খাদ্যচক্রে ভারী ধাতু: বিপদের উৎস কোথায়

গবেষকরা বলছেন, সার ও কীটনাশক ব্যবহার ‘নিরপদ’ করতে হবে। আমদানি করা কীটনাশকে ভারী ধাতু থাকছে না– এটাও নিশ্চিত করা জরুরি।

মঈনুল হক চৌধুরীবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 15 Nov 2022, 07:35 PM
Updated : 15 Nov 2022, 07:35 PM

কেবল বেগুন নয়, অন্যান্য ফসলেও ভারী ধাতুর বিপদ ধীরে ধীরে বাড়ছে, যার অন্যতম কারণ কৃষি কাজে ব্যবহৃত সার ও কীটনাশক।

মানুষের খাদ্যচক্রে এসব ভারী ধাতুর প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমাণ না হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তবে সেজন্য নির্দিষ্ট কোনো ফসল বা খাদ্যপণ্য নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে খাদ্য উৎপাদনের উৎসে বিষ ছড়ানোর সুযোগ বন্ধ করতে উদ্যোগী হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক বেগুনে ভারী ধাতুর উপস্থিতি পেয়েছেন। আর সেই খবরে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জামালপুরের যেসব এলাকার বেগুন ক্ষেতে ওই গবেষণা করা হয়েছে, সেখানকার মাটিতে সিসা, নিকেল, ক্যাডমিয়াম, তামা ও দস্তা পাওয়া গেছে গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে বেশি। 

গবেষক দলটির ধারণা, ওই বাড়তি ভারী ধাতু বেগুনে জমা হয়েছে সার, কীটনাশক বা বালাইনাশকের মত উৎস থেকে।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক কাজী ফরহাদ কাদির বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কেবল বেগুন নিয়েই যে এ ধরনের গবেষণা হয়েছে- এমন নয়। গত দশ বছর ধরে তাদের বিভাগ থেকেই চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহের নানা রকমের চাল, বেগুন, পালং শাক, মুরগি ও গরুর মাংস, রুই ও তেলাপিয়া মাছসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে ভারি ধাতুর উপস্থিতি নিয়ে গবেষণা হয়েছে।

“দেখেছি, সবচেয়ে বেশি এক্সপোজারটা এসেছে চালে। এরপর পালং শাক, বেগুনেও রয়েছে।”

কৃষিকাজে কীটনাশক ও বালাইনাশক ব্যবহার করা হয় কীটপতঙ্গ ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের জন্য। বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৩৮ হাজার টন কীটনাশক ব্যবহৃত হয়, যার প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি করা হয়। আর এসব আমদানি করা কীটনাশকে যে ভারী ধাতুর উপস্থিত থাকছে, সে বিষয়টি গত কয়েক বছর ধরেই আলোচনায় রয়েছে।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ নিরাপদ খদ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, বাজার থেকে সংগ্রহ করা ৪৭ ব্র্যান্ডের আমদানি করা কীটনাশকের নমুনা পরীক্ষা করে সীসা, ক্যাডমিয়াম, ক্রমিয়ামের মতো ভারী ধাতু পাওয়া গেছে।

এতে স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কা থাকায় বন্দরে পরীক্ষা ছাড়া কোনো কীটনাশকের চালান খালাস না করতে এনবিআরকে চিঠি দেয় সংস্থাটি। পাশাপাশি বাজারে থাকা কীটনাশক তুলে নিতে কৃষি মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

ওই বছরই নিরাপদ খদ্য কর্তৃপক্ষের গবেষণায় গরুর দুধে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মাত্রায় অ্যান্টিবায়োটিক, কীটনাশক ও সিসা পাওয়া গিয়েছিল, যা তুমুল আলোচনার জন্ম দেয় সে সময়।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিস্ট্রি ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক পলাশ কুমার ধর বলেন, “খাদ্যচক্রে আর্সেনিক, মার্কারি ও লেড বেশ ক্ষতিকর। বাকি হেভি মেটালও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে আমরা ধারণা করি। ১০-১৫ বছর পর হয়ত ক্ষতিটা শরীরে দৃশ্যমান হবে।”

