের আদেশের বিষয়ে ফয়েজী বলেন, “এনবিআরের নির্দেশনা মানতে হাই কোর্ট যে আদেশ দিয়েছিল, চেম্বার আদালত আপাতত তার কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। চূড়ান্ত শুনানির পর বিষয়টির নিষ্পত্তি হবে।”