২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

ডিপজলের বিরুদ্ধে তরুণীর মামলা, মারধর-অ্যাসিড নিক্ষেপের অভিযোগ

আদালত বাদীর জবানবন্দি শুনে সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Jul 2025, 02:26 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:20 PM

মারধর ও অ্যাসিড নিক্ষেপের অভিযোগে বাংলা সিনেমার খল অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজলসহ দুইজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক তরুণী। 

মঙ্গলবার ঢাকার মহানগর হাকিম মাহবুব আলমের আদালতে মো. রাশিদা আক্তার নামে এক গার্মেন্ট কর্মী এ মামলা করেন; সেখানে ডিপজলের সহযোগী মো. ফয়সালকেও আসামি করা হয়েছে। 

বাদীপক্ষের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী রাশিদা আক্তার অভিনেতা ডিপজলের ‘একজন ভক্ত’। গত কোরবানির ঈদের আগে ২ জুন তিনি গাবতলী হাটে গিয়েছিলেন গরু দেখতে। সেখানে গিয়ে জানতে পারেন হাটের মধ্যে অফিসে অভিনেতা ডিপজল আছেন। 

“তখন রাশিদা আক্তার সেই অফিসে গিয়ে ডিপজলকে সালাম দিয়ে বলেন যে তিনি অভিনেতার একজন ভক্ত। তার সঙ্গে দেখা করতে চান। তখন ডিপজল তার পিএস ফয়সালকে ধমক দিয়ে বলেন, ‘এই মহিলা ভিতরে কীভাবে ঢুকল? বের কর এখান থেকে’। 

“তখন রাশিদা আক্তার ডিপজলকে বলেন, ‘ভাই আমি আপনার সাথে একটু কথা বলেই চলে যাব, আমাকে বের করে দিতে বলছেন কেন?’ রাশিদার এ কথায় ডিপজল রেগে বলেন, ‘এই তোরা এই মহিলাকে পিটিয়ে এখান থেকে বের কর’। তারপর ডিপজলের হুকুমে ও প্ররোচণায় ফয়সাল এবং তার সাথে থাকা অজ্ঞাতনামা আরো দুই ব্যক্তি রাশিদার ঘাড় ও হাত ধরে এবং পিঠে হাত দিয়ে জোর জবরদস্তি করে অফিসের ভিতর থেকে টেনে বের করেন। তখন তিনি জামা কাপড় পেচিয়ে মাটিতে পড়ে যান।”

অভিযোগে বলা হয়, “রাশিদা উঠে দাঁড়িয়ে ফয়সালকে বলেন, ‘আমি তো ডিপজল ভাইয়ের সাথে দেখা করে চলেই যেতাম, আপনারা আমার শরীরে হাত দিলেন কেন, আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলেন কেন? তখন ফয়সাল তাকে বলেন, ‘এখান থেকে না গেলে তোর হাত পা ভেঙে পাশের তুরাগ নদীতে ফেলে দেব।’ রাশিদা এরপর প্রতিবাদ করে ফয়সালকে বলেন, ‘ভাঙেন হাত পা, দেখি আপনাদের কত সাহস’।

“রাশিদা এই কথা বলার পর ফয়সাল আশপাশে থাকা অজ্ঞাতনামাদের উদ্দেশে দড়ি আনার কথা বলেন। ফয়সালের কথায় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি গরু বাঁধার রশি এনে তার হাতে দেন৷ এরপরে তিনি অন্য ব্যক্তিদের বলে, ‘এই তোরা এই মহিলা কে ধর।’ 

“এই কথা বলার সাথে সাথেই অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জন ব্যক্তি তাকে চেপে ধরেন। এসময় ফয়সাল হাত বেধে ফেলে এবং অন্যান্য ৮/১০ অজ্ঞাতনামা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল-ঘুষি লাথি মারতে থাকে। তখন ভিকটিম  কান্না করতে করতে করতে বলতে থাকেন, ‘আমাকে ছাড়, আমি ডিপজল ভাইয়ের কাছে বিচার দেব।’ তখন ফয়সাল বলেন, ‘ভিতরে গেলে ডিপজল ভাই তোকে খুন করে ফেলবে।’ 

“ফয়সাল আরো ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘ওকে এইভাবে মেরে মনের জিদ কমবে না।’ এই কথা বলেই তিনি অজ্ঞাতনামা একজন ব্যক্তিকে বলেন, ‘ভিতরে একটা ছোট গ্যালন আছে, ওটা নিয়ে আয়।’ অজ্ঞাতনামা ওই ব্যক্তি অফিসের ভিতর থেকে গ্যালন নিয়ে এসে ফয়সালের হাতে দেন। এসময় ফয়সাল গ্যালনের মুখ খুলে বাদীর শরীরে ঢেলে দেন। রাশিদা যন্ত্রণায় কান্নাকাটি করতে থাকেন। পরে বাসে করে তার বাসা যাত্রাবাড়ীতে আসেন।”

এজাহারে বলা হয়, স্বজনরা দেখে জিজ্ঞাসা করেন এ অবস্থা কীভাবে হয়েছে। বাদী কাউকে কিছু না বলে ঘুমিয়ে যান। পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জ্বালাপোড়া অনুভব করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোসকা দেখেন। পরে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। কিছুটা সুস্থ হয়ে তিনি আদালতে মামলা করতে এসেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে অভিনেতা ডিপজলের বক্তব্য জানার চেষ্টা করছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।