১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বাসের ভাড়া বাড়ল, মালিক ও চালকরা মানবেন তো?

“এটা নিয়ে রাস্তায়-রাস্তায় গণ্ডগোল হবে, বচসা হবে এবং এটা সড়ক নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলবে।”

বাসের ভাড়া বাড়ল, মালিক ও চালকরা মানবেন তো?
ফাইল ছবি

মাছুম কামাল মাছুম কামাল

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Apr 2026, 01:05 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:28 PM

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ডিজেলের দাম বাড়ানোর পর বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বেড়েছে। 

বাস মালিক, চালক আর সহকারীরা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা অনুসরণ করবেন কিনা, সরকারই বা কতখানি তদারকি করতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে।

আর ভাড়া বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন যাত্রীদের কেউ কেউ।

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

অতীতের অভিজ্ঞতায় পরিববহনখাত নিয়ে কাজ করা সংগঠনের নেতারা ভাড়ার তালিকা করার ক্ষেত্রে অনিয়মের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া নজরদারি ও তদারকির না হওয়ার কথাও বলছেন তারা।

ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী গোলাম রসুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলছিলেন, “আমি প্রতিদিন লোকাল বাসে করে খিলক্ষেত থেকে বনানী যাই। এইটুকু রাস্তা সর্বোচ্চ ১৫ টাকার বেশি ভাড়া না।

“কিন্তু গেল কয়েকদিন ধরে ভাড়া বাড়ার আগেই কোনো-কোনো বাসের হেল্পাররা ভাড়া দাবি করছেন ২০ টাকা। এ নিয়ে বাদানুবাদেও জড়াতে হয়েছে। কিন্তু, কেন আমাকে তর্ক করতে হবে হেল্পারের সঙ্গে? এই প্রশ্নের উত্তর কে দিবে।”

আরেক চাকরিজীবী মো. নূরে আলম প্রশ্ন তুলেছেন ভাড়া বাড়ানোর যৌক্তিকতা নিয়ে। 

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “২০২২ সালে ডিজেলের মূল্য বেড়ে হয়েছিল ১১৪ টাকা প্রতি লিটার। তখন সে অজুহাতে বাস মালিকেরা ভাড়া বাড়ালেও পরে যখন দাম কমেছে, ভাড়া কিন্তু আগের মতোই নিচ্ছিল। 

“সে হিসাবে ডিজেলের দাম এখন এক টাকা বেড়েছে লিটারে, তাহলে বাস ভাড়া কেন বাড়বে। ভাড়া তো বাড়ানোর প্রশ্নই আসে না, বরং এতদিন যে বেশি নিয়েছে সেটার সঙ্গে সমন্বয় করে কমানোর কথা। আর ভাড়া বেড়েছে শুধু ডিজেলচালিত বাসের, কিন্তু যে গাড়ি গ্যাসে চলে, সেও ভাড়া বাড়তি নেয়।”

তেলের দাম কমলেও ভাড়া কমে না

২০২২ সালের অগাস্টে ডিজেলের দাম ৪২ শতাংশ বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হয়েছিল। তখন বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ৪০ পয়সা বা ২২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছিল সরকার। ভাড়া বাড়ানোর ২৫ দিনের মাথায় ২৯ অগাস্ট তা আবার কমানো হয়েছিল; তখন প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ৫ টাকা কমিয়ে ১০৯ টাকা করা হয়। 

এরপর ১ সেপ্টেম্বর থেকে ডিজেলচালিত বাস-মিনিবাসের ভাড়া ৫ পয়সা কমানোর সিদ্ধান্ত দিয়েছিল সরকার। কিন্তু কোথাও সেটি কার্যকর করেননি পরিবহন মালিক ও শ্রমিকেরা।

এর দুই বছর পর ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল প্রতি লিটার ডিজেলের দাম আরও ৩ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১০৬ টাকা। দাম কমানোর পর সেদিন পরিবহনের ভাড়া ৩ পয়সা কমানোর সিদ্ধান্ত দেওয়া হলেও সেটিও কার্যকর হয়নি।

