১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির চাকা আবার ঘুরছে

“এবার সারা দেশে মাঠপর্যায়ে ৭৬টি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির মাধ্যমে ৩ হাজার ২০০টি স্পটে বই পঠনের সেবা দেওয়া হবে,” বলেছে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Feb 2026, 12:14 AM

Updated : 26 Aug 2026, 02:54 PM

‘বরাদ্দের’ অভাবে এক বছরের বেশি সময় থেমে থাকার পর বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের দেশব্যাপী ‘ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি’ আবারও চলতে শুরু করেছে।

সোমবার জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে এ লাইব্রেরি পুনরায় পথচলা উদ্বোধন করা হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “এবার সারা দেশে মাঠপর্যায়ে ৭৬টি ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি বা গাড়ির মাধ্যমে ৩ হাজার ২০০টি স্পটে সবার জন্য, বিশেষ করে নারী ও শিশু-কিশোরদের জন্য বই পঠনের সেবা দেওয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে প্রকল্প এলাকায় প্রত্যক্ষভাবে প্রায় ৩ লাখ ৭৫ হাজার পাঠক সৃজনশীল বই পাঠ ও বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের আওতায় আসবেন।

“বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ সঞ্চার ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে ৭০০টি সাংস্কৃতিক সংঘ পরিচালনা এবং ৮ হাজার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা এট প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।”

১৯৯৯ সাল থেকে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি পরিচালনা করে আসছে। এ প্রকল্পের তৃতীয় পর্ব শেষ হয় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে।

শুরু থেকে ২০১৮ সালের জুন মাস পর্যন্ত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র এককভাবে এই লাইব্রেরির যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করে। এরপর ২০১৮ সাল থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই কর্মযজ্ঞে অর্থায়ন শুরু করে, ফলে এর পরিসরও বৃদ্ধি পায়।

২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটির অনুমোদিত মেয়াদে মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১১১ কোটি ১৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকা।

জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, “ভালো জাতি বা সমাজ গঠন করতে হলে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। পাঠকদের দোরগোড়ায় ভালো বই পৌঁছে দেবার জন্য। কয়েকটি ভাল বই ভালো মানুষ হিসেবে তৈরি করতে অবশ্যই মূখ্য ভুমিকা পালন করে থাকে।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, “লাইব্রেরি কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। বর্তমান অস্থির সময়ে মানুষকে কীভাবে বইমুখী করা যায়, সে বিষয়েই আমাদের মনোযোগী হতে হবে। মানুষকে যদি বইমুখী করা যায়, তবেই এ কার্যক্রম প্রকৃত অর্থে সফল হবে।”

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান, অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা) এ. কে. এম আবদুল্লাহ খান এবং দেশব্যাপী ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি (৩য় সংশোধিত) প্রকল্পের পরিচালক ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব (প্রশাসন) বিল্লাল হোসেন খান অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

পুরনো খবর-

'আলো আমার আলোবাজিয়ে চলা ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি কি থেমে যাবে?