১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

রিকশায় থাকা হাদিকে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে গুলি করা হয়

“একটা চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে আরেকটি চলন্ত যানে থাকা টার্গেটকে গুলি করে লক্ষ্যভেদ করা খুবই কঠিন কাজ; এই শ্যুটার সেই কাজটিই করেছে।”

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Dec 2025, 07:23 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:18 PM

সড়কে ব্যাটারির রিকশায় ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদি, তার পেছনে পেছনে আসে একটি মোটরসাইকেল। চলন্ত অবস্থায় সেই মোটরসাইকেল থেকেই একটি গুলি করা হয় হাদিকে।

গুলিটি হাদির কানের পাশ দিয়ে মাথায় বিদ্ধ হওয়ায় জীবন শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরে বক্স কালভার্ট রোডে আক্রান্ত হন হাদি। তখনই তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বিকাল ৫টায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তার মাথার ভেতরে গুলি আছে। বর্তমানে অপারেশন থিয়েটারে তার সার্জারি চলছে।”

হাদিকে ‘লাইফ সাপোর্ট’ রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

গুলির ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, হাদিকে বহনকারী রিকশাটি বক্স কালভার্ট সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় একটি মোটরসাইকেল তার অনেকটা পাশ ঘেঁষে চলতে থাকে। রিকশাটির একেবারে কাছে মোটরসাইকেল আরোহী অস্ত্র বের করে গুলি করেন।

শুক্রবার ছুটির দুপুরে রাস্তায় যান চলাচল ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ কম। ফাঁকা রাস্তায় মোটরসাইকেলটি দ্রুতবেগে পালিয়ে যায়।

এরপর হাদির সতীর্থরা তাকে ওই রিকশাতে করেই ঢাকা মেডিকেলের দিকে নিয়ে যায়। ঢাকা মেডিকেলে হাদির সতর্থীরা বলেছেন, “একটি গুলিই করেছে, যেটি হাদির মাথায় লেগেছে।”

পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডের ডিআর টাওয়ারের সামনে গুলি করা হয়। কারা কী কারণে তাকে গুলি করেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। আমরা অপরাধীদের শনাক্তে কাজ করছি।”

ঘটনাস্থলে একটি গুলির খোসা পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

ডিআর টাওয়ারের আনসার সদস্য ইমরান হোসেন হৃদয় বলেন, চাকা ফেটে যাওয়ার মত একটি শব্দ তিনি শুনে ভবন থেকে বাইরে বের হন। দেখেন, রিকশার ওপর একজন আহত অবস্থায় পড়ে আছেন। অন্যরা তাকে ধরে নিয়ে যাচ্ছেন।

হাদিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা একজন বলেন, বাম কানের পাশে একটি গুলি করা হয়েছে। একই তথ্য দিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই শরীফুল ইসলামও।

প্রায় চার দশক ঢাকায় অপরাধ বিষয়ক সাংবাদিকতা করে আসা পারভেজ খান বলেন, “এরা অনেক পেশাদার শ্যুটার। অনেকসময় কাকতালীয় কিছু ঘটনাও ঘটে যায় অপরাধজগতে। তবে এটা সেরকম না।

“একটা চলন্ত মোটর সাইকেল থেকে আরেকটি চলন্ত যানে থাকা টার্গেটকে গুলি করে লক্ষ্যভেদ করা খুবই কঠিন কাজ। এই শ্যুটার সেই কাজটিই করেছে, তাও আবার একটি মাত্র গুলি খরচ করেই। প্রফেশনাল শ্যুটার ছাড়া এটা সম্ভবই না।”

তার ভাষ্য, “অনেক সময় ‘নবিশ’ অপরাধীরা ছিনতাই বা অন্য কোনো অপরাধের সময় বেকায়দায় টার্গেটকে ছুরিকাঘাত করে বসে, যাতে টার্গেটের মৃত্যু ঘটে। এরকম ঘটনা অনেক দেখা গেছে। এটা এরকম কাকতালীয় ঘটনা নয়।”

‘জীবন সংকটে হাদি’

হাদির একজন সহযোদ্ধা বলেন, জুমার নামাজের পর মসজিদে তাদের লিফলেট বিলি কর্মসূচি ছিল। কথা ছিল লিফলেট বিলি শেষে সবাই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হয়ে দুপুরের খাবার খাবেন, আলোচনা করবেন। এর মধ্যেই হাদির ওপর হামলার খবর আসে।

হাদির অবস্থা আশঙ্কাজনক জানিয়ে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান তাকে ‘লাইফ সাপোর্টে’ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

ঢাকা মেডিকেলের এফসিপিএস প্রশিক্ষণার্থী চিকিৎসক সাব্বির হোসেন সাগর ফেইসবুকে লিখেছেন, “হাদি ভাইয়ের জিসিএস-৩, বাইল্যাটারাল পিউপিল ডাইলেটেড। মেডিকেলের ভাষায় যেটা আসলে ব্রেইন ডেথ।”