তার পরামর্শ, ফসলের ক্ষেতে যাতে অনুমোদিত পেস্টিসাইড, ফাঙ্গিসাইড আর ফার্টিলাইজার অনুমোদিত মাত্রায় ব্যবহার করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে শিল্প এলাকার ক্ষতিকর পদার্থ পরিবেশে মেশা ঠেকাতে হবে।

 ভারী ধাতু বৃত্তান্ত

যুক্তরাষ্ট্রের এজেন্সি ফর টক্সিক সাবসটেন্স অ্যান্ড ডিজিজেস রেজিস্ট্রি (এটিএসডিআর) ভারী ধাতুগুলোর মধ্যে পারদ, আর্সেনিক, সিসা, ক্যাডমিয়াম ও ক্রোমিয়ামকে জনস্বাস্থ্যের জন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। 

আবার তামা, লোহা, দস্তা, নিকেলের মত কিছু ধাতু প্রাণীদেহের বিপাকীয় কাজের জন্য দরকারি, কিন্তু অতিরিক্ত মাত্রায় শরীরে এলে সেগুলোও ক্ষতির কারণ হতে পারে।

জীবাশ্ম জ্বালানি, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা, ইলেক্ট্রনিক বর্জ্য থেকে পরিবেশে ভারী ধাতু মিশতে পারে, যা পৌঁছাতে পারে চাষের জমিতে। এর বাইরে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের মাধ্যমে ভারী ধাতু মাটিতে জমতে পারে।

২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনে প্রকাশিত ‘হেভি মেটাল অ্যান্ড পেস্টিসাইডস টক্সিসিটি ইন এগ্রিকালচারাল সয়েল অ্যান্ড প্ল্যান্টস: ইকোলজিকাল রিস্কস অ্যান্ড হিউম্যান হেলথ ইমপ্লিকেশনস’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়, ভারী ধাতু মাটিতে অণুজীবের টিকে থাকার পরিবেশ বদলে দেয়, উদ্ভিদের ডিএনএর গঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং শেষ পর্যন্ত ফসলের মাধ্যমে মানুষের দেহে পৌঁছে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি তৈরি করে।

আরও একটি বিপদের কথা বলা হয়েছে ওই গবেষণায়, তা হল যুগল বিষক্রিয়া। অর্থাৎ, একাধিক ভারী ধাতু মাটিতে বা উদ্ভিদের ভেতরে রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তৃতীয় কোনো উপাদান তৈরি করতে পারে, যা ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়িয়ে তোলার সম্ভাবনা রাখে। তবে সেটা ঠিক কেমন হতে পারে, এ গবেষণায় তা আসেনি।

আলোচনায় জামালপুরের বেগুন

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একদল গবেষক জামালপুরের ইসলামপুর ও মেলান্দহ উপজেলার মাটি ও বেগুন নিয়ে একটি গবেষণা পরিচালনা করেন। এর ফলাফল ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ জার্নালে প্রকাশিত হয়।

এ গবেষণায় জামালপুরের ২০টি জায়গা থেকে ৬০ রকমের মাটির নমুনা এবং ৮০টি বেগুনের নমুনায় ধাতুর উপস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। তাতে বেগুনে সীসা, নিকেল, তামা, ক্যাডমিয়াম, লোহা, ম্যাঙ্গানিজ এবং জিঙ্কের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। ৭৫% নমুনায় সীসা ও ১০% নমুনায় ক্যাডমিয়াম পাওয়া গেছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সির (ইউএসইপিএ) স্বাস্থ্য ঝুঁকি মুল্যায়ন মডেল অনুযায়ী বেগুনে পাওয়া ভারি ধাতু নিয়ে ক্যান্সার ও নন-ক্যান্সার ঝুঁকি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সবগুলো নমুনায় সীসা ও নিকেল এবং ৪০% নমুনায় ক্যাডমিয়ামের মান নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি ছিল।