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

এর আগে ২০১৬ সালে বাসভাড়া ৩ পয়সা এবং ২০১১ সালেও ২ পয়সা কমানো হয়েছিল। কিন্তু পরিবহনমালিকেরা সেটি মানেননি। সরকারের তরফেও সেটি কার্যকর করতে দেখা যায়নি।

শনিবার ডিজেলের দাম বাড়িয়ে প্রতি লিটার ১১৫ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ ২০২২ সালের দামের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, আদতে ডিজেলের দাম লিটারে এক টাকা বেড়েছে। কিন্তু ভাড়া বেড়েছে কিলোমিটার প্রতি ১১ পয়সা। 

ভাড়া নির্ধারণে যে বৈঠক হয়েছিল, সেখানে উপস্থিত থাকা একজন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, “শুধু ডিজেলের দাম বাড়ানোর ওপর ভিত্তি করে বাসের ভাড়া না বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছিল বৈঠকে। কিন্তু, সঙ্গে শ্রমিকদের কল্যাণে ব্যয়-সহ অন্যান্য ব্যয় যুক্ত করেই মূলত ভাড়া বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু, অন্যান্য ব্যয়ের কিছুই শ্রমিকদের পকেটে আসে না।”

এবার কত বাড়ল বাস ভাড়া

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম আগেই বেড়েছে। তারপরও সরকার দেশের বাজারে ভর্তুকি দিয়ে আগের দামে তেল সরবরাহ করে আসছিল।

কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় পরিস্থিতি নাজুক হয়ে ওঠায় শনিবার জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা আসে।

প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, অকটেন ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এরপর বাস ভাড়া পুনর্নির্ধারণের জন্য রোববার রাতে বাস মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকে বসে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। সেখানে দূরপাল্লা ও মহানগরের চলাচলকারী বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২৮ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয় মালিকদের তরফে।

সেদিন প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠকের পরও সমঝোতা না হওয়ায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার মন্ত্রণালয়ের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করলেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সচিবালয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সভাপতিত্বে বাসের ভাড়া বৃদ্ধির পর্যালোচনা বৈঠক।

সচিবালয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সভাপতিত্বে বাসের ভাড়া বৃদ্ধির পর্যালোচনা বৈঠক।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা বেড়ে ২ টাকা ৪২ পয়সা থেকে হয়েছে ২ টাকা ৫৩ পয়সা।

অন্যদিকে, দূরপাল্লার পথে বাসভাড়া কিলোমিটারে ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ২৩ পয়সা হয়েছে।

আর ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ বা ডিটিসিএ এলাকায় (ঢাকার আশপাশে) প্রতি কিলোমিটার বাস ভাড়া ২.৩২ টাকা থেকে বেড়ে ২.৪৩ টাকা হয়েছে।

এই হিসাবে নগর পরিবহনের ভাড়া ৪ দশমিক ৫ শতাংশ এবং দূরপাল্লার বাস ভাড়া ৫ দশমিক ১ শতাংশ বাড়ল।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম সচিবালয়ে নতুন এই ভাড়ার হার ঘোষণা করে বলেছেন, ন্যূনতম ভাড়া (৮ টাকা ও ১০ টাকা) অপরিবর্তিত থাকবে এবং তা বাড়ানো হবে না। এই সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার থেকেই কার্যকর হবে।

ডিজেলচালিত যানবাহনের ক্ষেত্রে এই ভাড়া কার্যকর হবে, বলেছেন মন্ত্রী। 

রয়েছে যথাযথ তদারকির অভাব

নতুন করে ভাড়া বাড়ানোর পর বিষয়টি নিয়ে প্রধান উদ্বেগ হচ্ছে, বাস চালক ও তাদের সহকারীদের সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা না মানার প্রবণতা। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যেখানে ২২ টাকা ভাড়া আসার কথা সরকারি তালিকা অনুযায়ী, সেখানে আদায় করা হচ্ছে ২৫ টাকা, আবার ২৭ টাকা ভাড়া হলে আদায় করা হচ্ছে ৩০ টাকা। 

এ ক্ষেত্রে সরকারের যথাযথ তদারকির অভাব রয়েছে, বলছেন তারা। 

জানতে চাইলে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখন ভাড়া তো বাড়ল ১১ পয়সা, কিন্তু সেটা এক্সিকিউশন করার ক্ষেত্রে মালিকরা হয়ত আরও বেশি বাড়িয়ে ফেলবে। সেটা মনিটরিং করা হয় না, তদারকি করা হয় না। সেটা তো একটা সমস্যা, বিরাট সমস্যা। 

