Published : 24 Aug 2026, 08:43 PM
ঢাকার আদালত থেকে স্বামীর অস্ত্র মামলার নথি চুরির মামলায় জামিলা আক্তার ওরফে অর্পা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
একই মামলায় গ্রেপ্তার কম্পিউটার অপারেটর আহসান হাবীবকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই দেবাশীষ হাওলাদার সোমবার অর্পাকে আদালতে হাজির করে তার ‘স্বীকারোক্তিমূলক’ জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। সেইসঙ্গে আহসান হাবীবকে সাত দিনের রিমান্ডে চেয়ে আবেদন করেন।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর সেই আবেদনের ভিত্তিতে অর্পার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় বলে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই কামাল হোসেন জানান।
অন্যদিকে, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে হাবীবের রিমান্ড আবেদনের শুনানি হয়। হাবীবের পক্ষে আইনজীবী ফয়েজ উল্লাহ রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেন।
তিনি বলেন, “আসামি সম্পূর্ণ নির্দোষ, নিরাপরাধ। এজাহারে তার নাম নেই। অহেতুক হয়রানি করার জন্য তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি সম্পূর্ণ পরিস্থিতির শিকার। মামলার কথিত ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানে না।”
শুনানি শেষে আদালত হাবীবকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়।
যেভাবে চুরি হয় নথি
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২ জুলাই দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাসে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি নিজেকে আইনজীবীর মুহুরি পরিচয় দিয়ে খিলগাঁও থানায় দায়ের করা একটি অস্ত্র মামলার নথি দেখতে চান।
আদালতের উমেদার নাজমুল হাসান তাকে ওই নথি দেখতে দেন। পরে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিচারক নাজমুলকে পাশের খাস কামরায় ডেকে পাঠান। তিনি সেখানে যাওয়ার পর প্রায় পাঁচ মিনিট পরে ফিরে এসে ওই ব্যক্তিকে আর দেখতে পাননি। একই সঙ্গে নথিটিও পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় ওই দিনই আদালতের বেঞ্চ সহকারী খায়রুল আলম কোতোয়ালি থানায় নথি চুরির অভিযোগে মামলা করেন।
অর্পার বাসা থেকে নথি উদ্ধার
মামলার তদন্তে পুলিশ প্রথমে আনোয়ারুল হক ওরফে রাসেল ওরফে ‘মুরগি রাসেলকে’ শনাক্ত করে। গত ২১ অগাস্ট ভোর সাড়ে ৫টার দিকে শ্যামপুর থানার একতা হাউজিং এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুগদা থানার মুড়াওয়ালী গলিতে অর্পার বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে অর্পাকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি চুরি যাওয়া আদালতের নথিও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, অর্পা হলেন তানভীর আহমেদ তনয় ওরফে রাব্বীর স্ত্রী। খিলগাঁও থানার ওই অস্ত্র মামলায় রাব্বি আসামি। তিনি বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, স্বামীর বিরুদ্ধে চলা মামলার বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ বা ব্যাহত করার উদ্দেশ্যে রাসেলের সহায়তায় অর্পা আদালতের নথি চুরি করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
গত ২১ আগস্ট অর্পা ও রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেয় আদালত। সেই রিমান্ড শেষ হওয়ার আগেই অর্পা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন। রাসেল এখনও রিমান্ডে রয়েছেন।
তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য, রাসেল রিমান্ডে আহসান হাবীবের দোকানের কথা বলেন। এরপর রোববার আদালতপাড়ায় অভিযান চালিয়ে হাবীবকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হয়।
হাবীবের আইনজীবী অবশ্য আদালতে দাবি করেছেন, এজাহারে তার নাম নেই এবং মামলার কথিত ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না।