আর মাটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই ধাতুগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশ, বিশেষ করে ক্যাডমিয়াম, সীসা, নিকেল এবং তামা মাটি থেকেই আসছে। কীটনাশক ও সার ব্যবহারই মূলত কৃষি জমিতে ভারী ধাতুর দূষণের কারণ বলে গবেষকরা মনে করছেন।

গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক জাকির হোসেন বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা যেহেতু তিনটি ভারী ধাতু (লেড, ক্যাডমিয়াম, নিকেল) বেশি পরিমাণে পেয়েছি। পরে পিসিএ (প্রিন্সিপাল কম্পোনেন্ট অ্যানালাইসিস) করেছি। দেখা গেছে, মাটিতে যে ভারী ধাতু তিনটি বেশি মাত্রায় রয়েছে, বেগুনেও সেগুলো বেশি। আমরা স্ট্রং কো-রিলেশনশিপ পেয়েছি। এতে প্রমাণিত হয়-মাটিতে বেশি থাকলে বেগুনে বেশি যাচ্ছে।

“এখন বোঝা গেল যে মাটি থেকে বেগুনে যাচ্ছে। তাহলে মাটিতে এলো কোত্থেকে। ওই এলাকা তেমন ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া নয়। অন্য ইন্ডাস্ট্রিয়াল এরিয়া থেকেও সেখানে শিল্পকারখানার বর্জ্য পৌঁছানোর সম্ভাবনা কম। বন্যার পানিতে ভেসে ওখানে পৌঁছেছে, সে সম্ভাবনাও তেমন নেই। ফলে সেচের পানির মাধ্যমে দূষণ ছড়ালে মাত্রা অতটা বেশি হওয়ার কথা না।”

জাকির হোসেন বলেন, “এ কারণে আমাদের ধারণা, কৃষি উপকরণ যেমন সার ও কীটনাশক থেকে দূষণটা হচ্ছে। কোনটা থেকে বেশি হচ্ছে, সেটা জানতে আরও গবেষণা দরকার রয়েছে বলে আমরা মনে করি।“

এই গবেষক বলেন, সারে ভারী ধাতুর মাত্রা নিয়ে দেশে স্পষ্ট নীতিমালা থাকলেও কীটনাশক নিয়ে তা নেই। সে কারণে জামালপুরে বেগুন ক্ষেতের ভারী ধাতু দূষণের ক্ষেত্রে কীটনাশক বড় ভূমিকা রেখে থাকতে পারে বলে তাদের সন্দেহ। 

“এ জায়গায় আমরা জোর দিচ্ছি। আমরা চাইছি, সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল উদ্যোগী হয়ে এ বিষয়ে জোর দিয়ে প্রকৃত উৎস বের করে পদক্ষেপ যেন নেয়।”

সচেতনতা চাই উৎসে

খাবারে ভারী ধাতুর বিষক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের শিক্ষক পলাশ কুমার ধরযশোরে একটি গবেষণার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রথম কথা হচ্ছে- যে কোনো কিছু যখন স্ট্যান্ডার্ড মাত্রার চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর। যেহেতু কিছু ভারী ধাতুর উপস্থিতি বেশি পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে সেক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে তা ক্ষতির কারণ হতে পারে। পরামর্শ হচ্ছে- সঠিকভাবে রিসাইকেলটা প্রয়োজন।”

পৃথিবীর অনেক এলাকাতেই প্রকৃতিতে হেভি মেটালের মাত্রা বেশি হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, “রেগুলার অ্যাকটিভিজেও মাত্রা বাড়তে পারে। যেমন খনি এলাকায়, শিল্প এলাকায় মানবসৃষ্ট কাজের কারণে হতে পারে,… এসব থেকে বিভিন্নভাবে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারে ভারী ধাতু। সেটা বাতাসের মাধ্যমে হতে পারে, পানির সঙ্গেও হতে পারে।”