“এটা নিয়ে রাস্তায়-রাস্তায় গণ্ডগোল হবে, বচসা হবে এবং এটা সড়ক নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলবে। চালকরা উত্তেজিত হবে, মেন্টালি তারা বিরক্ত হবে এবং সড়ক নিরাপত্তায় হুমকি তৈরি করবে।”

তাহলে সমস্যা থেকে উত্তরণের উপায় কী? এ ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা না থাকার কথা বলেন তিনি। 

সাইদুর রহমান বলেন, “এই যে ভাড়াটা বৃদ্ধি করল এবং ভাড়াটা এই বৃদ্ধির মধ্যেই যে সীমাবদ্ধ রাখার যে মনিটরিং সিস্টেম, সেটা আমাদের নেই। তার মানে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নেই। এই প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা তৈরি করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার করতে হবে। কাঠামোগত এবং ব্যবস্থাপনগত। এটা ছাড়া হবে না।

“বিআরটিএ, বিআরটিসি, ডিটিসিএ এবং সরকারের অন্যান্য যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে এগুলো সব কাঠামোগুলো সংস্কার করতে হবে। বিদ্যমান কাঠামো দিয়ে ব্যবস্থাপনা দিয়ে সড়ক নিরাপত্তা করা সম্ভব না, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব না, ভাড়া মনিটরিং এগুলো কোনোকিছুই করা সম্ভব না।”

বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সরকার ভাড়া বাড়িয়ে দেওয়ার সময় এগিয়ে আসে, কিন্তু যখন বাসে-বাসে এর  চেয়ে বাড়তি ভাড়া নেয়, তখন সরকারের কোনো নজরদারি থাকে না। সরকার তখন এটার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয় না।”

তিনি বলেন, “তেলের দাম যখন বাড়ল, এখন ভাড়া বাড়িয়ে দিল, আবার তেলের দাম যখন কমে, তখন কিন্তু ভাড়া যে অনুপাতে কমে, এটা বাসে বাসে কার্যকর হচ্ছে কিনা, তা দেখার কোনো ব্যবস্থা সরকারের তরফে থাকে না।”

ভাড়া নির্ধারণ সংক্রান্ত কমিটিতে ভোক্তাদের পক্ষে কেবল কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর একজন প্রতিনিধি ছিলেন।

বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মোজাম্মেল বলেন, “সবগুলো কমিটি তো মালিক এবং শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃত্বে। এখানে তো যারা ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ—বৃহত্তর জনগোষ্ঠী, তাদের কোনো প্রতিনিধি নাই। গাড়ি ভাড়া নিয়ে তাদের (ক্যাব) কোনো কর্মসূচি নাই, ছিলও না। ক্যাবকে রাখা হয়, কারণ ক্যাব কোনো উচ্চবাচ্য করে না।”

ভাড়ার তালিকা নির্ধারণে অনিয়মের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, “আমরা যেটা দেখি, ভাড়ার তালিকা প্রস্তুতের সময় কিলোমিটারের হিসাবে অনিয়ম করা হয়। কোথাও আবার বাড়তি স্টপেজ যুক্ত হয়, ওয়েবিল আসে, কোথাও কোথাও টোল যোগ করে দেওয়া হয়। 

“এতকিছুর পর এটা (ভাড়ার তালিকা) যখন সাঁটানো হয়, তখন দেখি কোনো পথে ভাড়া আছে ২২ টাকা, ওখানে আদায় করা হয় ৩০ টাকা। তো এগুলো আসলে মনিটরিং করবে কে? দেখবে কে?”

