“আমাকে কালো রঙের একটি ইলেকট্রিক মেশিন দিয়ে শক দিলে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই,” আদালতে অভিযোগ ওই ব্যবসায়ীর।
Published : 28 Jun 2024, 01:30 AM
হাজতখানায় রেখে গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে ‘বিভৎস উপায়ে’ এক ব্যবসায়ীকে নির্যাতন করার অভিযোগে ঢাকার গুলশান থানার এসআই হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেনের আদালতে মামলার আবেদনের পর তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে পুলিশের তদন্ত সংস্থা পিবিআইকে নির্দেশ দেন বিচারক।
এদিন ভুক্তভোগী মোর্শেদ মঞ্জুর এ আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর এমন নির্দেশ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল।
২০১৩ সালের নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনের ৪, ৫ ও ৭ ধারায় এসআই হাফিজুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন ভুক্তভোগী।
মোর্শেদ মঞ্জুরের অভিযোগ, ময়মনসিংহ থেকে গ্রেপ্তার করার পর তাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করেছিল পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ-ডিবি।
নিজেকে একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী দাবি করে মোর্শেদ মঞ্জুর বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামে তার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিদিশা সিদ্দিকা নামে এক নারীর কাছ থেকে তিনি জাগুয়ার ব্র্যান্ডের একটি প্রাইভেট কার ৩৯ লাখ টাকায় কেনেন। নাম পরিবর্তন বাবদ আরও ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকাও পরিশোধ করেন।
বাদীর অভিযোগ, টাকা পরিশোধ করার পরও বিদিশা সিদ্দিকা মিথ্যা তথ্য দিয়ে গুলশান থানায় তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে একটি মামলা করেন।
সেই মামলায় গত ২০ এপ্রিল আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টার দিকে ময়মনসিংহ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ, সেখান থেকে এনে তাকে ঢাকার গুলশান থানায় রাখে বলে মামলার আর্জিতে বলেছেন মোর্শেদ মঞ্জুর।
তার অভিযোগ, গুলশান থানায় গাড়ি উদ্ধারের নামে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই হাফিজুর রহমান গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে তাকে মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। কিল, ঘুষি ও লাথি দিয়ে তার শরীরে জখম করেন। এ সময় তাকে গালিগালাজ করেন এবং ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যারও হুমকি দেন।
অভিযোগে তিনি বলেছেন, এক পর্যায়ে গামছা দিয়ে চোখ বেঁধে শারীরিকভাবে নির্যাতনের সময়ের ছবি ধারণ করে বিভিন্ন জনের কাছে পাঠান এসআই হাফিজুর।
তার ভাষ্য, “মারধরের কথা আর কাউকে না বলতে হুমকি দেন এসআই হাফিজুর। এক পর্যায়ে আমাকে কালো রঙের একটি ইলেকট্রিক মেশিন দিয়ে শক দিলে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই।”
থানা হাজতে আটকে রেখে এভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করার কারণে দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে এসআই হাফিজুরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে গুলশান থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলছেন, “মোর্শেদ মঞ্জুর যে অভিযোগ এনেছেন, তা সত্য নয়। আমার থানায় কাউকে নির্যাতনের কোনো সুযোগ নেই।"