সে কারণে ভারী ধাতু সমৃদ্ধ উপকরণ নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলার তাগিদ দিচ্ছেন পলাশ ধর। তিনি বলেন, “এটা প্রথম কাজ। নির্দিষ্ট জায়গায় নির্দিষ্ট পরিমাণ বর্জ্য ফেলার পাশাপাশি ট্রিটমেন্ট করতে হবে। ইলেকট্রনিক সামগ্রী যেখানে সেখানে ফেলা হচ্ছে, রিসাইকেল করা হচ্ছে না। তা না হলে এটা মাটিতে দীর্ঘদিন ধরে থাকবে। ১০-২০ বছর পরে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এটা একদিনের ফল নয়।”

শিল্প কারখানাগুলো সঠিকভাবে বর্জ্য ডাম্পিং করছে কিনা, তা সঠিক জায়গায় হচ্ছে কিনা– সেসব নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন সহকারী অধ্যাপক পলাশ।

আর সেজন্য একটি ডেটা বেইজ তৈরির ধারণা দিয়ে তিনি বলেন, “একটি প্রকল্পের অধীনে পুরো দেশকে বিভিন্ন জোনে ভাগ করে এ ডেটা বেইজ করতে পারে। সরকার চাইলে এটা সম্ভব। যেসব এলাকা খুব বেশি পরিমাণে হেভি মেটাল পাওয়া যাচ্ছে, মানে রেড জোন, সেসব এলাকায় চাষাবাদ করার আগে একটু চিন্তাভাবনা করতে হবে, সেখানে কতটা ঝুঁকি থাকবে। সেখানে ভালো ব্যবস্থাপনা বা নজরও রাখা যাবে।

“হেভি মেটাল যেখান থেকে আসছে, সেখানে যদি রোধ করতে পারি, তাহলে দূষণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। তবে এ কাজ এত সহজ হবে না।”

চাই আরও গবেষণা

চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে চাল, বেগুন, পালং শাক, মুরগি ও গরুর মাংস, রুই ও তেলাপিয়া মাছসহ নানা খাদ্যপণ্য নিয়ে গবেষণা করেছেন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক কাজী ফরহাদ কাদের।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি, হেভি মেটালের এক্সপোজার সবচেয়ে বেশি এসেছে ভাতে। এরপর পালং শাক, বেগুনেও রয়েছে। দোষ তো বেগুন আর ভাতের নয়...। বিষয়টা হচ্ছে ধানে পাওয়া গেছে, এটা মাটি থেকে এসেছে। এখন সোর্স মিনিমাইজেশন কীভাবে করা যায়’ বিষয়টি নিয়ে গবেষণা চলছে।”

তিনি বলেন, দিন দিন গ্রামেও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বাড়ছে। মোবাইলের মত ই-ডিভাইসের ব্যবহার যেমন বাড়ছে, ব্যাটারিচালিত রিকশা চলছে সবখানে। বাতিল হওয়ার পর সেগুলোর ‘ডিসপোজালের’ জন্যও নীতিমালা দরকার।

“ব্যাঙের ছাতার মত প্রচুর বৈধ-অবৈধ কারখানা গড়ে উঠছে কৃষি জমির ধারে। সেগুলোকে নজরদারির মধ্যে নিয়ে আনতে হবে, পরিত্রাণের উপায় খুঁজতে হবে।”

খাবারে ক্ষতিকর ধাতুর উপস্থিতি কামানোর উপায় খুঁজতে আরও গবেষণার প্রয়োজন মন্তব্য করে তিনি বলেন, “খাবারে যাতে প্রবেশ করতে না পারে, খাদ্যচক্রে অতি মাত্রায় যাতে না থাকে- সে বিষয়ে রেগুলেটরি কন্ট্রোল বা পলিসি লেভেলে তদারকি বাড়াতে হবে।

