Published : 28 May 2023, 05:25 PM
আওয়ামী লীগ নেতা দুরন্ত বিপ্লবের মৃত্যুর ঘটনায় ‘সঠিক তদন্তের’ দাবিতে তার জন্মদিনে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন মা রোকেয়া আক্তার খাতুন, এর কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে।
শনিবার রাত দেড়টার দিকে রোকেয়া আক্তারের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন তার মেয়ে শাশ্বতী বিপ্লব।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আজ (রোববার) বাদ জোহর জানাজা হয়েছে জাপান গার্ডেন সিটিতে, ভাইয়ের যেখানে হয়েছিল সেখানেই। রায়ের বাজার বধ্যভূমির পেছনে যে কবরস্থান, সেখানে মায়ের দাফন হবে।”
দুরন্ত বিপ্লবের জন্মদিনে শনিবার বিকাল ৩টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘জাস্টিস ফর দুরন্ত বিপ্লব’ নামে একটি বই এর প্রকাশনা উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দুরন্ত বিপ্লবের মা রোকেয়া আক্তার খাতুন।
বইটিকে ‘দুরন্ত বিপ্লব হত্যাকাণ্ডের ডকুমেন্টারি এভিডেন্স বা দালিলিক সাক্ষ্য’ বলে এদিন দাবি করে তার পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে রোকেয়া আক্তার বলেছিলেন, “দুরন্তের বন্ধু-বান্ধব, বড় ভাই, ছোট ভাই সবাই তাকে চেনে। আমি মা হিসেবে তাকে যতটা চিনেছি, তা বর্ণনাতীত। এটা সত্য সে পানিতে ডুবে মরেনি। দুরন্তকে তার সার্কেলের লোকজন, যাদের সঙ্গে চলাফেরা করত, এদের মধ্যেই কারো স্বার্থে আঘাত লেগেছে, সে কারণে তাকে হত্যা করেছে।”

দুরন্ত বিপ্লব ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষি ও সমবায় বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য। তবে রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় ছিলেন না। দুই যুগ আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন দুরন্ত। কয়েক বছর ধরে কেরানীগঞ্জের বাস্তায় সোনামাটি অ্যাগ্রো ফার্ম নামে একটি কৃষি খামার চালিয়ে আসছিলেন।
২০২২ সালের ৭ নভেম্বর সন্ধ্যায় কেরানীগঞ্জ থেকে মোহাম্মদপুরে মায়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে তিনি নিখোঁজ হন; দুদিন পর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় জিডি করে তার পরিবার।
এরপর ১২ নভেম্বর বিকালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পাগলা ঘাট এলাকার বুড়িগঙ্গা থেকে ভাসমান একটি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে স্বজনরা এটিকে দুরন্ত বিপ্লবের বলে শনাক্ত করে।
পরদিন তার লাশের ময়নাতদন্তের পর চিকিৎসক সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, দুরন্ত বিপ্লব ‘হত্যাকাণ্ডের শিকার’ হয়েছেন। এরপরই বিপ্লবের ছোটবোন শাশ্বতী বিপ্লব দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেন।
এদিকে চিকিৎসক ও পরিবার হত্যার সন্দেহের কথা বললেও পুলিশ এটিকে দুর্ঘটনা বলে আসছিল; ঘটনার ছায়া তদন্তে নেমে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনও (পিবিআই) একই কথা জানায়।
দুরন্তের মৃত্যুকে দুর্ঘটনা বলতে নারাজ ছিলেন তার মা রোকেয়া আক্তার। ঘটনাটিকে তিনি ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করে সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
বিষয়টি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে দুরন্তের বোন শাশ্বতী বিপ্লব বলেন, “আমার ভাইয়ের মৃত্যুর তদন্তটা ঠিকঠাক হল না, এই কষ্ট নিয়েই মা চলে গেলেন। এত কিছুর বিনিময়েও যদি আমার ভাইয়ের মৃত্যুর তদন্তটা ঠিকঠাক হত!”