যুদ্ধাপরাধ: খুলনার ৬ আসামির রায় বৃহস্পতিবার

হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগের চার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 July 2022, 07:37 AM
Updated : 26 July 2022, 07:37 AM

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে খুলনার আমজাদ হোসেন হাওলাদারসহ ছয় আসামির সাজা হবে কি না তা জানা যাবে বৃহস্পতিবার।

বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মঙ্গলবার এ মামলার রয়ের তারিখ ঠিক করে দেন।

ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো. আবু আহমেদ জমাদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম।

আসামিরা হলেন- খুলনার বটিয়াঘাটার আমজাদ হোসেন হাওলাদার, সহর আলী শেখ, মো. আতিয়ার রহমান শেখ, মো. মোতাসিন বিল্লাহ, মো. কামালউদ্দিন গোলদার ও মো. নজরুল ইসলাম।

তাদের মধ্যে নজরুল ইসলাম পলাতক; বাকি আসামিরা কারাগারে রয়েছেন।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় খুলনায় হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতন, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগের চার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

প্রসিকিউশনের পক্ষে আদালতে ছিলেন প্রসিকিউটর সাবিনা ইয়াসমিন খান মুন্নি। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুস সাত্তার পালোয়ান।

প্রসিকিউটর মুন্নি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজ এ মামলাটি কার্যতালিকায় এসেছিল, রায়ের জন্য ২৮ জুলাই (বৃহস্পতিবার) দিন রেখেছে ট্রাইব্যুনাল।”

তিনি জানান, এ মামলার মোট আসামি ছিলেন সাতজন, তাদের মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।

অভিযোগ গঠনের আগে আসামি মোজাহার আলী শেখ মারা যান। পরে বাকি ছয় জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে আদালত।

২০১৫ সালের ১৫ নভেম্বর এ মামলার তদন্ত শুরু করে প্রসিকিউশনের তদন্ত দল। এরপর ২০১৭ সালের ৮ অগাস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়।

পরের বছর এ মামলার অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। প্রসিকিউশনের ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় ৭ নভেম্বর।

সাক্ষীদের জেরা শেষে ২২ মে যুক্তিতর্ক শেষ হলে মামলাটি যে কোনো দিন রায়ের জন্য রাখে ট্রাইব্যুনাল।

যা যা অভিযোগ

প্রথম অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ১০ অগাস্ট আমজাদ হোসেন হাওলাদারসহ চার-পাঁচজন রাজাকার বটিয়াঘাটার মাছালিয়া গ্রামের শান্তি লতা মণ্ডলের বাড়িতে হামলা চালিয়ে বিনোদ মণ্ডলকে অবৈধভাবে আটক-নির্যাতন, অপহরণ ও গুলি করে হত্যা করেন।

দ্বিতীয় অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ১৫ অক্টোবর বটিয়াঘাটার পূর্বহালিয়া গ্রামের চাপরাশী বাড়িতে হামলা চালিয়ে নিরস্ত্র হরিদাস মজুমদারকে আটক, নির্যাতন ও গুলি করে হত্যা করেন আসামিরা।

তৃতীয় অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ২১ অক্টোবর হিন্দু সম্প্রদায়কে নিশ্চিহ্ন করতে বটিয়াঘাটার সুখদাড়া গ্রামে হামলা চালিয়ে নিরীহ নিরস্ত্র হিন্দু সম্প্রদায়ের চারজনকে হত্যা, চার-ছয়টি বাড়ির মালামাল লুট এবং অগ্নিসংযোগ করে আসামিরা।

চতুর্থ অভিযোগ: ১৯৭১ সালের ২৯ নভেম্বরে আসামিরা বটিয়াঘাটার বারো আড়িয়া গ্রামে হামলা চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধা জ্যোতিষ মণ্ডল এবং আব্দুল আজিজকে গুলি চালিয়ে হত্যা করে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক