যুব মহিলা লীগ নেত্রী ডালিয়া খুন: এক আসামির ‘স্বীকারোক্তি’, ২ জন রিমান্ডে
কেরাণীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরের রসুলপুর বাজার এলাকায় গত শুক্রবার সকালে একটি ফ্ল্যাট থেকে ডালিয়ার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার হয়।
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ও যুব মহিলা লীগ নেত্রী ডালিয়া আক্তার সুমা হত্যা মামলায় এক আসামি আদালতে ‘স্বীকারোক্তিমূলক’ জবানবন্দি দিয়েছেন। এছাড়া আরও ২ আসামিকে দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আব্দুস সালাম দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই নিতাই চন্দ্র দাস রোববার ৩ আসামিকে আদালতে হাজির করেন। এদের মধ্যে অনিক নামে এক আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করা হয়।
অন্যদিকে আশিক ও আলমগীর নামে আরও দুই আসামির ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন তদন্তকর্তা।
আবেদনের প্রেক্ষিকে ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগ আসামি অনিকের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। আরেক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা ছিদ্দিকার আদালতে আশিক ও আলমগীরের রিমান্ড বিষয়ে শুনানি হয়। আদালত শুনানি নিয়ে দুই আসামির দুই দিনের রিমান্ডের আদেশ দেয়।
তবে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না বলে জানান এসআই আব্দুস সালাম।
ডালিয়া আক্তার সুমা কেরানীগঞ্জ মডেল থানার বাস্তা ইউনিয়ন যুব মহিলা লীগের সভাপতি ও রসুলপুর এলাকার লিয়াকত শিকদারের মেয়ে।
কেরাণীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরের রসুলপুর বাজার এলাকায় গত শুক্রবার সকালে সোনালী ব্যাংক ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় শনিবার ডালিয়ার মেয়ে লাভলী আফরোজ নাদীয়া অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করলে তদন্তে নামে পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে শনিবার দুপুরে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান থানার চান্দেরচর এলাকা থেকে অনিককে এবং সন্ধ্যায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার আব্দুল্লাহপুর এলাকা থেকে আশিক ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, চুরির উদ্দেশ্যে ডালিয়ার বাসায় প্রবেশ করেছিল আসামিরা। এ সময় ফ্ল্যাটে অবস্থানরত ডালিয়া তাদের দেখে ফেললে বাধা দেন। তখন ধারালো অস্ত্র দিয়ে ডালিয়াকে গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায় তারা।
