Published : 09 Sep 2026, 04:24 PM
রাজধানীর কদমতলীতে দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আসলাম খানকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, জমির দখল নিয়ে বিরোধের জেরে আসলাম খানকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িত আরও দুজন এবং জমি নিয়ে বিরোধের মূল ব্যক্তি জলিল মণ্ডলকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
গ্রেপ্তার ৫ জন হলেন- মনজুরুল ইসলাম, ইকবাল, কালু, আকলিমা আক্তার রুনিয়া ও সোনিয়া ইয়াসমিন।
রাজধানীর মিন্টো রোডে বুধবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ৫ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দেন ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী। তিনি বলেন, “গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ৮টার দিকে কদমতলী থানার জিয়া সরণির মেসার্স লাকি ক্রোকারিজে ঢুকে আসলাম খানকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে মনজুরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি।
“গুলি আসলামের মুখের ডান পাশ ও বাম হাতের কনুইতে লাগে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। গুলির ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় মনজুরুলকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে একটি রিভলভার, ৯ রাউন্ড তাজা গুলি, একটি পিস্তল ও একটি পিস্তলের ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা ও একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার হয়েছে।”
মল্লিক আহসান উদ্দিন সামীর দাবি, মনজুরুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই রাতেই কদমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইকবাল ও কালুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে রুনিয়া ও সোনিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “সিসিটিভি ভিডিও বিশ্লেষণ করে হামলার সময় ঘটনাস্থলে ৬ জনের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি দুজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে “
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার সোনিয়া ইয়াসমিন ও রুনিয়া হামলায় অস্ত্রের ‘বাহক’ হিসেবে কাজ করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ভ্যানিটি ব্যাগে করে অস্ত্র ঘটনাস্থলে নিয়ে আসার কথা স্বীকার করেছেন।
মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, “হামলার আগে তারা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে উত্তরখান থেকে অস্ত্র নিয়ে নির্ধারিত একটি স্থানে সবাই একত্রিত হন। সেখান থেকে পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা ঘটনাস্থলে যান। হামলার কারণ হিসেবে পুলিশের তদন্তে জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে।
“আসলাম খান ও তার সহযোগীদের কেনা একটি জমি দীর্ঘদিন ধরে জলিল মণ্ডলের দখলে ছিল। এ নিয়ে দীর্ঘদিন মামলা চলার পর আদালতের রায় পান আসলাম খান। গত ১৭ অগাস্ট ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জলিল মণ্ডলকে উচ্ছেদ করে আসলাম খানকে ওই জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের ধারণা, জমির দখল হারানোর ক্ষোভ থেকেই আসলাম খানকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।”
হামলার ঘটনায় কদমতলী থানায় মামলা হয়। গ্রেপ্তার ৫ জনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে তথ্য দিয়ে পুলিশ বলছে, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো কোথা থেকে এসেছে, কার মাধ্যমে সেগুলো হামলাকারীদের কাছে পৌঁছেছে এবং এর নেপথ্যে আর কারা ছিল, এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।