Published : 22 May 2026, 08:11 PM
‘অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দিয়ে সীমান্ত পথে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া ‘কিছু ব্যক্তিকে’ আবার ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।
বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের খবরে বলা হয়েছে, যাদের ফিরিয়ে নেওয়া হবে, তারা ভারতীয় নাগরিক কি না, তা যাচাই করে দেখা হবে।
শুক্রবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মুখপাত্র সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা দেশটির প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া কিছু ব্যক্তিকে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান।
পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা হাই কোর্টের ২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বরের একটি আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে কেন্দ্রীয় সরকারের করা আবেদনের শুনানি করছিল শীর্ষ আদালত। হাই কোর্টের আদেশে আট বছর বয়সী সন্তানসহ সোনালী খাতুন নামে এক নারীসহ এবং ছয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেছিল।
গত বছর ২৭ জুন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ওই ছয়জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়। ওই ব্যক্তিরা চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রবেশ করলে অবৈধ অনুপ্রবেশের অিভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তাদের মধ্যে অন্তসত্ত্বা সোনালী খাতুনও ছিলেন। আদালতের নির্দেশে ২২ অগাস্ট তাদের জেল হাজতে পাঠানো হয়। প্রায় চার মাস চাঁপাইনবাবগঞ্জের কারাগারে বন্দি থাকার পর গত ২ ডিসেম্বর মানবিক বিবেচনায় তাদের স্থানীয় একজনের জিম্মায় জামিন দেয় আদালত।
এছাড়া কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে তাদেরকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা যেতে পারে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয় আদালতের আদেশে।
এরপর বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিজিবির পক্ষ থেকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এ নিয়ে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক ও কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে গত বছরের ৩ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হাই কোর্ট ‘মানবিক কারণে’ সোনালী এবং তার আট বছর বয়সী সন্তানকে ভারতে প্রবেশের অনুমতি দেয়।
আদালত পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে সোনালীর নাবালক সন্তানের যত্ন নেওয়া এবং বীরভূম জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীর বিনামূল্যে প্রসবসহ সমস্ত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

এরপর বিজিবি ২৬ বছর বয়সী সোনালী ও তার ছেলেকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। তবে অন্যরা এখনো বাংলাদেশে রয়ে গেছে।
পিটিআই বলছে, সোনালীর সঙ্গে তার বাবাসহ বাকি যাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল, তাদের ভারতে ফেরাতে গত ২৪ এপ্রিল সর্বোচ্চ আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকে তলব করে।
সোনালী খাতুনের বাবা ভোদু শেখের পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বাল এবং সঞ্জয় হেগড়ে আদালতে বলেন, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সোনালীর স্বজনদের ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ‘অন্যায়’ করেছে। কারণ তারা এ বিষয়ে আদালতের কাছে তাদের মতামত স্পষ্ট করেনি।
পরে শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, “এই মামলার বিশেষ তথ্য ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং এটিকে অন্য কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে গণ্য না করার শর্তে, সরকার তাদের ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওই ব্যক্তিদের ভারতে ফিরিয়ে আনতে ৮ থেকে ১০ দিন সময় লাগতে পারে।
“সরকার তাদের ফিরিয়ে আনবে এবং তাদের নাগরিকত্বের অবস্থা পরীক্ষা করবে। ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।"
আদালত মামলাটির পরবর্তী শুনানির জন্য জুলাই মাসে তারিখ রেখেছে।
এর আগে মামলায় ভোদু শেখ অভিযোগ করেন, তাদের পরিবার গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে দিল্লির রোহিণীর সেক্টর ২৬-এ দিনমজুর হিসেবে কাজ করছিল। গত বছরের ১৮ জুন পুলিশ তাদের বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করে। পরে ২৭ জুন তাদের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়।
একই আদালতে পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের বাসিন্দা আমির খানের করা আরেকটি আবেদনে বলা হয়, তার বোন সুইটি বিবি এবং তার দুই সন্তানকে দিল্লি পুলিশ একই এলাকা থেকে আটক করে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়।