ভাড়া পুনর্নির্ধারণ কমিটির সদস্য ও ক্যাবের প্রতিনিধি বাহাদুর সাজেদা আক্তার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভাড়া বাড়ানোতে জনগণের তো ভোগান্তি অবশ্যই হবে। কারণ, আমাদের ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, সেক্ষেত্রে আমাদের বাস ভাড়া বৃদ্ধি যদি পায়, আমাদের ইনকাম কিন্তু—জনগণের ইনকাম কিন্তু বৃদ্ধি পাচ্ছে না।

“সেক্ষেত্রে ভোক্তারা কোথায় যাবে? ভোক্তারা এদিক থেকেও পিষ্ট হচ্ছে, ওদিক থেকেও পিষ্ট হচ্ছে। ভোক্তারা সবদিক থেকেই পিষ্ট হচ্ছে। এখন ভোক্তাদের বাঁচানোর স্বার্থে আমাদের আসলে উচিত যে, যতটুকু সম্ভব, বিবেক-বিবেচনা করে ভোক্তাদের স্বার্থে যেন বাস ভাড়াটা সমন্বয় করা হয়। সমন্বয় বলতে এটাই বুঝাতে চাচ্ছি, যাতে জনগণের ওপর প্রেশারটা কম পড়ে।”

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

মালিকপক্ষ কী বলছে?

ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ভাড়া বাড়ানো হয় নাই। তেলের যে দামটা বেড়েছে, ওটাই সমন্বয় করেছে। আমাদের যে ডিমান্ড ছিল বাড়ানোর জন্য, সেটা বাড়ায় নাই। 

“তারা বলছে যে, একসাথে বাড়ালে জনগণের ওপর চাপ পড়বে, আমাদের রিকোয়েস্ট করছে দুই-তিন মাস পরে এই ব্যাপারটা নিয়ে বসবে, দেখবে কীভাবে সমন্বয় করা যায় বা অন্যভাবে কী করা যায়।” 

তিনি বলেন, “আমাদের ডলারের দাম কমায় যে ভাড়াটা আমরা বাড়াতে চাচ্ছিলাম, ‘প্লাস নরমালি’ চাচ্ছিলাম, এর মধ্যে হঠাৎ করে তেলের দাম বেড়ে গেল। এই কারণে সরকার এখন ‘রিকোয়েস্ট’ করছে যে, আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ করে তেলের দাম বেড়েছে, এখন একসাথে যদি ডলারের বাড়তি মূল্য সমন্বয় করে, এটা জনগণের ওপর চাপ পড়বে। এজন্য শুধু এটা সমন্বয় করা হয়েছে।”

বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, “এটা যা নির্ধারণ করা হয়েছে, এই অনুযায়ী ভাড়া চলবে। এর বেশি কেউ নেবে না, আর নিলে তার বিরুদ্ধে আমরাও ব্যবস্থা নেব, সরকারও ব্যবস্থা নেবে।”

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

তদারকি করবে বিআরটিএ

বাড়তি ভাড়া আদায়ের বিষয়ে বিআরটিএ তদারকি করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বিআরটিএর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মীর আহমেদ তারিকুল ওমর।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের ভাড়ার চার্ট প্রজ্ঞাপন হয়ে গেছে। প্রজ্ঞাপনের আলোকে আমরা ভাড়ার চার্টটা এখন তৈরি করছি। করে এটা পাবলিশ করে দেব।”

বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধে অভিযান চালানো হবে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অভিযান তো আমাদের নিয়মিত কাজ। আমাদের নির্ধারিত ভাড়ার চার্টে যা ভাড়া দেওয়া আছে, সেটা থেকে অতিরিক্ত ভাড়া কেউ যদি আদায় করে, তাহলে আমরা অবশ্যই নিয়মিতভাবে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে সেটা ধরব। 

“এই যে মধ্যখানে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরে ভাড়া বৃদ্ধির আগের ধোঁয়াশা পরিস্থিতিতে অনেকে হয়ত ভাড়া নিয়েছেন, সেটা তো অবশ্যই অন্যায় করছেন। এই সুযোগটা অনেকে হয়ত নিয়ে থাকতে পারেন। তবে এখন যেহেতু আজকে ভাড়ার চার্ট হয়ে যাবে, এখন আর এটা নিয়ে কোনো অস্পষ্টতা থাকবে না। কাজেই এটা আমরা ধরতে পারব সুনির্দিষ্টভাবে।”

আরও পড়ুন:

প্রতি কিলোমিটারে বাসের ভাড়া বাড়লো ১১ পয়সা