Published : 02 Apr 2026, 10:09 PM
জাতীয় সংসদে ‘অসংসদীয় শব্দ’ ব্যবহার নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে।
পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আগের দিনের বক্তব্য নিয়ে কটাক্ষ করলে জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার ব্যবহৃত ‘মিথ্যা’ শব্দকে ‘অসংসদীয়’ আখ্যা দিয়ে কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান।
বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হওয়ার পর আসরের নামাজের বিরতির আগে এ বিতর্ক হয়।
পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমার বক্তব্য নিয়ে কিছু কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন যে আমি একটু অসত্য কথা এখানে বলেছি। আমি এটা জানতে পারলাম। আসলে আল্লাহ তায়ালা তাকে অপূর্ব দক্ষতা দিয়েছেন; জাস্ট বোতলটা পরিবর্তন করে ম্যাটেরিয়ালসটা ঠিক রেখে তিনি সত্যকে মিথ্যা হিসেবে এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে চমৎকারভাবে পরিবেশন করতে পারেন।
“এ জন্য শুধু তাকে ধন্যবাদ জানানোর জন্য আমি এখানে দাঁড়িয়েছি। মাননীয় স্পিকার ধন্যবাদ, অসংখ্য ধন্যবাদ।”
এ পর্যায়ে স্পিকার বলেন, “মাননীয় বিরোধী দলের নেতা, আপনি পয়েন্ট অব অর্ডারে নিশ্চয়ই এ বক্তব্য রেখেছেন। পয়েন্ট অব অর্ডার চলমান বিষয়ের উপরে হয়। এটা তো গতকালের বিষয়, গতকালই শেষ হয়ে গেছে। সুতরাং এটা এখন আর নতুন করে তোলার কোনো প্রয়োজন নাই।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “মাননীয় মন্ত্রী, এটার উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন নাই। উনি যদি হাউজে থেকে বলতেন, তাহলে নিশ্চয়ই আপনাকে রাইট অফ রিপ্লাই দিতাম। আপনি তারপরও কিছু বলতে চান?”
এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাঁড়ান। তিনি বলেন, “মাননীয় স্পিকার, এই মুহূর্তে মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা দুইটা অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার করেছেন, সেটা হচ্ছে ‘মিথ্যা’। এটা ‘অসত্য’ বললে আমি আপত্তি করতাম না। এই যে ‘আমি কালকে মিথ্যা বলেছি’, এই ‘মিথ্যা’ শব্দটা অসংসদীয় হিসেবে এটি এক্সপাঞ্জ করার জন্য আমি অনুরোধ করছি।”
তিনি বলেন, “দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, ওনার কালকের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আমি বলেছিলাম, মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা এখানে একটা অসত্য বক্তব্য উত্থাপন করেছেন। সেটা ছিল, যেখানে বিধি ৬২ অনুসারে, আপনি তারপরে একজন বেসরকারি সদস্যের উত্থাপিত মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন, ওনার ওয়াকআউট করার আরও অনেক পরে। তাহলে সেটা পার্লামেন্টে উত্থাপিত বা পঠিত হল কীভাবে? সুতরাং আমি বলেছি, সে বক্তব্যটা অসত্য।”
এ পর্যায়ে আবার দাঁড়িয়ে শফিকুর রহমান বলেন, “বিভ্রান্তিটা এখানেই মাননীয় স্পিকার। একই বিষয়ে একই প্রস্তাব একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য এনেছিলেন। সেই প্রস্তাব ভিন্ন নামে গতকাল এসেছে, শুধু নাম বদল হয়েছে, প্রস্তাব ঠিক আছে। আমি তো আগেরটা জানতাম বলেই বলেছি। এখানে আমি কোনো ভুল তথ্য দেইনি।”
এরপর স্পিকার অন্য বিষয়ে চলে যান।
এর আগে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান এবং কার্যপ্রণালী-বিধির ৬২ বিধিতে মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ নিয়ে সংসদে টানাপড়েন তৈরি হয়।
বুধবার সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বান প্রশ্নে আনা মূলতবি প্রস্তাবে সিদ্ধান্ত না পাওয়ার অভিযোগ তোলে বিরোধী দল। তাদের প্রস্তাব চাপা দিতেই একই বিষয়ে আরেকটি নোটিস আনা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিরোধীদলীয় নেতা।
কিন্তু সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহ্বানের বিষয়ে আনা মূলতবি প্রস্তাবে ‘প্রতিকার’ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ওয়াকআউট করে বিরোধী দল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার জবাবে বলেছিলেন, বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যে ‘অসত্য’ তথ্য ছিল। সেই বক্তব্যের সূত্র ধরেই বৃহস্পতিবারের অধিবেশনে ‘মিথ্যা’ ও ‘অসত্য’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক হয়।