“বিকল্প ফার্মিং নয়, বরং কৃষিতে দরকার গুড অ্যাগ্রিকালচারের প্র্যাকটিস। তাহলে যে কোনো ধরনের ঝুঁকি অনেকখানি কমে আসে। সেক্ষেত্রে কৃষককেও সচেতন করতে হবে। তাতে তাদের যে ব্যয় বাড়বে, তা পুষিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে হবে।”

অধ্যাপক ফরহাদ কাদের বলেন, “জামালপুরের গবেষণা হয়ত শুধু একটি প্রডাক্টের ওপর হয়েছে। কিন্তু আমাদের খাদ্য তালিকায় অন্যান্য যে খাবার, সেগুলোও তো দূষণের বাইরে নয়। সার যে মাত্রায় ব্যবহার করার কথা তা মনিটরিং করা দরকার। পেস্টিসাইডের কোয়ালিটি কন্ট্রোল হচ্ছে কিনা, আমদানির কারণে নির্দিষ্ট পেস্টিসাইডের বাইরে আরও বিষাক্ত কিছু নিয়ে আসছে কিনা দেখা দরকার।”

সরকার কী করছে?

কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (গবেষণা অধিশাখা) বিপুল চন্দ্র বিশ্বাস বললেন, গবেষণায় যখন নতুন কোনো তথ্য আসে, তারা সেটা পর্যালোচনা করা হয়।

“এসব বিষয় নিয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি। আমাদের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। উদ্বিগ্ন হওয়ার মত তেমন কিছু হয়নি এখনও।”

সার বা কীটনাশকের অতি ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও এর দায় কৃষকের ওপরই দিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সম্প্রসারণ) এইচ এম মনিরুজ্জামান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “কৃষকরা একটু বেশি ব্যবহার করে ফেলেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একটি উইং থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। যে কেমিকেলগুলো ব্যবহার করলে ভালো, কোনোটি ব্যবহারের এক সপ্তাহের মধ্যে ফসল খাওয়া যায়, আবার কোনোটি ব্যবহার করলে ১৫ দিনের আগে সবজি খাওয়া যাবে না…। এ জন্যে যেসব কেমিকেলের আফটার ইফেক্ট কম, সেগুলো শাক সবজিতে ব্যবহার করতে বলি। মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশন দেওয়া হয়।”

তবে সার্বিকভাবে পরিবেশে দূষণ যে বাড়ছে, ফসলের মাঠেও যে এর প্রভাব পড়ছে, সরকারি এই কৃষি কর্মকর্তাও তা মানছেন।

তিনি বলেন, “দূষণ রোধ করে পরিষ্কার-পরিছন্ন চাষাবাদ ও জৈব সার ব্যবহার করলে খাবারও নিরাপদ হবে। রোগের ওষুধ, পোকার ওষুধ আর আগাছা নাশক এমনভাবে ব্যবহার করতে হবে, যেন নিরাপদ থাকে।

“কৃষকদের আমরা বরাবরই নিরাপদ চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করছি। প্রতিটি উপজেলা ভালো ট্রেনিং ও মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে। একেবারেই রুট লেভেলে কর্মকর্তা রয়েছে। খাবারটা নিরাপদ রাখার বিষয়ে অধিদপ্তরও সতর্ক রয়েছে।”

আরও পড়ুন

Also Read: বেগুন ক্ষেতে ঝিংগার আলাপ

Also Read: ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সরকারের ৩৫০ কোটি টাকার পরিকল্পনা

Also Read: ২০৩০ এর আগেই সবার জন্য নিরাপদ পানি: প্রধানমন্ত্রী

Also Read: শুধু আইনে খাদ্য নিরাপদ হবে না, বিবেকও চান মন্ত্রী সাধন

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক